ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনীর কর্মতৎপরতায় ডিএনডি অঞ্চলে স্বস্তির সুবাতাস

মোঃ আরিফ হোসেন (নিজস্ব প্রতিনিধি)
মোঃ আরিফ হোসেন (নিজস্ব প্রতিনিধি)
  • আপলোড সময় : ০৬:১৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪
  • / ২৭২ বার পড়া হয়েছে

অসহনীয় জলাবদ্ধতা যেন নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধের মধ্যে বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষের। তবে সেসবই এখন নিকট অতীত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও ব্যাপক কর্মতৎপরতার সুফল ভোগ করছে এই অঞ্চলের জনসাধারণ৷ বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় রিমেলের প্রভাবে টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতেও চিরচেনা জলাবদ্ধতার দৃশ্য চোখে পড়ছে না অধিকাংশ এলাকাতেই।

তথ্যমতে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা এলাকায় ১৯৬২ থেকে ১৯৬৮ সালে ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত ধানচাষ করার জন্য চারদিকে বাঁধ দিয়ে ‘ডিএনডি ইরিগেশন প্ল্যান্ট’ তৈরি করা হয়। পরে ধীরে ধীরে নগরায়নের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে এই প্রকল্প পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালে ডিএনডি বাঁধের কাজ একনেকে পাস হলে ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীর সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্প ব্যয় শুরুতে ৫৮২ কোটি টাকা হলেও পরবর্তীতে ২০২০ সালে তা বাড়িয়ে করা হয় এক হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। ফলে আরো বিস্তৃত পরিসরে কাজ করে সেনাবাহিনী।

২০১৮ সাল থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পের আওতায় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এবং শিমরাইলের দুইটি হেভি পাম্প স্টেশন, ফতুল্লা, পাগলা এবং শ্যামপুরে পাম্পিং প্লান্ট, ২২টি ব্রিজ, ৬৯টি কালভার্ট, ৪টি ক্রস ড্রেন, ১টি পুশ মেথড ,৩৭টি খাল,৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করে। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে স্বস্তি। দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো সেনাবাহিনী কর্তৃক পুনরুদ্ধারের পরে তার পাশে তৈরি করা ওয়াকওয়েগুলো যেন এখন পর্যটন স্পট। ভোর-সকালে বা বিকেলে জনসাধারণ নির্মল আবহাওয়া ও মুক্ত বাতাসের জন্য জড়ো হচ্ছে ওয়াকওয়েতে। ডিএনডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শাহদত হোসেন ও ডিএনডি’র প্রকল্প কর্মকর্তা এসএম সাকিব আজওয়াদের নিরলস পরিশ্রম ও একাগ্রতায় চিরতরে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তিলাভের স্বপ্ন বুঁনছে জনসাধারণ।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় রিমেল টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পরেও নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ অঞ্চল জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত। এ নিয়ে সন্তোষ জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণও। তারা বলছেন, আমাদের গর্বের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অক্লান্ত ও বিরামহীন কর্মযজ্ঞে ডিএনডি অঞ্চলের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। একসময় বছরের অধিকাংশ সময়েই আমাদের পানিবন্দি হয়ে থাকতে হলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই৷ এর ফলে আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি।

পাম্প হাউজ সূত্রে জানা যায়, শিমরাইল ও আদমজী পাম্প হাউজের ১৩টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প এবং ফতুল্লা, কদমতলী ও শ্যামপুরের পাম্পিং প্লান্টের সকল পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করছে। দুই পাম্প হাউজে পার সেকেন্ডে সাড়ে পাঁচ কিউবিক মিটার ক্ষমতা সম্পন্ন ১৩টি পাম্প চালুর পাশাপাশি ৩টি পাম্পিং প্লান্টের পাম্প চালু রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী রমজান আলী প্রমাণিক বলেন, এই বছরেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এবং জলাবদ্ধতাও দূর হবে। এরপর থেকে এসব এলাকার বাসিন্দারা পুরোপুরি সুফল পাবে।

এ সময় বাঁধ সংলগ্ন খালগুলো রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সেনাবাহিনীর কর্মতৎপরতায় ডিএনডি অঞ্চলে স্বস্তির সুবাতাস

আপলোড সময় : ০৬:১৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

অসহনীয় জলাবদ্ধতা যেন নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধের মধ্যে বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষের। তবে সেসবই এখন নিকট অতীত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও ব্যাপক কর্মতৎপরতার সুফল ভোগ করছে এই অঞ্চলের জনসাধারণ৷ বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় রিমেলের প্রভাবে টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতেও চিরচেনা জলাবদ্ধতার দৃশ্য চোখে পড়ছে না অধিকাংশ এলাকাতেই।

তথ্যমতে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা এলাকায় ১৯৬২ থেকে ১৯৬৮ সালে ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত ধানচাষ করার জন্য চারদিকে বাঁধ দিয়ে ‘ডিএনডি ইরিগেশন প্ল্যান্ট’ তৈরি করা হয়। পরে ধীরে ধীরে নগরায়নের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে এই প্রকল্প পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালে ডিএনডি বাঁধের কাজ একনেকে পাস হলে ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীর সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্প ব্যয় শুরুতে ৫৮২ কোটি টাকা হলেও পরবর্তীতে ২০২০ সালে তা বাড়িয়ে করা হয় এক হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। ফলে আরো বিস্তৃত পরিসরে কাজ করে সেনাবাহিনী।

২০১৮ সাল থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পের আওতায় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এবং শিমরাইলের দুইটি হেভি পাম্প স্টেশন, ফতুল্লা, পাগলা এবং শ্যামপুরে পাম্পিং প্লান্ট, ২২টি ব্রিজ, ৬৯টি কালভার্ট, ৪টি ক্রস ড্রেন, ১টি পুশ মেথড ,৩৭টি খাল,৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করে। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে স্বস্তি। দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো সেনাবাহিনী কর্তৃক পুনরুদ্ধারের পরে তার পাশে তৈরি করা ওয়াকওয়েগুলো যেন এখন পর্যটন স্পট। ভোর-সকালে বা বিকেলে জনসাধারণ নির্মল আবহাওয়া ও মুক্ত বাতাসের জন্য জড়ো হচ্ছে ওয়াকওয়েতে। ডিএনডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শাহদত হোসেন ও ডিএনডি’র প্রকল্প কর্মকর্তা এসএম সাকিব আজওয়াদের নিরলস পরিশ্রম ও একাগ্রতায় চিরতরে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তিলাভের স্বপ্ন বুঁনছে জনসাধারণ।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় রিমেল টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পরেও নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ অঞ্চল জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত। এ নিয়ে সন্তোষ জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণও। তারা বলছেন, আমাদের গর্বের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অক্লান্ত ও বিরামহীন কর্মযজ্ঞে ডিএনডি অঞ্চলের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। একসময় বছরের অধিকাংশ সময়েই আমাদের পানিবন্দি হয়ে থাকতে হলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই৷ এর ফলে আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি।

পাম্প হাউজ সূত্রে জানা যায়, শিমরাইল ও আদমজী পাম্প হাউজের ১৩টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প এবং ফতুল্লা, কদমতলী ও শ্যামপুরের পাম্পিং প্লান্টের সকল পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করছে। দুই পাম্প হাউজে পার সেকেন্ডে সাড়ে পাঁচ কিউবিক মিটার ক্ষমতা সম্পন্ন ১৩টি পাম্প চালুর পাশাপাশি ৩টি পাম্পিং প্লান্টের পাম্প চালু রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী রমজান আলী প্রমাণিক বলেন, এই বছরেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এবং জলাবদ্ধতাও দূর হবে। এরপর থেকে এসব এলাকার বাসিন্দারা পুরোপুরি সুফল পাবে।

এ সময় বাঁধ সংলগ্ন খালগুলো রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন