কোটা সংস্কার আন্দোলনের স্মৃতিচারণ: এক বছর পরেও ঘরে ফেরা হয়নি
- আপলোড সময় : ১২:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ২১৫ বার পড়া হয়েছে
৭ জুলাই, ২০২৩ তারিখে শাহবাগসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে এলে সংঘর্ষ বাঁধে, পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য ছিল কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপান্তরিত করা।
মধ্যরাতে লন্ডন থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইঞ্জি. সফিকুল ইসলাম রিবলু ফোন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "এই আন্দোলনের মাধ্যমেই খুনি হাসিনার পতন ঘটাতে হবে!" ২০১৩ সালে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়া রিবলু, আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাইদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামকে গুলি করে হত্যা করার পর আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ১ দফা দাবি ঘোষণা করেন। ১৭ জুলাই বসুন্ধরা গেট অভিমুখে আন্দোলনকারীরা দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ২০ জুলাই থেকে দেশে কারফিউ জারি করা হয়।
২১ জুলাই, কারফিউর দ্বিতীয় দিনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বসুন্ধরা গেটের দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশ গুলি ও টিয়ারগ্যাস ছুড়তে শুরু করে। আন্দোলন চলাকালীন অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন এবং টিয়ারগ্যাসে আক্রান্ত হন। আন্দোলনকারীরা জানান, "আমরা নিরস্ত্র হলেও মনোবল হারাইনি।" ২৬ জুলাই গ্রেপ্তার হওয়া তিন নেতার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্রদলের হাতে আসে।
৫ আগস্ট, গ্রামীণফোনের অফিসের সামনে আবারও আন্দোলন শুরু হলে পুলিশ গুলি চালাতে থাকে। দুপুর ১২টায় সেনাবাহিনী এসে আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানায়। তবে আন্দোলনের শেষে প্রায় ২ হাজার প্রাণহানি এবং ২০ হাজার আহতের ঘটনা ঘটে। লেখক, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জানান, "জুলাইয়ের অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তবে আমরা এখনও নীরব আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।"























