ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সেনবাগের বিশেষ ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মোহাম্মদ একরামুল হক অন্যতম

মোহাম্মদ আবু নাছের (জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী)
মোহাম্মদ আবু নাছের (জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী)
  • আপলোড সময় : ১২:৫১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৩৭৫ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ একরামুল হক। তিনি ১৯৭০ সালের ২ জানুয়ারী সেনবাগ উপজেলার ৮নং বীজবাগ ইউনিয়নের শ্যামের গাঁও গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম “মিয়া পরিবার”-এ জম্মগ্রহণ করেন। পিতা- মরহুম আবদুল খালেক ও মাতা- হালিমা খাতুন।

শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি গ্রামের নবীপুর সরকরী প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিনি ১৯৮৫ সালে পার্শ্ববর্তী দাগনভূঁইয়া উপজেলার দুধমুখা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি ফেনী সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ, ১৯৯৪ এলএলবি, ১৯৯৬ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বর সাথে এমএ পাশ করেন।

অতঃপর ২০০০ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে সিনিয়র ট্রেড ট্রেনিং এবং ম্যানেজমেন্ট কোর্স অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন।

খুব অল্প বযসে তিনি দেশ মাতৃকার সেবায় ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। একই সাথে তিনি চালিয়ে যান পড়ালেখা ও গবেষণা।

২০০৫ সালে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

২০০৭ সালে যোগদান করেন আইন পেশায়। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন মানবিক আইনজীবী ও সাংবাদিক হিসেবে অদ্যাবধি তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শ্রমজীবি, পেশাজীবি, ব্যবসায়িক, মিডিয়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সম্পাদকীয়, চেয়ারম্যান, পরিচালক, প্রতিষ্ঠাতা, পৃষ্ঠপোষক ও আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত আছেন। সেনবাগের এই আইনজীবি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সহ উক্ত প্রতিষ্ঠান/ সংস্থা থেকে ‘সংসদীয় নির্বাচন পদক’, ‘স্বাধীনতা রজত জয়ন্তী পদক’, ‘জ্যেষ্ঠতা পদক-১’, সাংস্কৃতিক, সমাজসেবা, ‘মানবাধিকার রক্ষক’- এর মতো আরো অনেক বিরল সম্মানে ভূষিত হন।

তিনি অভ্যাসমত কাক ডাকা ভোরে বিছানা ছেড়ে নামাজ পড়া, নামাজ শেষে প্রাতঃভ্রমণ, প্রাতঃভ্রমণ শেষে বাসায় ফিরতে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন, অনেক অভিভাবক তাকে চিনেন। পরোপকারী হিসেবে তাইতো আবদার ‘ভাই আপনি বললে আমার ভীষণ উপকার হবে’। কেউ কেউ আর্থিক সমস্যার কথাও বলেন, যা তখনই পূরণ হয়, দিনে একাধিক মানুষের নানামুখী সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকেন। এসব করতে গিয়ে কখনো বিরক্তবোধ করেন না বরং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তিনি হলেন আইনজীবি ও সাংবাদিক একরাম।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দিবাগত রাত জাতির পিতা স্ব পরিবারে ঘাতকদের হাতে মৃত্যুবরণ করার পর ইতিহাসের পাতা দ্রুত উল্টো দিকে ঘুরতে থাকে। স্বৈরাচারী সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান এক পর্যায়ে নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র্রপতি ঘোষণা করে। এরপর জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে এরশাদ শাহী। উক্ত জিয়া ও এরশাদ শাহী বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে একরাম বহু হামলা-মামলার সম্মুখীন হন ও বহুবার কারাবরণ করেন।

ছাত্র জীবনে তিনি দুধমুখা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল শাখা বাংলাদেশ ছাত্র লীগ (মুজিববাদী)-এর সভাপতি ছিলেন। অতঃপর ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ, দাগনভূইয়া, ফেনীর বাংলাদেশ ছাত্র লীগ (মুজিববাদী)- এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন (১৯৮৫-৮৬)। পরবর্তীতে তিনি উক্ত কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন (১৯৮৬-৮৭)। তখন তিনি মেধাবী ছাত্র ও ছাত্র নেতা হিসেবে এলাকায় সুখ্যাত। বলিষ্ঠ সংগঠক ও মেধার গুণে অল্প সময়ে ছাত্রনেতার আসন অলংকৃত করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৮৫ সালে ফেনী জেলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের সাথে ওতপোরতভাবে জড়িত ছিলেন। বলা বাহুল্য তখন ছিল আওয়ামী লীগের খুব দুর্দিন। সারাদেশে কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রায় সবখানে জাতীয় পাটি ও জাসদ জোর ও প্রভাব খাটাত।

ছাত্রত্ব শেষ হলে মননে-মেধায় লালিত আদর্শ আওয়ামী রাজনীতিতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোট (আসাজো) -এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্বে আছেন। পেশায় আইনজীবি ও সাংবাদিক হলেও যে আদর্শ তিনি লালন করেন তার দায়িত্ব থেকে নিজেকে বিন্দু মাত্রও অপসারিত করেননি। লোভ লালসার ডালি প্রতিনিয়ত হাতছানি দিলেও তিনি নিজ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। আদর্শ বিচ্যুতিকে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘৃণা করেন।

পেশা এবং রাজনীতির সমান্তরালে তিনি উপরোক্ত প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও সংগঠনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত আছেন। কর্মদক্ষতা ও সুসংগঠক হিসেবে একরাম অল্প সময়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সেন্টার ফর ডেমোকেেসি এন্ড গভারন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, হিইম্যান রাইট & ইন্টান্যাশনাল প্রেস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, দি লাইফ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সিনি: ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের জতীয় শ্রমিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা আইন সম্পাদক, সেনবাগ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স রিটায়ার্ড এয়ারমেনস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বৃহত্তর নোয়াখালী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আইন সম্পাদক, দি লাইফ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস রিটায়ার্ড এডভান্টেজ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

এছাড়াও তিনি নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলন জাতীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সাধনার আপোষহীন এ কর্মবীর লেখনীর মাধ্যমে জাতীয় মিডিয়ায এর গুরুত্ব যুক্তি ও তথ্য সহকারে তুলে ধরেছেন। যা সুধী মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে শিল্প বিকাশের বিকল্প নেই। যে দেশ যত বেশী উন্নত সে দেশ শিল্প বিকাশে তত বেশী সমৃদ্ধশালী, দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি শিল্পের বিকাশ। এ চিন্তা ধারা থেকে তিনি বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত আছেন।‘শিল্প বিকাশের অন্তরায় ও সম্ভাবনা’ বিষয়ে প্রায়ই সেমিনারের আয়োজন করে থাকে। এসব সেমিনার- সিম্পোজিয়ামে দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীরা মূল্যবান প্রবন্ধ ও বক্তব্য প্রদান করে থাকেন। যা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে থাকে। এ সব কর্মসূচীর প্রধান অনুঘটক হিসেবে একরাম দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যার ফলে বুদ্ধিজীবী মহলসহ সরকারের অনেক ডাকসাইটে মন্ত্রী ও আমলার নিকট তিনি সমাধৃত।

নির্বাচিত জন প্রতিনিধি না হয়েও তিনি এলাকাবাসীর সুখে-দুখে সর্বদা সাড়া দিয়ে থাকেন এবং সমস্যা সমাধানে আন্তরিক এ তথ্যও এলাকাবাসী সূত্রের। এক কথায় তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন পরোপকারী ও সেবাপরায়ণ ব্যক্তিত্ব যা এ প্রতিবেদনের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায় জীবনের প্রয়োজনে ও দেশ মতৃকার সেবায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে তিনি যোগদান করেন। এ সময় তিনি নিজ চকুরীকালীন সময়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করেন। বিশেষ করে নিজ এলাকা (বৃহত্তর নোয়াখালী)-এর বহু লোকের নানাভাবে সাহায্য- সহযোগিতা করেন। অনেক অসহায় লোককে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী হতে অবসর গ্রহন করার পর অবসরপ্রাপ্তদের আইনী সহায়তা, উন্নয়ন ও কল্যাণের নিমিত্তে উপরোক্ত সোসাইটি তিনি গঠন করেন। একরামের চেষ্টায় পুনর্বাসিত লোকেরা দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে নিজেদের যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য একরামের উপর এখনও নির্ভর করে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

নিঃস্বার্থ এ রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী আইন ও সাংবাদিকতা পেশার কারণে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করলেও নিজ এলাকার যে কোন সমস্যায় অকৃপণভাবে সাড়া দিয়ে থাকেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সেনবাগের বিশেষ ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মোহাম্মদ একরামুল হক অন্যতম

আপলোড সময় : ১২:৫১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৩

মোহাম্মদ একরামুল হক। তিনি ১৯৭০ সালের ২ জানুয়ারী সেনবাগ উপজেলার ৮নং বীজবাগ ইউনিয়নের শ্যামের গাঁও গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম “মিয়া পরিবার”-এ জম্মগ্রহণ করেন। পিতা- মরহুম আবদুল খালেক ও মাতা- হালিমা খাতুন।

শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি গ্রামের নবীপুর সরকরী প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিনি ১৯৮৫ সালে পার্শ্ববর্তী দাগনভূঁইয়া উপজেলার দুধমুখা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি ফেনী সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ, ১৯৯৪ এলএলবি, ১৯৯৬ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বর সাথে এমএ পাশ করেন।

অতঃপর ২০০০ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে সিনিয়র ট্রেড ট্রেনিং এবং ম্যানেজমেন্ট কোর্স অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন।

খুব অল্প বযসে তিনি দেশ মাতৃকার সেবায় ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। একই সাথে তিনি চালিয়ে যান পড়ালেখা ও গবেষণা।

২০০৫ সালে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

২০০৭ সালে যোগদান করেন আইন পেশায়। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন মানবিক আইনজীবী ও সাংবাদিক হিসেবে অদ্যাবধি তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শ্রমজীবি, পেশাজীবি, ব্যবসায়িক, মিডিয়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সম্পাদকীয়, চেয়ারম্যান, পরিচালক, প্রতিষ্ঠাতা, পৃষ্ঠপোষক ও আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত আছেন। সেনবাগের এই আইনজীবি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সহ উক্ত প্রতিষ্ঠান/ সংস্থা থেকে ‘সংসদীয় নির্বাচন পদক’, ‘স্বাধীনতা রজত জয়ন্তী পদক’, ‘জ্যেষ্ঠতা পদক-১’, সাংস্কৃতিক, সমাজসেবা, ‘মানবাধিকার রক্ষক’- এর মতো আরো অনেক বিরল সম্মানে ভূষিত হন।

তিনি অভ্যাসমত কাক ডাকা ভোরে বিছানা ছেড়ে নামাজ পড়া, নামাজ শেষে প্রাতঃভ্রমণ, প্রাতঃভ্রমণ শেষে বাসায় ফিরতে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন, অনেক অভিভাবক তাকে চিনেন। পরোপকারী হিসেবে তাইতো আবদার ‘ভাই আপনি বললে আমার ভীষণ উপকার হবে’। কেউ কেউ আর্থিক সমস্যার কথাও বলেন, যা তখনই পূরণ হয়, দিনে একাধিক মানুষের নানামুখী সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকেন। এসব করতে গিয়ে কখনো বিরক্তবোধ করেন না বরং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তিনি হলেন আইনজীবি ও সাংবাদিক একরাম।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দিবাগত রাত জাতির পিতা স্ব পরিবারে ঘাতকদের হাতে মৃত্যুবরণ করার পর ইতিহাসের পাতা দ্রুত উল্টো দিকে ঘুরতে থাকে। স্বৈরাচারী সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান এক পর্যায়ে নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র্রপতি ঘোষণা করে। এরপর জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে এরশাদ শাহী। উক্ত জিয়া ও এরশাদ শাহী বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে একরাম বহু হামলা-মামলার সম্মুখীন হন ও বহুবার কারাবরণ করেন।

ছাত্র জীবনে তিনি দুধমুখা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল শাখা বাংলাদেশ ছাত্র লীগ (মুজিববাদী)-এর সভাপতি ছিলেন। অতঃপর ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ, দাগনভূইয়া, ফেনীর বাংলাদেশ ছাত্র লীগ (মুজিববাদী)- এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন (১৯৮৫-৮৬)। পরবর্তীতে তিনি উক্ত কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন (১৯৮৬-৮৭)। তখন তিনি মেধাবী ছাত্র ও ছাত্র নেতা হিসেবে এলাকায় সুখ্যাত। বলিষ্ঠ সংগঠক ও মেধার গুণে অল্প সময়ে ছাত্রনেতার আসন অলংকৃত করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৮৫ সালে ফেনী জেলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের সাথে ওতপোরতভাবে জড়িত ছিলেন। বলা বাহুল্য তখন ছিল আওয়ামী লীগের খুব দুর্দিন। সারাদেশে কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রায় সবখানে জাতীয় পাটি ও জাসদ জোর ও প্রভাব খাটাত।

