ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নৌকার ক্যাম্প পোড়ানোর দুঃসাহস কার : আইভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোড সময় : ০৯:০৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়ার দুঃসাহস কার- সেই প্রশ্ন তুলে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ‘এটা প্রশাসনের খতিয়ে দেখার দরকার। এখানে পরিবেশ পরিস্থিতি কারা খারাপ করতে চাচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে।’

শনিবার রূপগঞ্জে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র একথা বলেন। এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকায় নৌকার অস্থায়ী নির্বাচনি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূইয়ার অনুসারী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ ওরফে মোশা এতে জড়িত রয়েছেন। খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা সহ ৪২ মামলার আসামী মোশারফ এবারের নির্বাচনে শাহজাহানের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো সহ নৌকার বিরোধী অবস্থান গড়ে তুলছেন।

জানা গেছে, ক্যাম্প পোড়ানোর ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সহ থানায় লিখিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রূপগঞ্জ থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পরেনি পুলিশ।

 

এদিকে, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, ‘আমি একজন নৌকার কর্মী হিসেবে এই প্রশাসনের কাছে এই দাবি করছি যে, কে বা কারা নৌকার ক্যাম্প পুড়িয়েছে, তাদের যেন খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।’

ক্যাম্প পোড়ানোর কালচার বাজে জিনিস মন্তব্য করে বিস্মিত কণ্ঠে মেয়র বলেন, ‘তাও আবার নৌকার ক্যাম্প! যেখানে মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশের মধ্যে উন্নয়নের জোয়ার তুলেছে এবং নারায়ণগঞ্জেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে রূপগঞ্জে গাজী ভাই নিজ অর্থে বহু উন্নয়ন করেছেন। সরকার তো করেছেই, আবার গাজী ভাই এবং তার স্ত্রী পৌরসভার মেয়র হিসেবেও বহু উন্নয়ন করেছে। যারা উন্নয়ন করে মানুষের পাশে থাকে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে, সেখানে এই সময়ে এসে নৌকার ক্যাম্প পোড়ানো! এত বড় দুঃসাহস কার হলো। কেন করলো, এটা আমি মনে করি যে, এটা প্রশাসনের খতিয়ে দেখার দরকার আছে। এখানে পরিবেশ পরিস্থিতি কারা খারাপ করতে চাচ্ছে তা খুজে বের করা দরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন চাচ্ছে। আজকে নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে, কালকেই কিন্তু আমরা একজন আরেক জনকে দেখবো। সুতরাং সহিংসতা পরিহার করতে হবে। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দিবে।’

এদিকে, সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েও নির্বাচনকালিন সময়ে রূপগঞ্জে আসার ব্যাখায় মেয়র বলেন, ‘আসলে সংগত কারণেই আমি ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচনে নামতে পারছি না। তবে শুভকামণা করতেই পারি। আর এটা যেহেতু আমার ভাইয়ের বাড়ি, আমি তো আসতেই পারি। এজন্যই আসা।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোন প্রচারণার জন্য আসি নাই। গাজী ভাইয়ের স্ত্রী তারাব পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী শারীরিক ভাবে অসুস্থ। আমি তাকে দেখতে এসেছি। তার সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাছাড়া আমি এখানে পূর্বাচল থেকে প্রায় সময়ই আমরা সিটি করপোরেশনের জন্য গাছ কিনতে আসি। আমি গত চারদিন আগেও এখান থেকে প্রচুর গাঠ এবং ফুলের টব নিয়েছিলাম। আজকেও এসেছিলাম পূর্বাচলে, এখান দিয়ে যাওয়ার সময় ভাবলাম যে, ভাবির সাথে (হাসিনা গাজী) দেখা করে কুশল বিনিময় করে যাই। ভাই এবং ভাবিকে (মন্ত্রী গাজী ও তার স্ত্রী) সত্যিকার অর্থেই আমি আমার নিজের আপন ভাই এবং ভাবি মনে করি। এজন্যই আসা। আসার পর ভাবির সাথে দেখা হলেও ভাইয়ের সাথে দেখাই হলো না।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নৌকার ক্যাম্প পোড়ানোর দুঃসাহস কার : আইভী

আপলোড সময় : ০৯:০৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়ার দুঃসাহস কার- সেই প্রশ্ন তুলে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ‘এটা প্রশাসনের খতিয়ে দেখার দরকার। এখানে পরিবেশ পরিস্থিতি কারা খারাপ করতে চাচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে।’

শনিবার রূপগঞ্জে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র একথা বলেন। এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকায় নৌকার অস্থায়ী নির্বাচনি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূইয়ার অনুসারী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ ওরফে মোশা এতে জড়িত রয়েছেন। খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা সহ ৪২ মামলার আসামী মোশারফ এবারের নির্বাচনে শাহজাহানের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো সহ নৌকার বিরোধী অবস্থান গড়ে তুলছেন।

জানা গেছে, ক্যাম্প পোড়ানোর ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সহ থানায় লিখিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রূপগঞ্জ থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পরেনি পুলিশ।

 

এদিকে, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, ‘আমি একজন নৌকার কর্মী হিসেবে এই প্রশাসনের কাছে এই দাবি করছি যে, কে বা কারা নৌকার ক্যাম্প পুড়িয়েছে, তাদের যেন খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।’

ক্যাম্প পোড়ানোর কালচার বাজে জিনিস মন্তব্য করে বিস্মিত কণ্ঠে মেয়র বলেন, ‘তাও আবার নৌকার ক্যাম্প! যেখানে মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশের মধ্যে উন্নয়নের জোয়ার তুলেছে এবং নারায়ণগঞ্জেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে রূপগঞ্জে গাজী ভাই নিজ অর্থে বহু উন্নয়ন করেছেন। সরকার তো করেছেই, আবার গাজী ভাই এবং তার স্ত্রী পৌরসভার মেয়র হিসেবেও বহু উন্নয়ন করেছে। যারা উন্নয়ন করে মানুষের পাশে থাকে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে, সেখানে এই সময়ে এসে নৌকার ক্যাম্প পোড়ানো! এত বড় দুঃসাহস কার হলো। কেন করলো, এটা আমি মনে করি যে, এটা প্রশাসনের খতিয়ে দেখার দরকার আছে। এখানে পরিবেশ পরিস্থিতি কারা খারাপ করতে চাচ্ছে তা খুজে বের করা দরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন চাচ্ছে। আজকে নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে, কালকেই কিন্তু আমরা একজন আরেক জনকে দেখবো। সুতরাং সহিংসতা পরিহার করতে হবে। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দিবে।’

এদিকে, সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েও নির্বাচনকালিন সময়ে রূপগঞ্জে আসার ব্যাখায় মেয়র বলেন, ‘আসলে সংগত কারণেই আমি ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচনে নামতে পারছি না। তবে শুভকামণা করতেই পারি। আর এটা যেহেতু আমার ভাইয়ের বাড়ি, আমি তো আসতেই পারি। এজন্যই আসা।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোন প্রচারণার জন্য আসি নাই। গাজী ভাইয়ের স্ত্রী তারাব পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী শারীরিক ভাবে অসুস্থ। আমি তাকে দেখতে এসেছি। তার সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাছাড়া আমি এখানে পূর্বাচল থেকে প্রায় সময়ই আমরা সিটি করপোরেশনের জন্য গাছ কিনতে আসি। আমি গত চারদিন আগেও এখান থেকে প্রচুর গাঠ এবং ফুলের টব নিয়েছিলাম। আজকেও এসেছিলাম পূর্বাচলে, এখান দিয়ে যাওয়ার সময় ভাবলাম যে, ভাবির সাথে (হাসিনা গাজী) দেখা করে কুশল বিনিময় করে যাই। ভাই এবং ভাবিকে (মন্ত্রী গাজী ও তার স্ত্রী) সত্যিকার অর্থেই আমি আমার নিজের আপন ভাই এবং ভাবি মনে করি। এজন্যই আসা। আসার পর ভাবির সাথে দেখা হলেও ভাইয়ের সাথে দেখাই হলো না।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন