ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে হযরত বাহিনীর অপকর্মের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

সোনারগাঁ প্রতিনিধি
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
  • আপলোড সময় : ০৯:৫৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ২৮৩ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের আলগীর চর গ্রামে হযরত আলী ওরফে হযরত ডাকাত বাহনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।

গত তিনদিনে তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সোনারগাঁ থানায় তিন ব্যাক্তি চাঁদা দাবি, মারধরসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের তদন্তে সোনারগাঁ থানা পুলিশ তার অপকর্মের সত্যাতাও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এর আগে হযরত আলী ও তার বাহিনীর লোকজন ডাকাতি, চুরি ও মাদক ব্যবসায়ে অভিযুক্ত হয়ে একাধিকবার জেল খেটেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীও হযরত আলী ও তার বাহিনীর অপকর্মের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গত দুই মাস আগে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোনারগাঁ থানায় ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান, জসীম উদ্দিন ও মো. সাহাবউদ্দিন বাদি হয়ে তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার আলগীর চর গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্মের বাধা দিতে গিয়ে শত্রুতা চলছিল। এ শত্রুতার জের ধরে বুধবার রাতে মিলন মিয়ার দোকানের সামনে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে হযরত আলী ডাকাতের নেতৃত্বে মো.আমিন, রাব্বী সরকার, জুয়েল, শুভ, জুম্মান, আব্বাস আলীসহ ২০-২৫জনের একটি দল তার ওপর হামলা করে এলোপাথারীভাবে মারধর করে মারাক্তকভাবে আহত করে। আহত সাদেকুর রহমানকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আহত সাদেকুর রহমান বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে গত ১২ ফেব্রুয়ারী আলগীর চর গ্রামের মো. সাহাবউদ্দিন তার বাড়িতে বিল্ডিং নির্মাণ করতে গেলে হযরত বাহিনী তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়। পর দিন মো. সাহাবউদ্দিন বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় ৭ জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন।
অপর দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার বিকেলে আলগীর চর গ্রামের মৃত আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে জসীম উদ্দিনকে একা পেয়ে হযরত আলীর নেতৃত্বে ১০-১৫জনের একটি দল তার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি দেয় এবং অকর্থ ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় জসীমউদ্দিন বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আলগীর চর গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী। স্থানীয়ভাবে হযরত ডাকাত নামে সকলেই চেনেন। এক সময় নিজে ডাকাতি করতেন। এখন তিনি ডাকাতি না করলেও তার বিশাল বাহিনী ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এলাকায় সকল প্রকার অপকর্মের মদতদাতা হিসেবে হযরত আলী কাজ করে থাকেন।
বারদী ইউনিয়নের আলগীর চর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, হযরত আলী একজন উশৃংঙ্খল লোক। মেয়ে ও নাতিন বিয়ে দিয়ে তাদের জামাইদের ঘর জামাই করে রেখে বাহিনী তৈরি করেছেন। পান থেকে চুন খসলেই তার এই বাহিনী লাঠিসোটা, দা , রামদা নিয়ে মানুষের ওপর হামলা করে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না।
বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আলগীর চর গ্রামে কয়েকদিন পর পর হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ ছাড়া করা যায় না। একাধিক হামলা ও চাঁদা দাবির বিষয়টি জেনেছি। তবে পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছেন। হযরত আলীর ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে তিনিও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গণ স্বাক্ষর সহ এলাকাবাসী নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত হযরত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি প্রতিবাদ করলেই আমাকে ডাকাত অখ্যা দেয়। আমার অতিতের কার্য্যকলাপ নিয়ে সমালোচনা করে, গাড়ির সাইড নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। এটি মিমাংসার করা হবে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. মহসিন বলেন, হযরত আলী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তবে একটি অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সোনারগাঁয়ে হযরত বাহিনীর অপকর্মের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

আপলোড সময় : ০৯:৫৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের আলগীর চর গ্রামে হযরত আলী ওরফে হযরত ডাকাত বাহনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।

গত তিনদিনে তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সোনারগাঁ থানায় তিন ব্যাক্তি চাঁদা দাবি, মারধরসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের তদন্তে সোনারগাঁ থানা পুলিশ তার অপকর্মের সত্যাতাও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এর আগে হযরত আলী ও তার বাহিনীর লোকজন ডাকাতি, চুরি ও মাদক ব্যবসায়ে অভিযুক্ত হয়ে একাধিকবার জেল খেটেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীও হযরত আলী ও তার বাহিনীর অপকর্মের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গত দুই মাস আগে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোনারগাঁ থানায় ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান, জসীম উদ্দিন ও মো. সাহাবউদ্দিন বাদি হয়ে তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার আলগীর চর গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্মের বাধা দিতে গিয়ে শত্রুতা চলছিল। এ শত্রুতার জের ধরে বুধবার রাতে মিলন মিয়ার দোকানের সামনে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে হযরত আলী ডাকাতের নেতৃত্বে মো.আমিন, রাব্বী সরকার, জুয়েল, শুভ, জুম্মান, আব্বাস আলীসহ ২০-২৫জনের একটি দল তার ওপর হামলা করে এলোপাথারীভাবে মারধর করে মারাক্তকভাবে আহত করে। আহত সাদেকুর রহমানকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আহত সাদেকুর রহমান বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে গত ১২ ফেব্রুয়ারী আলগীর চর গ্রামের মো. সাহাবউদ্দিন তার বাড়িতে বিল্ডিং নির্মাণ করতে গেলে হযরত বাহিনী তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়। পর দিন মো. সাহাবউদ্দিন বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় ৭ জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন।
অপর দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার বিকেলে আলগীর চর গ্রামের মৃত আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে জসীম উদ্দিনকে একা পেয়ে হযরত আলীর নেতৃত্বে ১০-১৫জনের একটি দল তার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি দেয় এবং অকর্থ ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় জসীমউদ্দিন বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আলগীর চর গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী। স্থানীয়ভাবে হযরত ডাকাত নামে সকলেই চেনেন। এক সময় নিজে ডাকাতি করতেন। এখন তিনি ডাকাতি না করলেও তার বিশাল বাহিনী ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এলাকায় সকল প্রকার অপকর্মের মদতদাতা হিসেবে হযরত আলী কাজ করে থাকেন।
বারদী ইউনিয়নের আলগীর চর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, হযরত আলী একজন উশৃংঙ্খল লোক। মেয়ে ও নাতিন বিয়ে দিয়ে তাদের জামাইদের ঘর জামাই করে রেখে বাহিনী তৈরি করেছেন। পান থেকে চুন খসলেই তার এই বাহিনী লাঠিসোটা, দা , রামদা নিয়ে মানুষের ওপর হামলা করে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না।
বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আলগীর চর গ্রামে কয়েকদিন পর পর হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ ছাড়া করা যায় না। একাধিক হামলা ও চাঁদা দাবির বিষয়টি জেনেছি। তবে পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছেন। হযরত আলীর ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে তিনিও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গণ স্বাক্ষর সহ এলাকাবাসী নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত হযরত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি প্রতিবাদ করলেই আমাকে ডাকাত অখ্যা দেয়। আমার অতিতের কার্য্যকলাপ নিয়ে সমালোচনা করে, গাড়ির সাইড নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। এটি মিমাংসার করা হবে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. মহসিন বলেন, হযরত আলী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তবে একটি অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন