ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুড়িগঙ্গা বাঁচিয়ে আধুনিক কেরানীগঞ্জ গড়ার অঙ্গীকার, ইশতেহারে ডিজিটাল সেবা ও মাদকমুক্ত সমাজের প্রতিশ্রুতি

মো: শাহিন (নিজস্ব প্রতিবেদক)
মো: শাহিন (নিজস্ব প্রতিবেদক)
  • আপলোড সময় : ১০:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা–৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. শাহিনুর ইসলাম চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জনতার ইশতেহার: আধুনিক কেরানীগঞ্জ রূপকল্প ২০২৬–৩১ শিরোনামে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই রূপকল্পসহ ছয় দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় দখলমুক্ত করা হবে। নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভূমি অফিস সংস্কারের মাধ্যমে দখলদারত্ব ও হয়রানি বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াত প্রার্থী।

তিনি আরও জানান, বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে আধুনিক সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে এবং জাজিরা সেতুর সঙ্গে কেরানীগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল করা হবে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জকে পরিকল্পিত ও উন্নত নগরীতে রূপান্তর করাই এই রূপকল্পের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, আগামী তিন বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম না বাড়িয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পানগাঁও ও জিনজিরা এলাকাকে ঘিরে আধুনিক শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ‘নকল জিনজিরা’ নামে পরিচিতির অবসান ঘটিয়ে একটি বৈধ ও পরিকল্পিত শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইশতেহারে শিক্ষা খাতে সরকারি হাইস্কুল ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য খাতে আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন, বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে সহজ শর্তে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের খেলার মাঠ উন্নয়ন, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশান উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। কেরানীগঞ্জকে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতেই এই রূপকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বুড়িগঙ্গা বাঁচিয়ে আধুনিক কেরানীগঞ্জ গড়ার অঙ্গীকার, ইশতেহারে ডিজিটাল সেবা ও মাদকমুক্ত সমাজের প্রতিশ্রুতি

আপলোড সময় : ১০:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা–৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. শাহিনুর ইসলাম চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জনতার ইশতেহার: আধুনিক কেরানীগঞ্জ রূপকল্প ২০২৬–৩১ শিরোনামে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই রূপকল্পসহ ছয় দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় দখলমুক্ত করা হবে। নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভূমি অফিস সংস্কারের মাধ্যমে দখলদারত্ব ও হয়রানি বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াত প্রার্থী।

তিনি আরও জানান, বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে আধুনিক সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে এবং জাজিরা সেতুর সঙ্গে কেরানীগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল করা হবে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জকে পরিকল্পিত ও উন্নত নগরীতে রূপান্তর করাই এই রূপকল্পের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, আগামী তিন বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম না বাড়িয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পানগাঁও ও জিনজিরা এলাকাকে ঘিরে আধুনিক শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ‘নকল জিনজিরা’ নামে পরিচিতির অবসান ঘটিয়ে একটি বৈধ ও পরিকল্পিত শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইশতেহারে শিক্ষা খাতে সরকারি হাইস্কুল ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য খাতে আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন, বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে সহজ শর্তে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের খেলার মাঠ উন্নয়ন, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশান উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। কেরানীগঞ্জকে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতেই এই রূপকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন