ডেমরায় মহান মে দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালী ও বিশাল সমাবেশ
- আপলোড সময় : ১০:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / ২০৫ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ডেমরায় মহান মে দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালী ও বিশাল সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের (রেজি নং-বি-২২০৯) ডেমরা থানা কমিটি। শুক্রবার (১মে) ডেমরার স্টাফ কোয়াটার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এসব কর্মসূচি শুরু হয়। পরে একটি বিশাল র্যালী সারুলিয়া আলেপ খান ফাউন্ডেশন মার্কেট থেকে শুরু করে রাণীমহল, মাদরাসা রোড, ব্যাংক কলোনি, তালেব আলী রোড, আমতলা, বড় ভাংঙ্গা, হাজীনগর, বামৈল প্রদক্ষিণ করে স্টাফ কোয়াটার গিয়ে শেষ হয়। এদিন বেলা ১১ টার সংগঠনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন ডেমরা থানা কমিটির সভাপতি মো. ইউনুছ হাওলাদার। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. কাইয়ুমের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডেমরা থানা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. আনিসুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের ডেমরা থানার কমিটির নেতা সদস্য ও শত শত শ্রমিকরা।
সংগঠনের সভাপতি মো. ইউনুস হাওলাদার বক্তব্যে বলেন, বিগত ২০১৬ সাল পর্যন্ত আমরা নির্মাণ শ্রমিক অধিকার আদায় নিয়ে কাজ করেছি। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ১২ দফা দাবি করি। আমরা বাংলাদেশের নির্মাণ কাজ করে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি। এক্ষেত্রে বহুতল ভবন, অফিস-আদালত, বাসস্থান, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ ইত্যাদি রং, গ্রীল, টাইলস, সেনেটারী, দরজা-জানালা, থাইসহ বিভিন্ন প্রকার নির্মাণ কাজ করে থাকি। কাগজে-কলমে আমরা ৩৫ লক্ষ পরিবার। আর বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে আমরা সরকারি ভাবে আমরা কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পাই না। এ সময় নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবি জানিয়ে তিনি বলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালের শ্রমিক আইন অনুযায়ী কোনো শ্রমিক কর্মস্থলে আহত বা নিহত হলে ২ লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছিলেন। এখন কোনো শ্রমিক কর্মস্থলে আহত বা নিহত হলে, তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১০-১৫ লক্ষ টাকা ধার্য করতে হবে। বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে, নদী ভাঙ্গা দূর্যোগে শ্রমিকদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে ,প্রত্যেক শ্রমিকদের জন্য পেনশন স্কিম চালু করতে হবে, রেশন ব্যবস্থায় প্রতি শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, শতকরা ৩০% কাজের মজুরী বাড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন- সরকারি শ্রমিকদের সাধারন ছুটি ১৬৫ দিন, প্রাইভেট কোম্পানির শ্রমিকের সাধারন ছুটি ১০৪ দিন, এখানে সরকারি ও বেসরকারি দুই শ্রমিকই বছরে ২টি বোনাস পায়। আমরা নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কোনো সাধারন ছুটি পাইনা। তাই আমাদের বছরে ৫২ দিনের সাধারন ছুটির ব্যবস্থা করা হোক। দূর্ঘটনার শিকার হলে আমাদের ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি শ্রমিকের নির্মাণ কর্মস্থলে সেফটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসী নির্মাণ শ্রমিকদের বিদেশে যাতায়াত ব্যবস্থায় স্বল্প পরিমান খরচ নির্ধারন করতে হবে। প্রবাসী শ্রমিক যারা কর্মস্থলে নির্যাতিত হচ্ছে তাদের সহযোগিতা দিয়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে
হবে। আর প্রতি খাতের শ্রমিকদের মতো, নির্মাণ শ্রমিকদের জন্যও বাজেট তৈরি করে শিল্প খাতে বাংলাদেশে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশেরে নাম যুক্ত করতে হবে। বর্তমান যোগ্য মূল্য বাজার হিসাবে সাধারণ একজন শ্রমিকের নূন্যতম ১০০০ (এক হাজার) টাকা এবং একজন লেবার পারিশ্রমিক হওয়া উচিত নূন্যতম ৮০০ (আটশত) টাকা।















