ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সমাবেশে সাংবাদিকনেতারা

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোড সময় : ০৫:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩
  • / ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসা নীতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপরও প্রয়োগ হতে পারে বলে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যে মন্তব্য করেছেন, তাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ বলে মনে করেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, পিটার হাসের বক্তব্য গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল। এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বরখেলাপ।

 

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘ভিসা নীতির নামে সংবাদমাধ্যমে মার্কিন চাপের প্রতিবাদ’ শীর্ষক এক সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন। এ সমাবেশের আয়োজক ‘জাস্টিস ফর জার্নালিস্ট’ নামের একটি সংগঠন। সমাবেশটি প্রথমে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে শুরু হয়। তবে বৃষ্টির কারণে পরে সমাবেশটি হয় প্রেস ক্লাবের তিনতলায় অবস্থিত আবদুস সালাম মিলনায়তনে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা ও মর্যাদা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল। ভিসা নীতির নামে হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভিসানীতি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিবাদ রাজনীতিবিদরা করবেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত যখন বললেন গণমাধ্যমও ভিসানীতির মধ্যে আসবে। এজন্যই আমরা আজকে মাঠে নেমেছি। পিটার হাসের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমে যে স্বাধীনতা আছে, এটা অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলে সংবিধানের ওপর। তবে রাজনীতির প্রয়োজনে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন হয়। আজকেও রাজনীতিবিদরা বলেছেন দেশে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। তবে একটি স্বাধীন দেশের ওপর বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ মানি না মানবো না। আমেরিকা বন্ধুর আচরণের বিপরীতে প্রভুর আচরণ করতে চায়। আমরা সেটি মানবো না। তারা ভিসানীতির ভয় দেখিয়ে অজাচিত হুমকি দেবেন, সেটা মেনে নিতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি জাতিকে ভিসানীতি বা স্যাংশনের ভয় দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসিকতা দেখিয়েছেন। আমরা তার পাশে দাঁড়াবো। নিজের শক্তি দিয়ে গণতান্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কারো চাপে কিছু করতে চাই না। রাজনীতির মাঠে যারা আছেন, তাদের উদ্দেশে বলছি সমঝোতার মাধ্যমে সবদলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

তিনি বলেন, কারো চোখ রাঙানোর কাছে মাথানত করবো না, সে দেশি-বিদেশি শক্তি হোক। স্বাধীনতার পরাভূত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চায়। তখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কোন শক্তির পক্ষে থাকবো। তবে কোনো অশুভ শক্তির কাছে গণমাধ্যম মাথানত করবে না।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরে চাপ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীরও বরখেলাপ।

তিনি বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে মার্কিন ভিসার জন্য প্রায় এক লাখ মানুষ আবেদন করেন। কিন্তু ভিসা পান প্রায় ২৭ হাজার মানুষ। তার মানে, একধরনের ভিসা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের আছেই। আজকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভিসা নীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য যেকোনো ধরনের লোভ ও হুমকি থেকে রক্ষা পেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওবায়দুল হক খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সংগঠনের সভাপতি কামরুল ইসলাম, সদস্য সচিব সাহিন বাবু, সিনিয়র সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান, আবু সাঈদ।

গত ২৪ মে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণার প্রায় চার মাস পর গত ২২ সেপ্টেম্বর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, গণমাধ্যমও মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় আসতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমাবেশে সাংবাদিকনেতারা

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ

আপলোড সময় : ০৫:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসা নীতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপরও প্রয়োগ হতে পারে বলে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যে মন্তব্য করেছেন, তাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ বলে মনে করেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, পিটার হাসের বক্তব্য গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল। এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বরখেলাপ।

 

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘ভিসা নীতির নামে সংবাদমাধ্যমে মার্কিন চাপের প্রতিবাদ’ শীর্ষক এক সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন। এ সমাবেশের আয়োজক ‘জাস্টিস ফর জার্নালিস্ট’ নামের একটি সংগঠন। সমাবেশটি প্রথমে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে শুরু হয়। তবে বৃষ্টির কারণে পরে সমাবেশটি হয় প্রেস ক্লাবের তিনতলায় অবস্থিত আবদুস সালাম মিলনায়তনে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা ও মর্যাদা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল। ভিসা নীতির নামে হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভিসানীতি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিবাদ রাজনীতিবিদরা করবেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত যখন বললেন গণমাধ্যমও ভিসানীতির মধ্যে আসবে। এজন্যই আমরা আজকে মাঠে নেমেছি। পিটার হাসের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমে যে স্বাধীনতা আছে, এটা অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলে সংবিধানের ওপর। তবে রাজনীতির প্রয়োজনে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন হয়। আজকেও রাজনীতিবিদরা বলেছেন দেশে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। তবে একটি স্বাধীন দেশের ওপর বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ মানি না মানবো না। আমেরিকা বন্ধুর আচরণের বিপরীতে প্রভুর আচরণ করতে চায়। আমরা সেটি মানবো না। তারা ভিসানীতির ভয় দেখিয়ে অজাচিত হুমকি দেবেন, সেটা মেনে নিতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি জাতিকে ভিসানীতি বা স্যাংশনের ভয় দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসিকতা দেখিয়েছেন। আমরা তার পাশে দাঁড়াবো। নিজের শক্তি দিয়ে গণতান্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কারো চাপে কিছু করতে চাই না। রাজনীতির মাঠে যারা আছেন, তাদের উদ্দেশে বলছি সমঝোতার মাধ্যমে সবদলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

তিনি বলেন, কারো চোখ রাঙানোর কাছে মাথানত করবো না, সে দেশি-বিদেশি শক্তি হোক। স্বাধীনতার পরাভূত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চায়। তখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কোন শক্তির পক্ষে থাকবো। তবে কোনো অশুভ শক্তির কাছে গণমাধ্যম মাথানত করবে না।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরে চাপ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীরও বরখেলাপ।

তিনি বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে মার্কিন ভিসার জন্য প্রায় এক লাখ মানুষ আবেদন করেন। কিন্তু ভিসা পান প্রায় ২৭ হাজার মানুষ। তার মানে, একধরনের ভিসা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের আছেই। আজকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভিসা নীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য যেকোনো ধরনের লোভ ও হুমকি থেকে রক্ষা পেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওবায়দুল হক খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সংগঠনের সভাপতি কামরুল ইসলাম, সদস্য সচিব সাহিন বাবু, সিনিয়র সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান, আবু সাঈদ।

গত ২৪ মে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণার প্রায় চার মাস পর গত ২২ সেপ্টেম্বর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, গণমাধ্যমও মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় আসতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন