ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে তদারকির অভাবে  ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেকারি 

সোনারগাঁ প্রতিনিধি
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
  • আপলোড সময় : ০৫:৩০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪
  • / ৩৬০ বার পড়া হয়েছে

বেশির ভাগ কর্মচারী হাতে গ্লাভস ছাড়াই ময়দা মাখছেন। খালি গায়ে আটা-ময়দার স্তূপে দাঁড়িয়ে খামির তৈরি করছেন। কেউ কেউ সে খামির মেশিনে তুলে দিচ্ছে। কারও শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। কেউ এক হাতে সিগারেট অন্য হাত দিয়ে কাজ করছেন। অপরিষ্কার জামাকাপড় পরে খাদ্য তৈরি করছেন , কম বয়সী বাচ্চারা শ্রম দিচ্ছেন, খোলা তেলের ড্রামের ওপর মাছি ভনভন করছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলামেলা ভাবেই তৈরি হচ্ছে নানান প্রকার বেকারি পণ্য।

এছাড়াও প্রতিটি বেকারির মালিক সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে রমরমা বাণিজ্য করে যাচ্ছে। গ্যাস কর্তৃপক্ষের বিশেষ কোন নজর না থাকায় ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এ অপকর্ম করে যাচ্ছে।

এটি সোনারগাঁয়ের বেশিরভাগ বেকারির সাধারণ দৃশ্য। সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা ,বিস্কুট, পাউরুটি, কেক, নিমকি, লাড়ু সহ মিষ্টির মতো অসংখ্য খাবার। আবার এসব বেকারি পণ্য বাহারি মোড়কে বাজারজাত ও হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ বেকারির নেই ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ, স্যানিটারি ও ট্রেডমার্ক ছাড়পত্র। ফলে তদারকির অভাবে উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেকারি।

পৌরসভার হাত কোপা গ্রামে মাহবুব বেকারির নামে তৈরি হচ্ছে মানহীন অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন। অবৈধ পন্থায় সরকারি গ্যাস চুরি করে বেকারি পরিচালনা করছেন মাহবুব মিয়া। স্বরজমিনে বেকারির মালিক মাহবুবের কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত তিনি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা বাণিজ্য। কারো তোয়াক্কা তিনি করেন না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছেন তাতে তার কোন সমস্যা হচ্ছে না।

উপজেলা স্যানিটারি ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বলেন, উপজেলায় প্রায় শতাধিকের চেয়েও বেশি বেকারি রয়েছে। এর মধ্যে ৯টিতে খাদ্য তৈরি হয় ওভেনে। বাকি ১১টিতে তৈরি হয় হাতে। এসব বেকারির পণ্য উপজেলার ৪৫টি বাজারের অন্তত এক হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান ও ২৪টি হোটেল-রেস্তোরাঁয় যাচ্ছে। গত এক বছরে বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ৫০ জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মুন্নি বেকারির মালিক সাদেক বলেন, বারো বছর যাবত কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বেকারি পরিচালনা করছি কোনো তো অসুবিধা হচ্ছে না। লাইসেন্সের কোন প্রয়োজনও হয় না। বেকারির পণ্য কম চলে তাই লাইসেন্স নিচ্ছি না। বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই চলছি কোন সমস্যা হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন সিজান বলেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা এসব খাদ্য সামগ্রী খেলে যে কেউ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। শিশুদের জন্য এসব খাবার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোন বেকারি পরিচালনা করা যাবে না তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সোনারগাঁয়ে তদারকির অভাবে  ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেকারি 

আপলোড সময় : ০৫:৩০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪

বেশির ভাগ কর্মচারী হাতে গ্লাভস ছাড়াই ময়দা মাখছেন। খালি গায়ে আটা-ময়দার স্তূপে দাঁড়িয়ে খামির তৈরি করছেন। কেউ কেউ সে খামির মেশিনে তুলে দিচ্ছে। কারও শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। কেউ এক হাতে সিগারেট অন্য হাত দিয়ে কাজ করছেন। অপরিষ্কার জামাকাপড় পরে খাদ্য তৈরি করছেন , কম বয়সী বাচ্চারা শ্রম দিচ্ছেন, খোলা তেলের ড্রামের ওপর মাছি ভনভন করছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলামেলা ভাবেই তৈরি হচ্ছে নানান প্রকার বেকারি পণ্য।

এছাড়াও প্রতিটি বেকারির মালিক সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে রমরমা বাণিজ্য করে যাচ্ছে। গ্যাস কর্তৃপক্ষের বিশেষ কোন নজর না থাকায় ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এ অপকর্ম করে যাচ্ছে।

এটি সোনারগাঁয়ের বেশিরভাগ বেকারির সাধারণ দৃশ্য। সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা ,বিস্কুট, পাউরুটি, কেক, নিমকি, লাড়ু সহ মিষ্টির মতো অসংখ্য খাবার। আবার এসব বেকারি পণ্য বাহারি মোড়কে বাজারজাত ও হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ বেকারির নেই ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ, স্যানিটারি ও ট্রেডমার্ক ছাড়পত্র। ফলে তদারকির অভাবে উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেকারি।

পৌরসভার হাত কোপা গ্রামে মাহবুব বেকারির নামে তৈরি হচ্ছে মানহীন অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন। অবৈধ পন্থায় সরকারি গ্যাস চুরি করে বেকারি পরিচালনা করছেন মাহবুব মিয়া। স্বরজমিনে বেকারির মালিক মাহবুবের কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত তিনি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা বাণিজ্য। কারো তোয়াক্কা তিনি করেন না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছেন তাতে তার কোন সমস্যা হচ্ছে না।

উপজেলা স্যানিটারি ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বলেন, উপজেলায় প্রায় শতাধিকের চেয়েও বেশি বেকারি রয়েছে। এর মধ্যে ৯টিতে খাদ্য তৈরি হয় ওভেনে। বাকি ১১টিতে তৈরি হয় হাতে। এসব বেকারির পণ্য উপজেলার ৪৫টি বাজারের অন্তত এক হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান ও ২৪টি হোটেল-রেস্তোরাঁয় যাচ্ছে। গত এক বছরে বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ৫০ জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মুন্নি বেকারির মালিক সাদেক বলেন, বারো বছর যাবত কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বেকারি পরিচালনা করছি কোনো তো অসুবিধা হচ্ছে না। লাইসেন্সের কোন প্রয়োজনও হয় না। বেকারির পণ্য কম চলে তাই লাইসেন্স নিচ্ছি না। বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই চলছি কোন সমস্যা হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন সিজান বলেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা এসব খাদ্য সামগ্রী খেলে যে কেউ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। শিশুদের জন্য এসব খাবার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোন বেকারি পরিচালনা করা যাবে না তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন