ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ওরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের সক্রিয় সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোড সময় : ১১:১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩
  • / ৩১২ বার পড়া হয়েছে

ওরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের সক্রিয় সদস্য। তারা অপহরণ সহ চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করিয়া জিবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়াও তারা অপরাপর সহযোগীদের সহায়তায় মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায় সহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ড করে আসছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় একটি অপহরণ মামলা হওয়ার পর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নুর হোসেন চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই শ্রমিকলীগ নেতা পরিবহন চাঁদাবাজ দেলোয়ার হোসেন ওরফে ভাগিনা দেলুর বিরুদ্ধে বেড়িয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত মাসের ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী (১নং) আদালতে একটি অপহরণ মামলায় দেলোয়ার আত্মসমর্পন করে আদালতে যাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেন নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ন-সম্পাদক ও শিমরাইল শাখার সভাপতি। আলোচিত সাতখুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী নুর হোসেনের চাচাতো ভাই দেলোয়ার সিদ্ধিরগঞ্জের এক প্রভাবশালী মামার ভাগিনা বলেও সুপরিচিত। তার বিরুদ্ধে শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ডসহ পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক চঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনের জমি সংক্রান্ত প্রাপ্ত টাকা দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৮ আগষ্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় মামলার এজাহার নামীয় আসামীরাসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের একটি বাহিনী নিয়ে সোনারগাঁও থানাধীন শুকরদী এলাকাস্থ পাঁচ পীরের দরগাহ মসজিদের সামনে থেকে মো: বকুল আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ীকে খয়েরি রংয়ের একটি প্রাইভেটকার যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দেলোয়ার হোসেন অপহৃতের স্ত্রী আরিফা বেগমকে ফোন করে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে।

 

এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ আগষ্ট বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় অপহৃতের স্ত্রী সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকাস্থ রহমান মার্কেটের পাশে মদিনা সিমেন্টের দোকানে আসামী দেলোয়ার হোসেনের সাথে দেখা করতে আসে। এসময় দেলোয়ার হোসেনের গোডাউনে বাদিনীর পুত্রবধু আরিফা বেগম তাঁর স্বামী বকুল আহমেদকে দেখে ডাক চিৎকার করে। এতে দেলোয়ার হোসেন সহ অপরাপর আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীকে আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে একটি দলিল ও একাধিক ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখে। বাদিনীর ছেলের স্ত্রী আরিফা বেগমের গ্রামীন ব্যাংকের একাউন্ট হইতে মুক্তিপন বাবদ নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৩ লাখ টাকার চেক সহ একাধিক ব্লাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর রাখে এবং দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বকুল আহমেদকে ২৯ দিন এবং তার স্ত্রী আরিফা বেগমকে ২১দিন আটকিয়ে রাখে।

এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার অপহৃত বকুলের মা খোরশেদা বেগম (৬৫) বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। সোনারগাঁও থানার মামলা নং-১১। এ মামলায় দেলোয়ার ৪ নম্বর আসামী।
মামলা দায়েরের পরের দিন ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকাস্থ শ্রমিকলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে অপহৃত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণের সময় ব্যবহৃত খয়েরি রংয়ের প্রাইভেট কারটি জব্ধ করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী মাহমুদুর রহমান রক্সি (৩২), সবুজ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আদালত তিনজনকে কারাগারে প্রেরণ করে। এ ঘটনার জের ধরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ৩টায় মামলার প্রধান আসামী মাহমুদুর রহমান রক্সির পালিত সন্ত্রাসী সাব্বির (২৬), শোভন (৩০), অনয় (২৮) ও রাজিব (৩৫) সোনারগায়ের শুকরদী এলাকাস্থ অপহৃত বকুল আহমেদের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে তার কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে রক্সির বিরুদ্ধে দায়ের কৃত মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে।

 

এ ঘটনায় পরের দিন ১৮ সেপ্টেম্বর বকুল আহমেদ বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। জিডি নং-৮৮৯। একই দিন বকুল আহমেদ পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত মাসের ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী (১নং) আদালতে দেলোয়ার আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। মামলার অপর দুই আসামী শাহজাহান (৪৪) ও মানিক (৪৫) পলাতক রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করছে

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ওরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের সক্রিয় সদস্য

আপলোড সময় : ১১:১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

ওরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের সক্রিয় সদস্য। তারা অপহরণ সহ চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করিয়া জিবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়াও তারা অপরাপর সহযোগীদের সহায়তায় মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায় সহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ড করে আসছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় একটি অপহরণ মামলা হওয়ার পর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নুর হোসেন চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই শ্রমিকলীগ নেতা পরিবহন চাঁদাবাজ দেলোয়ার হোসেন ওরফে ভাগিনা দেলুর বিরুদ্ধে বেড়িয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত মাসের ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী (১নং) আদালতে একটি অপহরণ মামলায় দেলোয়ার আত্মসমর্পন করে আদালতে যাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেন নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ন-সম্পাদক ও শিমরাইল শাখার সভাপতি। আলোচিত সাতখুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী নুর হোসেনের চাচাতো ভাই দেলোয়ার সিদ্ধিরগঞ্জের এক প্রভাবশালী মামার ভাগিনা বলেও সুপরিচিত। তার বিরুদ্ধে শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ডসহ পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক চঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনের জমি সংক্রান্ত প্রাপ্ত টাকা দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৮ আগষ্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় মামলার এজাহার নামীয় আসামীরাসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের একটি বাহিনী নিয়ে সোনারগাঁও থানাধীন শুকরদী এলাকাস্থ পাঁচ পীরের দরগাহ মসজিদের সামনে থেকে মো: বকুল আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ীকে খয়েরি রংয়ের একটি প্রাইভেটকার যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দেলোয়ার হোসেন অপহৃতের স্ত্রী আরিফা বেগমকে ফোন করে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে।

 

এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ আগষ্ট বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় অপহৃতের স্ত্রী সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকাস্থ রহমান মার্কেটের পাশে মদিনা সিমেন্টের দোকানে আসামী দেলোয়ার হোসেনের সাথে দেখা করতে আসে। এসময় দেলোয়ার হোসেনের গোডাউনে বাদিনীর পুত্রবধু আরিফা বেগম তাঁর স্বামী বকুল আহমেদকে দেখে ডাক চিৎকার করে। এতে দেলোয়ার হোসেন সহ অপরাপর আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীকে আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে একটি দলিল ও একাধিক ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখে। বাদিনীর ছেলের স্ত্রী আরিফা বেগমের গ্রামীন ব্যাংকের একাউন্ট হইতে মুক্তিপন বাবদ নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৩ লাখ টাকার চেক সহ একাধিক ব্লাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর রাখে এবং দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বকুল আহমেদকে ২৯ দিন এবং তার স্ত্রী আরিফা বেগমকে ২১দিন আটকিয়ে রাখে।

এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার অপহৃত বকুলের মা খোরশেদা বেগম (৬৫) বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। সোনারগাঁও থানার মামলা নং-১১। এ মামলায় দেলোয়ার ৪ নম্বর আসামী।
মামলা দায়েরের পরের দিন ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকাস্থ শ্রমিকলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে অপহৃত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণের সময় ব্যবহৃত খয়েরি রংয়ের প্রাইভেট কারটি জব্ধ করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী মাহমুদুর রহমান রক্সি (৩২), সবুজ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আদালত তিনজনকে কারাগারে প্রেরণ করে। এ ঘটনার জের ধরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ৩টায় মামলার প্রধান আসামী মাহমুদুর রহমান রক্সির পালিত সন্ত্রাসী সাব্বির (২৬), শোভন (৩০), অনয় (২৮) ও রাজিব (৩৫) সোনারগায়ের শুকরদী এলাকাস্থ অপহৃত বকুল আহমেদের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে তার কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে রক্সির বিরুদ্ধে দায়ের কৃত মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে।

 

এ ঘটনায় পরের দিন ১৮ সেপ্টেম্বর বকুল আহমেদ বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। জিডি নং-৮৮৯। একই দিন বকুল আহমেদ পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত মাসের ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী (১নং) আদালতে দেলোয়ার আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। মামলার অপর দুই আসামী শাহজাহান (৪৪) ও মানিক (৪৫) পলাতক রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করছে

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন