ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুক জ্বালাপোড়া সচেতনতা সপ্তাহ পালন করলো গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল

রাকিবুল হাসান রাকিব (ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)
রাকিবুল হাসান রাকিব (ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)
  • আপলোড সময় : ১১:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৭ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে উদযাপিত হলো “বুক জ্বালাপোড়া সচেতনতা সপ্তাহ”। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে সাধারণ জনগণ, রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) ও বুক জ্বালা–পোড়ার কারণ, প্রতিরোধ এবং আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর আলোকপাত করা হয়।

জাকজমকপূর্ণ র‍্যালী এবং শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে বুক জ্বালা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হলেও অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসা নেন, ফলে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে GERD সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. এম. এম. মোশফিকুর রশিদ প্রতিবেদককে জানান, 

“প্রতিষ্ঠালগ্নের পর থেকে সফলতার সাথে বিগত বছরগুলো গ্যাস্ট্রিক সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দিয়ে আসছে অত্র হাসপাতাল৷ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা, অন্তর্জাতিক মানের গবেষণাধর্মী কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক যাবতীয় কর্মকাণ্ড চালু রাখতে পরিচালক স্যারের নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতালের প্রতিটা ইউনিট।”

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বুক জ্বালাপোড়া সংক্রান্ত সচেতনতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক একটি গ্রামীণ জনসংখ্যার জরিপে, মোট ৩,৫৫৯ জনকে door-to-door প্রশ্নপত্রে (validated questionnaire) দেখা হয়েছিল; এর মধ্যে ২৫.৮% (৮৬৩ জন)-এ heartburn (বুক জ্বালা/জ্বালাপোড়া) পাওয়া গিয়েছে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় (তরুণদের মধ্যে) দেখায়, ১৬–৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে Gastroesophageal Reflux Disease (GERD)-র প্রাদুর্ভাব ৫৫.৭%। এর মধ্যে দেখা গেছে প্রায় ৪২.৫% মানুষ Omeprazole গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করে। 

আতংকজনকভাবে সত্য এই ৪২.৫% এর মধ্যে ৫২.৬% মানুষ কোনোরকম বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়াই এই ওষুধগুলো ব্যবহার করছে।

র‍্যালী শেষে জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হয় এক আলোচনা সভা। আলোচনায় অংশ নেন অত্র হাসপাতালের বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসক ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বুক জ্বালাপোড়া সংক্রান্ত অত্যাধুনিক চিকিৎসা অর্থাৎ “Endoscopic Management of GERD” নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনায় বক্তারা সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, ওষুধের পাশাপাশি lifestyle modification, খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান/মদ্যপান পরিহার ইত্যাদির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বুক জ্বালাপোড়া সচেতনতা সপ্তাহ পালন করলো গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল

আপলোড সময় : ১১:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে উদযাপিত হলো “বুক জ্বালাপোড়া সচেতনতা সপ্তাহ”। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে সাধারণ জনগণ, রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) ও বুক জ্বালা–পোড়ার কারণ, প্রতিরোধ এবং আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর আলোকপাত করা হয়।

জাকজমকপূর্ণ র‍্যালী এবং শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে বুক জ্বালা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হলেও অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসা নেন, ফলে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে GERD সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. এম. এম. মোশফিকুর রশিদ প্রতিবেদককে জানান, 

“প্রতিষ্ঠালগ্নের পর থেকে সফলতার সাথে বিগত বছরগুলো গ্যাস্ট্রিক সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দিয়ে আসছে অত্র হাসপাতাল৷ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা, অন্তর্জাতিক মানের গবেষণাধর্মী কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক যাবতীয় কর্মকাণ্ড চালু রাখতে পরিচালক স্যারের নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতালের প্রতিটা ইউনিট।”

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বুক জ্বালাপোড়া সংক্রান্ত সচেতনতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক একটি গ্রামীণ জনসংখ্যার জরিপে, মোট ৩,৫৫৯ জনকে door-to-door প্রশ্নপত্রে (validated questionnaire) দেখা হয়েছিল; এর মধ্যে ২৫.৮% (৮৬৩ জন)-এ heartburn (বুক জ্বালা/জ্বালাপোড়া) পাওয়া গিয়েছে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় (তরুণদের মধ্যে) দেখায়, ১৬–৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে Gastroesophageal Reflux Disease (GERD)-র প্রাদুর্ভাব ৫৫.৭%। এর মধ্যে দেখা গেছে প্রায় ৪২.৫% মানুষ Omeprazole গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করে। 

আতংকজনকভাবে সত্য এই ৪২.৫% এর মধ্যে ৫২.৬% মানুষ কোনোরকম বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়াই এই ওষুধগুলো ব্যবহার করছে।

র‍্যালী শেষে জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হয় এক আলোচনা সভা। আলোচনায় অংশ নেন অত্র হাসপাতালের বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসক ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বুক জ্বালাপোড়া সংক্রান্ত অত্যাধুনিক চিকিৎসা অর্থাৎ “Endoscopic Management of GERD” নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনায় বক্তারা সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, ওষুধের পাশাপাশি lifestyle modification, খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান/মদ্যপান পরিহার ইত্যাদির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন