ওমান প্রবাসীর স্ত্রীকে কেন্দ্র করে বিরোধ, শেষ হলো খুনে
- আপলোড সময় : ১০:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / ২২৬ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাচাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিককে (৩৫) বসতবাড়ির সিঁড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচাতো ভাই ইয়াসিন আরাফাত সুজন ও তার শ্যালক রাহাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাহাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
নিহত আবু বকর সিদ্দিক উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াজপুর গ্রামের চাপরাশি বাড়ির মৃত হাজি আমিন উল্লাহর ছেলে।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গংগাহারী এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. রাহাতকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই এলাকার চিত্তনী বাড়ির মো. সোলোমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সিদ্দিক ঢাকার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বড় ভাইয়ের খাবারের দোকানে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। গত ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বসতঘরের সিঁড়িতে বসে মোবাইল ফোন দেখছিলেন তিনি। এ সময় পূর্ব শত্রুতা ও ওমান প্রবাসী সুজনের স্ত্রীকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সুজন ও তার শ্যালক রাহাতসহ ৪-৫ জনের একটি দল তাকে সিঁড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
পরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে মুখে গামছা পেঁচিয়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সিদ্দিককে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ২৭ এপ্রিল বেগমগঞ্জ থানায় ইয়াসিন আরাফাত সুজন ও রাহাতের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন আরাফাত সুজন সিদ্দিকের মৃত্যুর পরপরই বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
র্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর মহানগরীর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”















