ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম যেন কিছুতেই থামছে না

সোনারগাঁ প্রতিনিধি
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
  • আপলোড সময় : ০২:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৩৫৯ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম যেন কিছুতেই থামছে না। দিনের পর দিন অনিয়ম চললেও কোন ভাবে এর প্রতিকার হচ্ছে না। এই নিয়ে ভুক্তভোগীদের হয়রানি বেড়েই চলছে। বিভিন্ন সময় এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তেমন কেউ আমলে নেয়নি। এই ব্যাপারে বরাবরই নিশ্চুপ থেকে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এতে করে অনিয়মে জড়িত হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা বহাল তবিয়তে থেকে দেদাঁরসে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।  তাই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে রোগী সহ সাধারণ সেবা প্রার্থীরা। 

এই হাসপাতাল নিয়ে এক দীর্ঘ অনুসন্ধানে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। ভুক্তভোগীরাও দিয়েছেন এমন তথ্য। উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের নির্ভরযোগ্য একমাত্র চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বছরের পর বছর ধরে সিন্ডিকেট ভিত্তিক দুর্নীতির ভূতের কাছে নিমজ্জিত এই সরকারী প্রতিষ্ঠানটি। দৈনিক অর্ধসহস্রাধিক রোগির একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির ধারণক্ষমতা রয়েছে ৫০ শয্যার। কিন্তু এই রোগীদের অজুহাতে বরাদ্ধকৃত ঔষধ ও ভর্তি কৃত রোগীদের দৈনন্দিন খাবার পত্রগুলোর মধ্যে নয় ছয় করে লুটেপুটে খাচ্ছে একটি ঠিকাদারি ও একটি চক্র।

জানাগেছে, হাসপাতালের ওয়ার্ড পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, ঔষধে নয় ছয়, নানা অব্যবস্থাপনা, এনজিওদের দখল, শিক্ষানবীশ ডাক্তার নির্ভরতা, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অশুভ আচরণ, প্রতিবাদ করলেই নাজেহাল, অভিজ্ঞ ডাক্তার সংকট, খাবারে ব্যাপক অনিয়ম, রোগিদের তদারকির অভাব। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভোগান্তির আরেক নাম ঝরের ওয়ার্ড।

গত ১০ জানুয়ারি সরেজমিন গেলে দেখা যায়, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ীচিনিষ গ্রামের ঝর নিয়ে জরুরী বিরাগে ভর্তি হওয়ার জন্য আসে, তাৎক্ষণিক জ্বর নিয়ন্ত্রণের কোন চিকিৎসা না দিয়ে ভর্তি করিয়ে নেয় এবং ভর্তির ৪ ঘন্টা পর চিকিৎসার জন্য ডাক্তার আসে ডাক্তার আসার পর বিভিন্ন টেস্ট ও এক্সরে দিয়ে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে, দীর্ঘ ৭২ ঘন্টা চিকিৎসা চলাকালীন তারা ঝর নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, পরে রোগীর অভিভাবক চিকিৎসার অবনতি দেখে রেফার নিয়ে মদনপুর বারাকা হসপিটালে ভর্তি করে, সেখানে জরুরি বিভাগে ৩০ মিনিটের মধ্যে ওই রোগীর গলা ব্যথা ও জ্বর নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়। এই হলো সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান যারা ৭২ ঘণ্টায় একজন ঝরের রোগিকে ঝর নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদের কাছে বক্তব্য নিয়ে জানা যায় তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল এমন অনেকেই জ্বর নিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা থাকার পরেও কোন উন্নতির দেখা মিলেনি।

এছাড়াও  সরেজমিনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগিদের তীব্র হাহাকার। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত প্যারসিটামলই যেনো একমাত্র ভরসা। অবশ্য কিছু কিছু রোগিদের ক্ষেত্রে ব্যাথার ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। এর বাহিরে কোনো ঔষধ রোগিদের দেওয়া হচ্ছে না। ফার্মেসীতে মিলছেও না প্রয়োজনীয় সব ঔষধ। অযথা রোগীদের বিভিন্ন টেস্ট ও এক্সরে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আবাসিক কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন সিজান জানান, আমরা চাইলেই যে কোন চিকিৎসা সহজে দিতে পারিনা, আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে গেলে অবশ্যই দীর্ঘ সময় দিতে হবে, হুট করে কোন চিকিৎসা আমরা দেই না, এটি সরকারি হাসপাতাল সবকিছু এখানে পাওয়া যায় না, অনেক কিছু বাহির থেকে সংগ্রহ করতে হয়, আমাদের যতটুকু সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় আমরা তা দিতে চেষ্টা করি, তবে কারো কোন অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম যেন কিছুতেই থামছে না

আপলোড সময় : ০২:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম যেন কিছুতেই থামছে না। দিনের পর দিন অনিয়ম চললেও কোন ভাবে এর প্রতিকার হচ্ছে না। এই নিয়ে ভুক্তভোগীদের হয়রানি বেড়েই চলছে। বিভিন্ন সময় এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তেমন কেউ আমলে নেয়নি। এই ব্যাপারে বরাবরই নিশ্চুপ থেকে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এতে করে অনিয়মে জড়িত হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা বহাল তবিয়তে থেকে দেদাঁরসে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।  তাই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে রোগী সহ সাধারণ সেবা প্রার্থীরা। 

এই হাসপাতাল নিয়ে এক দীর্ঘ অনুসন্ধানে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। ভুক্তভোগীরাও দিয়েছেন এমন তথ্য। উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের নির্ভরযোগ্য একমাত্র চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বছরের পর বছর ধরে সিন্ডিকেট ভিত্তিক দুর্নীতির ভূতের কাছে নিমজ্জিত এই সরকারী প্রতিষ্ঠানটি। দৈনিক অর্ধসহস্রাধিক রোগির একমাত্র নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির ধারণক্ষমতা রয়েছে ৫০ শয্যার। কিন্তু এই রোগীদের অজুহাতে বরাদ্ধকৃত ঔষধ ও ভর্তি কৃত রোগীদের দৈনন্দিন খাবার পত্রগুলোর মধ্যে নয় ছয় করে লুটেপুটে খাচ্ছে একটি ঠিকাদারি ও একটি চক্র।

জানাগেছে, হাসপাতালের ওয়ার্ড পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, ঔষধে নয় ছয়, নানা অব্যবস্থাপনা, এনজিওদের দখল, শিক্ষানবীশ ডাক্তার নির্ভরতা, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অশুভ আচরণ, প্রতিবাদ করলেই নাজেহাল, অভিজ্ঞ ডাক্তার সংকট, খাবারে ব্যাপক অনিয়ম, রোগিদের তদারকির অভাব। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভোগান্তির আরেক নাম ঝরের ওয়ার্ড।

গত ১০ জানুয়ারি সরেজমিন গেলে দেখা যায়, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ীচিনিষ গ্রামের ঝর নিয়ে জরুরী বিরাগে ভর্তি হওয়ার জন্য আসে, তাৎক্ষণিক জ্বর নিয়ন্ত্রণের কোন চিকিৎসা না দিয়ে ভর্তি করিয়ে নেয় এবং ভর্তির ৪ ঘন্টা পর চিকিৎসার জন্য ডাক্তার আসে ডাক্তার আসার পর বিভিন্ন টেস্ট ও এক্সরে দিয়ে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে, দীর্ঘ ৭২ ঘন্টা চিকিৎসা চলাকালীন তারা ঝর নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, পরে রোগীর অভিভাবক চিকিৎসার অবনতি দেখে রেফার নিয়ে মদনপুর বারাকা হসপিটালে ভর্তি করে, সেখানে জরুরি বিভাগে ৩০ মিনিটের মধ্যে ওই রোগীর গলা ব্যথা ও জ্বর নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়। এই হলো সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান যারা ৭২ ঘণ্টায় একজন ঝরের রোগিকে ঝর নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদের কাছে বক্তব্য নিয়ে জানা যায় তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল এমন অনেকেই জ্বর নিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা থাকার পরেও কোন উন্নতির দেখা মিলেনি।

এছাড়াও  সরেজমিনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগিদের তীব্র হাহাকার। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত প্যারসিটামলই যেনো একমাত্র ভরসা। অবশ্য কিছু কিছু রোগিদের ক্ষেত্রে ব্যাথার ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। এর বাহিরে কোনো ঔষধ রোগিদের দেওয়া হচ্ছে না। ফার্মেসীতে মিলছেও না প্রয়োজনীয় সব ঔষধ। অযথা রোগীদের বিভিন্ন টেস্ট ও এক্সরে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আবাসিক কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন সিজান জানান, আমরা চাইলেই যে কোন চিকিৎসা সহজে দিতে পারিনা, আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে গেলে অবশ্যই দীর্ঘ সময় দিতে হবে, হুট করে কোন চিকিৎসা আমরা দেই না, এটি সরকারি হাসপাতাল সবকিছু এখানে পাওয়া যায় না, অনেক কিছু বাহির থেকে সংগ্রহ করতে হয়, আমাদের যতটুকু সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় আমরা তা দিতে চেষ্টা করি, তবে কারো কোন অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন