ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ নারায়ণগঞ্জ জেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বশির উল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোড সময় : ০৮:৪৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৩১৫ বার পড়া হয়েছে

দুই দশক পূর্বে বা তারও আগে সরকারী চাকুরীতে বেতন ভাতা খুবই নগন্য থাকায় ব্যবসা বানিজ্যের পাশাপাশি প্রবাসে শ্রমিকের জীবনটাই বেঁছে নিতেন অনেক যুব। কিন্তু বর্তমান সময়ে সরকারী চাকুরীতে বেতন ভাতা আগের তুলনায় ৪/৫ গুণ বৃদ্ধি পেলেও পাল্লা দিয়ে জীবন যাত্রায় ব্যয়ের পরিমান বেড়ে গেছে তার চাইতেও দিগুণ। তাই খাদ্য-বস্ত্র, শিক্ষা-চিকিৎসার ব্যয়-ভার মিটিয়ে গাড়ি-বাড়ীর মালিক হয়ে ভোগ বিলাশী জীবন ধারন করা শুধু স্বপ্নই নয়, দুঃস্বপ্নও বটে।

তবে এই দুঃস্বপ্নটাকে বাস্তবে রুপ দিতে এক শ্রেনীর সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা সততার নীতিকে বিসর্জন দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারন জনগনের পকেটে কেটে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। কারন বর্তমানে একটা গাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হতে হলেও প্রয়োজন পড়ে কমপক্ষে দুই কোটি টাকা। আর ঢাকা শহরের একদম আনাচে কানাচে নুন্যতম ৩ কাঠার একটা জমিতে ৫/১০ তলা বাড়ি বানাতে প্রয়োজন পড়ে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।

যা একজন সরকারী কর্মকর্তা বা পিয়নের পক্ষে কোন মতেই সম্ভব না। তবে “পিয়নের বাড়ী ১০তালা, গাড়ী এসিওয়ালা, ইঞ্জিনিয়ারের সম্পদের পাহাড়, ইত্যাদি, ইত্যাদি” সংবাদ মাধ্যমের কল্যানে এমন অনেক খবরই হরহামেশা উঠে আসে চোখের সামনে। কিন্তু এসবের অন্তরালে দেখা যায় ঘুষ-দুর্নীতি আর অনিয়মের ভয়ংকর কালো থাবা। যে যত বড় থাবা দিতে পারে তার সম্পদের বিস্তার ঘটে গুলশান-বনানীকে বোল্ড-আউট করে কানাডার বেগমপাড়ায়।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার বশিরউল্লাহ কোটিপতি হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কোন বেগমপাড়ায় যেতে পারেননি, গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা চান্দিনার গল্লাই পল্লীতে গড়েছেন ৭তলা আলিশান বাড়ি, পাশেই কয়েক বিঘা জমির উপর বাগান বাড়ি ও বিলাশবহুল মার্কেটে একাধিক দোকান। তবে গ্রামের বাড়ী কুমিল্লার গল্লাই পল্লী ছেড়ে স্থায়ী বসতি গড়েছেন রাজধানীর ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইল মদিনা চত্বর শহরপল্লী আবাসিক এলাকায়। দেড় কোটি টাকা খরচ করে এই এলাকার চান্দিনা টাওয়ার-২ এর সপ্তম ফ্লোরের দুই ইউনিট কিনে বানিয়েছেন একটি বিগ-ফ্ল্যাট। ২৫লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন প্রাইভেট গাড়ি। গাড়ির নাম্বার ঢাকা মেট্টো-গ-৪৭-০৬৯৭। গাড়ীর ড্রাইভারের বেতনও মাসে ৩০/৩৫ হাজার টাকা। মেয়ে পড়াশোনা করে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে।

লোকমুখে প্রচারিত আছে এই স্কুলে একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি হতেই গুনতে ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা। আবার মাসিক বেতন, টিউশন ফি ও সেশন মিলে বছরে আরো ৫/৬ লাখ টাকা। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, চিত্ত বিনোদন আর আত্মীয়স্বজনকে সহযোগিতা সহ দান-ছদগার মাধ্যমে বছরে আরো খরচ করেন ১৫/২০ লাখ টাকা। ধারাবাহিকভাবে এতো খরচের পরে কোটি কোটি টাকার বাড়ী-গাড়ী আর গ্রামের বাড়িতে বিঘায় বিঘায় জমিজমা সহ স্বর্নালংকার ও ব্যাংকে জমানো কারিকারি টাকা। এখন প্রশ্ন হলো সার্ভেয়ার নামক কর্মক্ষেত্রে বশিরউল্লাহর মাসিক বেতন কত টাকা। বশিরউল্লাহ ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার পদে চাকুরীর সুবাধে বিভিন্ন জেলা/উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ঘুরে ফিরে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন অফিসেই কাটিয়েছেন বেশীরভাগ সময়।

সম্প্রতি বদলি হয়ে চলে গিয়েছিলেন গোপালগঞ্জ জেলায়। সেখানে তেমন সুবিধা করতে না পেরে ২/৩ মাস পরেই আবার ফিরে এসেছেন নারায়গঞ্জ জেলা ভুমি অফিসে। বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে তদবির করে দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়গঞ্জ জেলা ভুমি অফিসে। কারন এই জেলা অফিসের সার্ভেয়ার পদে বসতে পারলে অবৈধ আয়ের রাস্তা থাকে অনেক বড়। কোন একটা উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জমি অধিগ্রহনের সুযোগ আসলে শুধু টাকাই-টাকা।

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলায় জমির দাম অন্যান্য জেলার চাইতে ৩/৪ গুণ বেশী হওয়ায় জমি নিয়ে নিয়ে মামলা মোকাদ্দমাও অনেক বেশী। ফলে এসব ক্ষেত্রে সমস্যা নিরসনে ভুমি সার্ভেয়ারের সম্পৃক্ততা অনেক বেশী থাকায় অবৈধ আয়ের রাস্তাটাও খুবই সহজ হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানায়, তারাই অবৈধ পথে আয় করে, যাদের অর্জিত আয়ের সাথে ধন-সম্পদ ও জীবন যাত্রার ব্যয়ের পরিমান শতশত গুণ বেশী। নিন্মবিত্ত পরিবারের সন্তান বশিরউল্লাহ সার্ভেয়ারের চাকুরীটাকে অবৈধ আয়ের হাতিয়ার বানিয়েছে।

অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র বলছে, ঘুষ দুর্নীতি আর অনিয়মের ফসল বশিরউল্লাহর এসব সম্পদ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ নারায়ণগঞ্জ জেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বশির উল্লাহ

আপলোড সময় : ০৮:৪৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

দুই দশক পূর্বে বা তারও আগে সরকারী চাকুরীতে বেতন ভাতা খুবই নগন্য থাকায় ব্যবসা বানিজ্যের পাশাপাশি প্রবাসে শ্রমিকের জীবনটাই বেঁছে নিতেন অনেক যুব। কিন্তু বর্তমান সময়ে সরকারী চাকুরীতে বেতন ভাতা আগের তুলনায় ৪/৫ গুণ বৃদ্ধি পেলেও পাল্লা দিয়ে জীবন যাত্রায় ব্যয়ের পরিমান বেড়ে গেছে তার চাইতেও দিগুণ। তাই খাদ্য-বস্ত্র, শিক্ষা-চিকিৎসার ব্যয়-ভার মিটিয়ে গাড়ি-বাড়ীর মালিক হয়ে ভোগ বিলাশী জীবন ধারন করা শুধু স্বপ্নই নয়, দুঃস্বপ্নও বটে।

তবে এই দুঃস্বপ্নটাকে বাস্তবে রুপ দিতে এক শ্রেনীর সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা সততার নীতিকে বিসর্জন দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারন জনগনের পকেটে কেটে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। কারন বর্তমানে একটা গাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হতে হলেও প্রয়োজন পড়ে কমপক্ষে দুই কোটি টাকা। আর ঢাকা শহরের একদম আনাচে কানাচে নুন্যতম ৩ কাঠার একটা জমিতে ৫/১০ তলা বাড়ি বানাতে প্রয়োজন পড়ে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।

যা একজন সরকারী কর্মকর্তা বা পিয়নের পক্ষে কোন মতেই সম্ভব না। তবে “পিয়নের বাড়ী ১০তালা, গাড়ী এসিওয়ালা, ইঞ্জিনিয়ারের সম্পদের পাহাড়, ইত্যাদি, ইত্যাদি” সংবাদ মাধ্যমের কল্যানে এমন অনেক খবরই হরহামেশা উঠে আসে চোখের সামনে। কিন্তু এসবের অন্তরালে দেখা যায় ঘুষ-দুর্নীতি আর অনিয়মের ভয়ংকর কালো থাবা। যে যত বড় থাবা দিতে পারে তার সম্পদের বিস্তার ঘটে গুলশান-বনানীকে বোল্ড-আউট করে কানাডার বেগমপাড়ায়।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার বশিরউল্লাহ কোটিপতি হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কোন বেগমপাড়ায় যেতে পারেননি, গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা চান্দিনার গল্লাই পল্লীতে গড়েছেন ৭তলা আলিশান বাড়ি, পাশেই কয়েক বিঘা জমির উপর বাগান বাড়ি ও বিলাশবহুল মার্কেটে একাধিক দোকান। তবে গ্রামের বাড়ী কুমিল্লার গল্লাই পল্লী ছেড়ে স্থায়ী বসতি গড়েছেন রাজধানীর ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইল মদিনা চত্বর শহরপল্লী আবাসিক এলাকায়। দেড় কোটি টাকা খরচ করে এই এলাকার চান্দিনা টাওয়ার-২ এর সপ্তম ফ্লোরের দুই ইউনিট কিনে বানিয়েছেন একটি বিগ-ফ্ল্যাট। ২৫লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন প্রাইভেট গাড়ি। গাড়ির নাম্বার ঢাকা মেট্টো-গ-৪৭-০৬৯৭। গাড়ীর ড্রাইভারের বেতনও মাসে ৩০/৩৫ হাজার টাকা। মেয়ে পড়াশোনা করে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে।

লোকমুখে প্রচারিত আছে এই স্কুলে একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি হতেই গুনতে ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা। আবার মাসিক বেতন, টিউশন ফি ও সেশন মিলে বছরে আরো ৫/৬ লাখ টাকা। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, চিত্ত বিনোদন আর আত্মীয়স্বজনকে সহযোগিতা সহ দান-ছদগার মাধ্যমে বছরে আরো খরচ করেন ১৫/২০ লাখ টাকা। ধারাবাহিকভাবে এতো খরচের পরে কোটি কোটি টাকার বাড়ী-গাড়ী আর গ্রামের বাড়িতে বিঘায় বিঘায় জমিজমা সহ স্বর্নালংকার ও ব্যাংকে জমানো কারিকারি টাকা। এখন প্রশ্ন হলো সার্ভেয়ার নামক কর্মক্ষেত্রে বশিরউল্লাহর মাসিক বেতন কত টাকা। বশিরউল্লাহ ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার পদে চাকুরীর সুবাধে বিভিন্ন জেলা/উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ঘুরে ফিরে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন অফিসেই কাটিয়েছেন বেশীরভাগ সময়।

সম্প্রতি বদলি হয়ে চলে গিয়েছিলেন গোপালগঞ্জ জেলায়। সেখানে তেমন সুবিধা করতে না পেরে ২/৩ মাস পরেই আবার ফিরে এসেছেন নারায়গঞ্জ জেলা ভুমি অফিসে। বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে তদবির করে দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়গঞ্জ জেলা ভুমি অফিসে। কারন এই জেলা অফিসের সার্ভেয়ার পদে বসতে পারলে অবৈধ আয়ের রাস্তা থাকে অনেক বড়। কোন একটা উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জমি অধিগ্রহনের সুযোগ আসলে শুধু টাকাই-টাকা।

তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলায় জমির দাম অন্যান্য জেলার চাইতে ৩/৪ গুণ বেশী হওয়ায় জমি নিয়ে নিয়ে মামলা মোকাদ্দমাও অনেক বেশী। ফলে এসব ক্ষেত্রে সমস্যা নিরসনে ভুমি সার্ভেয়ারের সম্পৃক্ততা অনেক বেশী থাকায় অবৈধ আয়ের রাস্তাটাও খুবই সহজ হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানায়, তারাই অবৈধ পথে আয় করে, যাদের অর্জিত আয়ের সাথে ধন-সম্পদ ও জীবন যাত্রার ব্যয়ের পরিমান শতশত গুণ বেশী। নিন্মবিত্ত পরিবারের সন্তান বশিরউল্লাহ সার্ভেয়ারের চাকুরীটাকে অবৈধ আয়ের হাতিয়ার বানিয়েছে।

অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র বলছে, ঘুষ দুর্নীতি আর অনিয়মের ফসল বশিরউল্লাহর এসব সম্পদ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন