শিক্ষকদের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত ৩৫ বা ৪০ বছরের বয়সসীমা প্রত্যাহার করে বয়সসীমা উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল। তাদের মতে, বয়সের কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার কারণে বহু যোগ্য, মেধাবী ও অভিজ্ঞ প্রার্থী শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
তারা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত ও শিক্ষাবান্ধব বহু দেশে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়স নয়, বরং যোগ্যতা, দক্ষতা ও সক্ষমতাকে মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে Age Discrimination in Employment Act (ADEA), 1967 অনুযায়ী কর্মসংস্থানে বয়সভিত্তিক বৈষম্য আইনত নিষিদ্ধ।
একইভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে Equal Treatment in Employment and Occupation Directive (2000/78/EC) কার্যকর রয়েছে, যা সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে নিয়োগ ও চাকরির ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে বাধ্য করে।
এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ায় Age Discrimination Act, 2004–এর মাধ্যমে চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডসহ বহু দেশে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)–এর নীতিমালার আলোকে চাকরিতে বয়সের কারণে বৈষম্য নিরুৎসাহিত করা হয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, আমাদের দেশেও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষকদের নিয়োগে বয়সসীমা উন্মুক্ত রেখে মূলত যোগ্যতা ও একাডেমিক দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যা ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে। একই নীতি সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হলে শিক্ষা মানের উন্নয়ন, গবেষণার অগ্রগতি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শিক্ষকদের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত বয়সসীমা পুনর্বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। এতে করে বয়স নির্বিশেষে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে পারবেন এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাও উপকৃত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।