ছাত্রত্ব শেষ হলে মননে-মেধায় লালিত আদর্শ আওয়ামী রাজনীতিতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোট (আসাজো) -এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্বে আছেন। পেশায় আইনজীবি ও সাংবাদিক হলেও যে আদর্শ তিনি লালন করেন তার দায়িত্ব থেকে নিজেকে বিন্দু মাত্রও অপসারিত করেননি। লোভ লালসার ডালি প্রতিনিয়ত হাতছানি দিলেও তিনি নিজ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। আদর্শ বিচ্যুতিকে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘৃণা করেন।

পেশা এবং রাজনীতির সমান্তরালে তিনি উপরোক্ত প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও সংগঠনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত আছেন। কর্মদক্ষতা ও সুসংগঠক হিসেবে একরাম অল্প সময়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সেন্টার ফর ডেমোকেেসি এন্ড গভারন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, হিইম্যান রাইট & ইন্টান্যাশনাল প্রেস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, দি লাইফ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সিনি: ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের জতীয় শ্রমিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা আইন সম্পাদক, সেনবাগ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স রিটায়ার্ড এয়ারমেনস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বৃহত্তর নোয়াখালী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আইন সম্পাদক, দি লাইফ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস রিটায়ার্ড এডভান্টেজ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

এছাড়াও তিনি নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলন জাতীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সাধনার আপোষহীন এ কর্মবীর লেখনীর মাধ্যমে জাতীয় মিডিয়ায এর গুরুত্ব যুক্তি ও তথ্য সহকারে তুলে ধরেছেন। যা সুধী মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে শিল্প বিকাশের বিকল্প নেই। যে দেশ যত বেশী উন্নত সে দেশ শিল্প বিকাশে তত বেশী সমৃদ্ধশালী, দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি শিল্পের বিকাশ। এ চিন্তা ধারা থেকে তিনি বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত আছেন।‘শিল্প বিকাশের অন্তরায় ও সম্ভাবনা’ বিষয়ে প্রায়ই সেমিনারের আয়োজন করে থাকে। এসব সেমিনার- সিম্পোজিয়ামে দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীরা মূল্যবান প্রবন্ধ ও বক্তব্য প্রদান করে থাকেন। যা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে থাকে। এ সব কর্মসূচীর প্রধান অনুঘটক হিসেবে একরাম দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যার ফলে বুদ্ধিজীবী মহলসহ সরকারের অনেক ডাকসাইটে মন্ত্রী ও আমলার নিকট তিনি সমাধৃত।

নির্বাচিত জন প্রতিনিধি না হয়েও তিনি এলাকাবাসীর সুখে-দুখে সর্বদা সাড়া দিয়ে থাকেন এবং সমস্যা সমাধানে আন্তরিক এ তথ্যও এলাকাবাসী সূত্রের। এক কথায় তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন পরোপকারী ও সেবাপরায়ণ ব্যক্তিত্ব যা এ প্রতিবেদনের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায় জীবনের প্রয়োজনে ও দেশ মতৃকার সেবায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে তিনি যোগদান করেন। এ সময় তিনি নিজ চকুরীকালীন সময়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করেন। বিশেষ করে নিজ এলাকা (বৃহত্তর নোয়াখালী)-এর বহু লোকের নানাভাবে সাহায্য- সহযোগিতা করেন। অনেক অসহায় লোককে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী হতে অবসর গ্রহন করার পর অবসরপ্রাপ্তদের আইনী সহায়তা, উন্নয়ন ও কল্যাণের নিমিত্তে উপরোক্ত সোসাইটি তিনি গঠন করেন। একরামের চেষ্টায় পুনর্বাসিত লোকেরা দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে নিজেদের যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য একরামের উপর এখনও নির্ভর করে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

নিঃস্বার্থ এ রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী আইন ও সাংবাদিকতা পেশার কারণে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করলেও নিজ এলাকার যে কোন সমস্যায় অকৃপণভাবে সাড়া দিয়ে থাকেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন