ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভূমিদস্যু বিএনপি নেতা গুলজার হোসেনের বাবুল ওমর বাবুর ছত্রছায়ায় ইফতার পার্টি

সোনারগাঁ প্রতিনিধি
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
  • আপলোড সময় : ১১:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪
  • / ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় বিএনপির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে গোলযোগ বিশৃঙ্খলার আশংঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। আগামী বৃহস্পতিবার জামপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে বস্তল এলাকার আওয়ামী লীগ ঘেষা বিএনপি নেতা গোলাজার হোসেন প্রধানের বাড়িতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কারনে এ হট্টগোল হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।
জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের ফলে মামলা মোকদ্দমায় নিয়মিতভাবে আদালত পাড়ায় হাজিরা দিতে হচ্ছে। বস্তল এলাকার গোলজার হোসেন প্রধান ১৮ মামলার আসামী হয়েও বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দহরমহর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার গোলজার প্রধানের বাড়িতে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মেম্বারসহ থানা বিএনপির গুরুত্বপূর্ন নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের দাবি, গোলজার হোসেন প্রধান একজন ভূমিদস্যু। নিরীহ মানুষের জমি দখল করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে মোটা অংকের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। ভূমিদস্যুতার টাকার জোরে বর্তমানে প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবিয়ে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। গত সংসদ নির্বাচনের বিএনপি অংশ না নিলেও তিনি বর্তমান সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সারের পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন।
নেতাকর্মীরা আরো জানান, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাঁচপুরের ত্রাস বাবুল ওমর বাবুর পক্ষে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়ে সমালোচিত হয়েছেন গোলজার হোসেন প্রধান। আওয়ামী লীগ ঘেষা বিএনপি নেতার বাড়িতে ইফতার মাহফিল হলে সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাঙ্গামা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত গোলজার হোসেন প্রধানের বাড়ি থেকে ইফতার মাহফিল সরিয়ে নেওয়ার জন্য নেতাকর্মীরা দাবি জানিছেন। নেতাকর্মীরা বলেন, গোলজার হোসেন প্রধানের নিজস্ব বাহিনী রয়েছে। গোলজারের নেতৃত্বে বস্তল এলাকার মামুন, মহজমপুর গ্রামের সুমন ওরফে নান্টুর নেতৃতে ১০-১২টি মোটল সাইকেল মহড়া দিয়ে জামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আতংকিত করে তোলে। তারা জাল দলিলের মাধ্যমে জমি জমা দখলদারিত্ব ও নিরীহ মানুষদের হামলা করে থাকে।
গোলজার হোসেন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক সংঠনের সঙ্গে তিনি জড়িত। সকল দলের লোকজন তার কাছে যেতে পারে। তাছাড়া গোলজার হোসেন নিজেকে বিএনপির ত্যাগী ও পরক্ষিত কর্মী হিসেবে দাবি করেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিলে হট্টগোলের আশংঙ্কার বিষয়টি আমার জানা নেই। বস্তল এলাকায় এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান পিপিএম বলেন, বিএনপির ইফতার মাহফিলে কোন রকম হাঙ্গামা বা বিশৃঙ্খলা হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, বিএনপির ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ইফতার ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের জন্য চিঠি দিয়েছিল। তাদের শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভূমিদস্যু বিএনপি নেতা গুলজার হোসেনের বাবুল ওমর বাবুর ছত্রছায়ায় ইফতার পার্টি

আপলোড সময় : ১১:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের বস্তল এলাকায় বিএনপির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে গোলযোগ বিশৃঙ্খলার আশংঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। আগামী বৃহস্পতিবার জামপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে বস্তল এলাকার আওয়ামী লীগ ঘেষা বিএনপি নেতা গোলাজার হোসেন প্রধানের বাড়িতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কারনে এ হট্টগোল হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।
জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের ফলে মামলা মোকদ্দমায় নিয়মিতভাবে আদালত পাড়ায় হাজিরা দিতে হচ্ছে। বস্তল এলাকার গোলজার হোসেন প্রধান ১৮ মামলার আসামী হয়েও বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দহরমহর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার গোলজার প্রধানের বাড়িতে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মেম্বারসহ থানা বিএনপির গুরুত্বপূর্ন নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের দাবি, গোলজার হোসেন প্রধান একজন ভূমিদস্যু। নিরীহ মানুষের জমি দখল করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে মোটা অংকের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। ভূমিদস্যুতার টাকার জোরে বর্তমানে প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবিয়ে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। গত সংসদ নির্বাচনের বিএনপি অংশ না নিলেও তিনি বর্তমান সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সারের পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন।
নেতাকর্মীরা আরো জানান, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাঁচপুরের ত্রাস বাবুল ওমর বাবুর পক্ষে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়ে সমালোচিত হয়েছেন গোলজার হোসেন প্রধান। আওয়ামী লীগ ঘেষা বিএনপি নেতার বাড়িতে ইফতার মাহফিল হলে সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাঙ্গামা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত গোলজার হোসেন প্রধানের বাড়ি থেকে ইফতার মাহফিল সরিয়ে নেওয়ার জন্য নেতাকর্মীরা দাবি জানিছেন। নেতাকর্মীরা বলেন, গোলজার হোসেন প্রধানের নিজস্ব বাহিনী রয়েছে। গোলজারের নেতৃত্বে বস্তল এলাকার মামুন, মহজমপুর গ্রামের সুমন ওরফে নান্টুর নেতৃতে ১০-১২টি মোটল সাইকেল মহড়া দিয়ে জামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আতংকিত করে তোলে। তারা জাল দলিলের মাধ্যমে জমি জমা দখলদারিত্ব ও নিরীহ মানুষদের হামলা করে থাকে।
গোলজার হোসেন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক সংঠনের সঙ্গে তিনি জড়িত। সকল দলের লোকজন তার কাছে যেতে পারে। তাছাড়া গোলজার হোসেন নিজেকে বিএনপির ত্যাগী ও পরক্ষিত কর্মী হিসেবে দাবি করেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিলে হট্টগোলের আশংঙ্কার বিষয়টি আমার জানা নেই। বস্তল এলাকায় এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান পিপিএম বলেন, বিএনপির ইফতার মাহফিলে কোন রকম হাঙ্গামা বা বিশৃঙ্খলা হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, বিএনপির ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ইফতার ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের জন্য চিঠি দিয়েছিল। তাদের শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন