ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আড়াইহাজার থানা পুলিশের গুলিতে ডেমরার যুবক গুলিবিদ্ধ: ডাকাত দলের ১ সদস্য গ্রেফতার

মোঃ সালে আহমেদ (নিজস্ব প্রতিবেদক)
মোঃ সালে আহমেদ (নিজস্ব প্রতিবেদক)
  • আপলোড সময় : ১১:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৩৮৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ডেমরায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুলিশের গুলিতে মিনহাজুল আবেদিন ফাহিম (২৪) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধআহত ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার ভোর রাত প্রায় পৌনে ৫ টার দিকে ডেমরার বামৈল বাজার এলাকার আমেরিকা প্রবাসী মো. মহল উদ্দিন মিয়া মাদবরের এ ঘটনা ঘটে। ফাতিম ওই বাড়ীর বড় ছেলে। এ সময় আড়াই হাজার থানা পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সজীবকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সজীব মহল উদ্দিন মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া বলে ডেমরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আড়াইহাজারে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আসামি সজীবকে ধরতে এসে আড়াই হাজার থানা পুলিশের অভিযানে ফাহিম গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেমরা থানার ওসি মো. শফিকুর রহমান।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ওসি এমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার জালাকান্দি নামক স্থানে ডাকাতির একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, এ ঘটনায় জড়িত সজীব নামের এক ব্যক্তি ঢাকার ডেমরার বামৈল বাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে রাত ৪ টার দিকে ডেমরা থানা পুলিশকে জানিয়ে সজীবকে গ্রেফতার করতে যায় আড়াইহাজার থানা পুলিশ।

ওসির দাবি, সেখানে একটি বাড়িতে অভিযানে গেলে সজীবসহ অন্যরা পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ একটি গুলি ছুড়ে। সেই গুলি বাড়ির মালিকের ছেলে মিনহাজিন আবেদীনের পায়ে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

ওসি বলেন, ‘মিনহাজিন আবেদীনের স্বভাব—চরিত্র ভালো নয়। তিনি মাদক সেবন করেন।’

এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মো, শফিকুর রহমান বলেন, আড়াই হাজার থানা পুলিশ আমাকে বা ডেমরা থানাকে প্রথমে অবিহিত না করেই বামৈল এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ফাহিম, সজীব ও অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতন্ডাসহ ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে তদন্দে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে আড়াই হাজার থানা পুলিশ ডেমরা থানাকে জানালে টহলরত এসআই মো. আলমগীর তার ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি দেখতে পান ফাহিম গুলিবিদ্ধ ও এলাকার পরিস্থিতি গরম। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে আড়াই হাজার থানা পুলিশ ডেমরা থানা পুলিশের মাধ্যমে সজীবকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

ওসি আরও জানায়, ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সজীবকে ধরে আনতে গেলে গুলিবিদ্ধ ফাহিম ও তার ছোট ভাই—বন্ধুদের নেশাগ্রস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় নেশার ঘোরে কে পুলিশ, কে জনতা না বুঝেই পুলিশকে মেরে বসে তারা। এ ঘটনায় ফাহিম গুলিবিদ্ধ হয়।এদিকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ মিনহাজিন বলেন, দশ দিন আগে সজীব নামের ওই ব্যক্তি তাদের বাসা ভাড়া নেন। গভীর রাতে বাসায় পুলিশ আসার পর তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ গুলি করে। সেটি তার ঊরুতে লাগে।
তবে মিনহাজিনের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের দাবি, তার স্বামী মাদক সেবনসহ কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। দুই মাসের মধ্যে ফাহিমের আমেরিকা যাওয়ার কথা রয়েছে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন গুলিবিদ্ধ আহত যুবক ঢামেকের ১০১ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আড়াইহাজার থানা পুলিশের গুলিতে ডেমরার যুবক গুলিবিদ্ধ: ডাকাত দলের ১ সদস্য গ্রেফতার

আপলোড সময় : ১১:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রাজধানীর ডেমরায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুলিশের গুলিতে মিনহাজুল আবেদিন ফাহিম (২৪) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধআহত ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার ভোর রাত প্রায় পৌনে ৫ টার দিকে ডেমরার বামৈল বাজার এলাকার আমেরিকা প্রবাসী মো. মহল উদ্দিন মিয়া মাদবরের এ ঘটনা ঘটে। ফাতিম ওই বাড়ীর বড় ছেলে। এ সময় আড়াই হাজার থানা পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সজীবকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সজীব মহল উদ্দিন মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া বলে ডেমরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আড়াইহাজারে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আসামি সজীবকে ধরতে এসে আড়াই হাজার থানা পুলিশের অভিযানে ফাহিম গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেমরা থানার ওসি মো. শফিকুর রহমান।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ওসি এমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার জালাকান্দি নামক স্থানে ডাকাতির একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, এ ঘটনায় জড়িত সজীব নামের এক ব্যক্তি ঢাকার ডেমরার বামৈল বাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে রাত ৪ টার দিকে ডেমরা থানা পুলিশকে জানিয়ে সজীবকে গ্রেফতার করতে যায় আড়াইহাজার থানা পুলিশ।

ওসির দাবি, সেখানে একটি বাড়িতে অভিযানে গেলে সজীবসহ অন্যরা পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ একটি গুলি ছুড়ে। সেই গুলি বাড়ির মালিকের ছেলে মিনহাজিন আবেদীনের পায়ে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

ওসি বলেন, ‘মিনহাজিন আবেদীনের স্বভাব—চরিত্র ভালো নয়। তিনি মাদক সেবন করেন।’

এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মো, শফিকুর রহমান বলেন, আড়াই হাজার থানা পুলিশ আমাকে বা ডেমরা থানাকে প্রথমে অবিহিত না করেই বামৈল এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ফাহিম, সজীব ও অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতন্ডাসহ ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে তদন্দে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে আড়াই হাজার থানা পুলিশ ডেমরা থানাকে জানালে টহলরত এসআই মো. আলমগীর তার ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি দেখতে পান ফাহিম গুলিবিদ্ধ ও এলাকার পরিস্থিতি গরম। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে আড়াই হাজার থানা পুলিশ ডেমরা থানা পুলিশের মাধ্যমে সজীবকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

ওসি আরও জানায়, ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সজীবকে ধরে আনতে গেলে গুলিবিদ্ধ ফাহিম ও তার ছোট ভাই—বন্ধুদের নেশাগ্রস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় নেশার ঘোরে কে পুলিশ, কে জনতা না বুঝেই পুলিশকে মেরে বসে তারা। এ ঘটনায় ফাহিম গুলিবিদ্ধ হয়।এদিকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ মিনহাজিন বলেন, দশ দিন আগে সজীব নামের ওই ব্যক্তি তাদের বাসা ভাড়া নেন। গভীর রাতে বাসায় পুলিশ আসার পর তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ গুলি করে। সেটি তার ঊরুতে লাগে।
তবে মিনহাজিনের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের দাবি, তার স্বামী মাদক সেবনসহ কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। দুই মাসের মধ্যে ফাহিমের আমেরিকা যাওয়ার কথা রয়েছে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন গুলিবিদ্ধ আহত যুবক ঢামেকের ১০১ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন