ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও যানবাহনে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোড সময় : ১১:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৩৩৯ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ডাকা টানা তিন দিনের অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বুধবার (১ নভেম্বর) ও ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালী, নরসিংদী, নোয়াখালী ও ফেনীতে রাস্তা ও রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে অবরোধকারীরা। নেত্রকোণায় কেন্দুয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। খুলনা, সিলেট, বগুড়াসহ কয়েকটি এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ক্ষমতাসীনদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে আগের দিনের তুলনায় বুধবার সংঘর্ষের মাত্রা ছিল কম।

এদিকে গত মঙ্গলবার সংঘর্ষ-সংঘাতে নেতাকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বুধবার অবরোধের মধ্যেই কিশোরগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের চার জেলায় হরতাল পালন করেছে স্থানীয় বিএনপি। এর মধ্যে সিলেটে অবরোধকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

অবরোধের প্রথম দিনে সংঘর্ষ ও নাশকতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা তিন মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৯০০ জনকে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে তিন পুলিশকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বরিশালে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় বিএনপির সাবেক দুই সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হরতালের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকার রাস্তায় সকাল থেকে গাড়ির সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। বেলা বাড়ার পর আগের দিনের চেয়ে বুধবার রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল কিছুটা বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল। তাই পরিবহন সংকটে বুধবারও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের।
ঢাকার প্রতিবেদক এবং ব্যুরো অফিস, জেলা ও উপজেলা প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর :

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন

অবরোধ সমর্থনে বুধবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও পিকেটিং করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিএনপির মিত্র দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ (নুর), ১২ দলীয় জোটসহ আরও কয়েকটি দল রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এর বাইরে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী কয়েকটি জায়গায় মিছিল-মিটিং করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবারও ছিল পুলিশের সতর্ক পাহারা। বিভিন্ন এলাকায় এন্টি পার্সোনাল কার, রায়ট কার ও জলকামানসহ দাঙ্গা দমন সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত ছিল পুলিশ।

বিএনপির অবরোধ ঘিরে বুধবারও রাজধানীতে সতর্ক অবস্থানে ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল থেকে নেতাকর্মীদের ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসতে দেখা যায়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অবরোধবিরোধী মিছিলও হয়েছে।

বুধবারও ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে বেশিরভাগ বাসই ছাড়েনি। তবে মহাখালী টার্মিনাল থেকে এনা ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে বিআরটিসির ৫-৭টি বাস ছেড়ে গেছে। সদরঘাটে যাত্রী সংকটে লঞ্চ দেরিতে ছেড়েছে এবং বেশ কয়েকটি লঞ্চের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চ। তবে অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বুধবার রাজধানীতে যানবাহন চলাচল বেড়েছে। নগরীতে কিছু শপিংমল খোলা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম।

পুলিশের পাশাপাশি বুধবারও বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এর মধ্যেই বুধবার মুগদা, কাফরুল ও শ্যামলীতে তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শ্যামলীতে একটি যাত্রীবাহী বাসের পেছনের অংশে আগুন দেওয়া হয়। তবে আগুনে কেউ হতাহত হয়নি।

ঈশ্বরদীতে মৈত্রী ট্রেনে হামলা

অবরোধের দ্বিতীয় দিনে ঈশ্বরদীতে রেললাইন অবরোধ করে কলকাতা-ঢাকা রুটের আন্তর্জাতিক মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাদের নিক্ষেপ করা পাথরে ট্রেনের কয়েকটি বগির জানালার গ্লাস ভেঙেছে। এ সময় রেললাইনের পাশের ঝোপে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে লোকোসেড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ককটেল ও পেট্রোল বোমার বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে সকাল ৯টার দিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা অবরোধ সফল করার লক্ষ্যে রেলগেট থেকে কড়ইতলা মোড় এলাকা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

প্রত্যক্ষদরর্শীরা জানায়, বিএনপির লোকজন প্রথমে রেললাইনের পাশের বনের ঝাড়ে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করে। তারা এ সময় বিভিন্ন স্লোগানও দেয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা-ঢাকা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ও পাথর নিক্ষেপ করেছে। নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে।

ঈশ্বরদী লোকোসেড রেলগেটের গেটম্যান শরিফুল ইসলাম জানান, হামলার কারণে ট্রেনটি দ্রুত ঢাকার দিকে চলে যায়। মোবাইল ফোনে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকো মাস্টার (চালক) রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ট্রেন নিয়ে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা পাথর নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

খবর পেয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে যুবলীগ নেতা দোলন বিশ্বাস, মিলন চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ র‍্যাব, বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চট্টগ্রামে চার গাড়িতে আগুন

বুধবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে চারটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর কোতোয়ালি থানার কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে পিকেটিং করার সময় ককটেল ও পেট্রোল বোমাসহ এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার অবরোধের প্রথম দিনের চেয়ে যান চলাচল বেড়েছে। তবে নগরীর তিনটি বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। নগরীর ভেতরে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও আন্তঃজেলা যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় মানুষজনও কম।

বুধবার আগুন দেওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে একটি পণ্যবাহী লরি, একটি যাত্রীবাহী বাস ও দুটি ট্রাক। এর মধ্যে সকালে কর্ণফুলী থানা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। এর আগে ভোর ৪টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের চৌধুরী গোট্টা এলাকায় দুটি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। দুপুরে কোতোয়ালি থানার কদমতলী মোড়ের কাছে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সদস্য তৌহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলা অংশে শেখপাড়া এলাকায় একটি রডবাহী লরিতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় লরিচালক আহত হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপূরে অবরোধ সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাকলিয়ায় শান্তি সমাবেশ থেকে ফেরার পথে দলীয় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন মো. তৈয়ব নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা।

বগুড়ায় পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন

বুধবার বগুড়ার দুটি পয়েন্টে মহাসড়কের দখল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে শহরের মাটিডালি এবং বেলা পৌনে ১০টার দিকে তিনমাথা এলাকায় ওই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উভয় স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল ছুড়ে মারে। জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

এ ছাড়া দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বাঘোপাড়া এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা পণ্যবাহী একটি ট্রাকে আগুন দেয়। অবরোধ চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পণ্যবাহী ৫০টি ট্রাক শহরের সীমানা অতিক্রম করতে সহায়তা করেন। এদিকে অবরোধের প্রথম দিন সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রাশেদ রহমান নামে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক সদস্যকে বুধবার সকালে শহরের তিনমাথা এলাকা গ্রেপ্তার করেছে। বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, রাশেদ রহমান যুবদলের সদস্য। অবরোধের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শহরের কয়েকটি পয়েন্টে ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। অন্যদিকে অবরোধের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহরের বনানী এবং মাটিডালি এলাকায় সমাবেশ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের তিন উপজেলায় ফের সংঘর্ষ-আগুন

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, সোনারগাঁ এবং রূপগঞ্জ উপজেলায় বুধবারও রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ সময় আড়াইহাজারে পণ্যবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি সিএনজি ভাঙচুর করে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা।

বুধবার সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথকভাবে মহাসড়কে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের কর্মী-সমর্থকরা আড়াইহাজার উপজেলার বান্টিবাজার এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুর করেন ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

একই দিনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের কর্মী-সমর্থকরা সোনারগাঁয়ের নয়াপুরে ঢাকা-সিলেট এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামানের কর্মীরা রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পূর্বাচল লালমাটি এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় একটি ট্রাক ভাঙচুর করে বিক্ষোভ করেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে ফতুল্লা থানা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি যুব উন্নয়ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা রাস্তায় ঝুট কাপড় ও টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।

সিলেটে অবরোধের মধ্যেই হরতাল, পাল্টাধাওয়া

পুলিশের ধাওয়ায় যুবদল নেতা নিহতের প্রতিবাদে বুধবার অবরোধের পাশাপাশি হরতাল কর্মসূচিও পালন করেছে বিএনপি। তবে বিএনপি-জামায়াত যাতে রাজপথে বের হতে না পারে, সেজন্য বুধবার সকাল থেকেই তৎপর ছিল আওয়ামী লীগ। অবরোধ ও হরতালের প্রতিবাদে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল, মোটরসাইকেল মহড়া ও শান্তি সমাবেশ করেছে তারা। এদিকে অবরোধ বা হরতালের সমর্থনে বিএনপি-জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীকে নগরীতে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতাকর্মী বন্দরবাজার পয়েন্টে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর আর নগরীতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, হরতাল এবং অবরোধের প্রতিবাদে সকাল ৮টায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা নগরীতে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেন। এরপর মিছিল নিয়ে দক্ষিণ সুরমায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের হুমায়ুন রশিদ চত্বর, চণ্ডিরপুল পয়েন্ট ও লালাবাজার এলাকায় পৃথক পৃথক শান্তি সমাবেশ করে। এতে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ত্রিমুখী এ সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো রক্তপাত না হলেও নগরীজুড়ে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের আলীনগর-সাবসেন এলাকায় যুবদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের কারোরই নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জে হরতালে সরব বিএনপি, ১৯০০ জনের নামে মামলা

অবরোধের প্রথম দিনে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে বুধবার আধাবেলা হরতালও পালন করেছে জেলা বিএনপি। বুধবার সকালে শহরের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় হরতাল সমর্থনকারীরা সকালে সড়কে টায়ার পোড়ান। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শহরের বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থায় আছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল ৯টার দিকে শহরের নতুন জেলখানা মোড়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেন হরতাল সমর্থনকারীরা। ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদরের সাদুল্লারচর এলাকায় সকাল ৭টার দিকে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন হরতাল সমর্থনকারীরা।

ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধের সময় কুলিয়ারচরে নিহত দুজনের বিচার চেয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম, যুববিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু নাসের, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ প্রমুখ।

বিএনপির অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধকারীরা চলে যান। পুলিশ সড়ক থেকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে সড়ক ও মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

সকাল ৯টার দিকে নতুন জেলখানা মোড়ে হরতাল সমর্থনকারীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে ধাওয়া দিলে তারা চলে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের কোনো ভিড় নেই। সব বাস সারিবদ্ধভাবে রাখা।

এদিকে কুলিয়ারচরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে দায়ী করা এসব মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমসহ বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের ১৯০০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার সকালে মামলাগুলো করা হয়। এসব মামলায় বুধবার সকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক পারভেজ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬০০ জনকে আসামি করে দুটি এবং বাজরা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম বাদী হয়ে বুধবার সকালে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

কুলিয়ারচর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে হাজারেরও বেশিসংখ্যক লোক অস্ত্রসহ ছয়সূতি এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করতে ইটপাটকেল, ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তারা চারদিক দিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলে। পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় থানার কর্তব্যরত এএসআই মান্নান, এএসআই সাকিনুর, এএসআই জুয়েলসহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। এসব ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও যানবাহনে আগুন

আপলোড সময় : ১১:৪৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০২৩

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ডাকা টানা তিন দিনের অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বুধবার (১ নভেম্বর) ও ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালী, নরসিংদী, নোয়াখালী ও ফেনীতে রাস্তা ও রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে অবরোধকারীরা। নেত্রকোণায় কেন্দুয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। খুলনা, সিলেট, বগুড়াসহ কয়েকটি এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ক্ষমতাসীনদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে আগের দিনের তুলনায় বুধবার সংঘর্ষের মাত্রা ছিল কম।

এদিকে গত মঙ্গলবার সংঘর্ষ-সংঘাতে নেতাকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বুধবার অবরোধের মধ্যেই কিশোরগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের চার জেলায় হরতাল পালন করেছে স্থানীয় বিএনপি। এর মধ্যে সিলেটে অবরোধকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

অবরোধের প্রথম দিনে সংঘর্ষ ও নাশকতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা তিন মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৯০০ জনকে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে তিন পুলিশকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বরিশালে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় বিএনপির সাবেক দুই সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হরতালের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকার রাস্তায় সকাল থেকে গাড়ির সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। বেলা বাড়ার পর আগের দিনের চেয়ে বুধবার রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল কিছুটা বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল। তাই পরিবহন সংকটে বুধবারও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের।
ঢাকার প্রতিবেদক এবং ব্যুরো অফিস, জেলা ও উপজেলা প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর :

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন

অবরোধ সমর্থনে বুধবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও পিকেটিং করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিএনপির মিত্র দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ (নুর), ১২ দলীয় জোটসহ আরও কয়েকটি দল রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এর বাইরে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী কয়েকটি জায়গায় মিছিল-মিটিং করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবারও ছিল পুলিশের সতর্ক পাহারা। বিভিন্ন এলাকায় এন্টি পার্সোনাল কার, রায়ট কার ও জলকামানসহ দাঙ্গা দমন সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত ছিল পুলিশ।

বিএনপির অবরোধ ঘিরে বুধবারও রাজধানীতে সতর্ক অবস্থানে ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল থেকে নেতাকর্মীদের ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসতে দেখা যায়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অবরোধবিরোধী মিছিলও হয়েছে।

বুধবারও ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে বেশিরভাগ বাসই ছাড়েনি। তবে মহাখালী টার্মিনাল থেকে এনা ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে বিআরটিসির ৫-৭টি বাস ছেড়ে গেছে। সদরঘাটে যাত্রী সংকটে লঞ্চ দেরিতে ছেড়েছে এবং বেশ কয়েকটি লঞ্চের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চ। তবে অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বুধবার রাজধানীতে যানবাহন চলাচল বেড়েছে। নগরীতে কিছু শপিংমল খোলা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম।

পুলিশের পাশাপাশি বুধবারও বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এর মধ্যেই বুধবার মুগদা, কাফরুল ও শ্যামলীতে তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শ্যামলীতে একটি যাত্রীবাহী বাসের পেছনের অংশে আগুন দেওয়া হয়। তবে আগুনে কেউ হতাহত হয়নি।

ঈশ্বরদীতে মৈত্রী ট্রেনে হামলা

অবরোধের দ্বিতীয় দিনে ঈশ্বরদীতে রেললাইন অবরোধ করে কলকাতা-ঢাকা রুটের আন্তর্জাতিক মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাদের নিক্ষেপ করা পাথরে ট্রেনের কয়েকটি বগির জানালার গ্লাস ভেঙেছে। এ সময় রেললাইনের পাশের ঝোপে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে লোকোসেড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ককটেল ও পেট্রোল বোমার বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে সকাল ৯টার দিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা অবরোধ সফল করার লক্ষ্যে রেলগেট থেকে কড়ইতলা মোড় এলাকা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

প্রত্যক্ষদরর্শীরা জানায়, বিএনপির লোকজন প্রথমে রেললাইনের পাশের বনের ঝাড়ে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করে। তারা এ সময় বিভিন্ন স্লোগানও দেয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা-ঢাকা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ও পাথর নিক্ষেপ করেছে। নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে।

ঈশ্বরদী লোকোসেড রেলগেটের গেটম্যান শরিফুল ইসলাম জানান, হামলার কারণে ট্রেনটি দ্রুত ঢাকার দিকে চলে যায়। মোবাইল ফোনে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকো মাস্টার (চালক) রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ট্রেন নিয়ে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা পাথর নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

খবর পেয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে যুবলীগ নেতা দোলন বিশ্বাস, মিলন চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ র‍্যাব, বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চট্টগ্রামে চার গাড়িতে আগুন

বুধবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে চারটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর কোতোয়ালি থানার কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে পিকেটিং করার সময় ককটেল ও পেট্রোল বোমাসহ এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার অবরোধের প্রথম দিনের চেয়ে যান চলাচল বেড়েছে। তবে নগরীর তিনটি বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। নগরীর ভেতরে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও আন্তঃজেলা যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় মানুষজনও কম।

বুধবার আগুন দেওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে একটি পণ্যবাহী লরি, একটি যাত্রীবাহী বাস ও দুটি ট্রাক। এর মধ্যে সকালে কর্ণফুলী থানা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। এর আগে ভোর ৪টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের চৌধুরী গোট্টা এলাকায় দুটি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। দুপুরে কোতোয়ালি থানার কদমতলী মোড়ের কাছে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সদস্য তৌহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলা অংশে শেখপাড়া এলাকায় একটি রডবাহী লরিতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় লরিচালক আহত হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপূরে অবরোধ সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাকলিয়ায় শান্তি সমাবেশ থেকে ফেরার পথে দলীয় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন মো. তৈয়ব নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা।

বগুড়ায় পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন

বুধবার বগুড়ার দুটি পয়েন্টে মহাসড়কের দখল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে শহরের মাটিডালি এবং বেলা পৌনে ১০টার দিকে তিনমাথা এলাকায় ওই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উভয় স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল ছুড়ে মারে। জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

এ ছাড়া দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বাঘোপাড়া এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা পণ্যবাহী একটি ট্রাকে আগুন দেয়। অবরোধ চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পণ্যবাহী ৫০টি ট্রাক শহরের সীমানা অতিক্রম করতে সহায়তা করেন। এদিকে অবরোধের প্রথম দিন সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রাশেদ রহমান নামে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক সদস্যকে বুধবার সকালে শহরের তিনমাথা এলাকা গ্রেপ্তার করেছে। বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, রাশেদ রহমান যুবদলের সদস্য। অবরোধের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শহরের কয়েকটি পয়েন্টে ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। অন্যদিকে অবরোধের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহরের বনানী এবং মাটিডালি এলাকায় সমাবেশ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের তিন উপজেলায় ফের সংঘর্ষ-আগুন

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, সোনারগাঁ এবং রূপগঞ্জ উপজেলায় বুধবারও রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ সময় আড়াইহাজারে পণ্যবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি সিএনজি ভাঙচুর করে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা।

বুধবার সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথকভাবে মহাসড়কে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের কর্মী-সমর্থকরা আড়াইহাজার উপজেলার বান্টিবাজার এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুর করেন ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

একই দিনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের কর্মী-সমর্থকরা সোনারগাঁয়ের নয়াপুরে ঢাকা-সিলেট এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামানের কর্মীরা রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পূর্বাচল লালমাটি এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় একটি ট্রাক ভাঙচুর করে বিক্ষোভ করেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে ফতুল্লা থানা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি যুব উন্নয়ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা রাস্তায় ঝুট কাপড় ও টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।

সিলেটে অবরোধের মধ্যেই হরতাল, পাল্টাধাওয়া

পুলিশের ধাওয়ায় যুবদল নেতা নিহতের প্রতিবাদে বুধবার অবরোধের পাশাপাশি হরতাল কর্মসূচিও পালন করেছে বিএনপি। তবে বিএনপি-জামায়াত যাতে রাজপথে বের হতে না পারে, সেজন্য বুধবার সকাল থেকেই তৎপর ছিল আওয়ামী লীগ। অবরোধ ও হরতালের প্রতিবাদে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল, মোটরসাইকেল মহড়া ও শান্তি সমাবেশ করেছে তারা। এদিকে অবরোধ বা হরতালের সমর্থনে বিএনপি-জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীকে নগরীতে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতাকর্মী বন্দরবাজার পয়েন্টে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর আর নগরীতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, হরতাল এবং অবরোধের প্রতিবাদে সকাল ৮টায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা নগরীতে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেন। এরপর মিছিল নিয়ে দক্ষিণ সুরমায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের হুমায়ুন রশিদ চত্বর, চণ্ডিরপুল পয়েন্ট ও লালাবাজার এলাকায় পৃথক পৃথক শান্তি সমাবেশ করে। এতে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ত্রিমুখী এ সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো রক্তপাত না হলেও নগরীজুড়ে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের আলীনগর-সাবসেন এলাকায় যুবদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের কারোরই নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জে হরতালে সরব বিএনপি, ১৯০০ জনের নামে মামলা

অবরোধের প্রথম দিনে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে বুধবার আধাবেলা হরতালও পালন করেছে জেলা বিএনপি। বুধবার সকালে শহরের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় হরতাল সমর্থনকারীরা সকালে সড়কে টায়ার পোড়ান। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শহরের বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থায় আছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল ৯টার দিকে শহরের নতুন জেলখানা মোড়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেন হরতাল সমর্থনকারীরা। ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদরের সাদুল্লারচর এলাকায় সকাল ৭টার দিকে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন হরতাল সমর্থনকারীরা।

ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধের সময় কুলিয়ারচরে নিহত দুজনের বিচার চেয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম, যুববিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু নাসের, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ প্রমুখ।

বিএনপির অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধকারীরা চলে যান। পুলিশ সড়ক থেকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে সড়ক ও মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

সকাল ৯টার দিকে নতুন জেলখানা মোড়ে হরতাল সমর্থনকারীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে ধাওয়া দিলে তারা চলে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের কোনো ভিড় নেই। সব বাস সারিবদ্ধভাবে রাখা।

এদিকে কুলিয়ারচরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে দায়ী করা এসব মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমসহ বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের ১৯০০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার সকালে মামলাগুলো করা হয়। এসব মামলায় বুধবার সকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক পারভেজ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬০০ জনকে আসামি করে দুটি এবং বাজরা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম বাদী হয়ে বুধবার সকালে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

কুলিয়ারচর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে হাজারেরও বেশিসংখ্যক লোক অস্ত্রসহ ছয়সূতি এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করতে ইটপাটকেল, ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তারা চারদিক দিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলে। পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় থানার কর্তব্যরত এএসআই মান্নান, এএসআই সাকিনুর, এএসআই জুয়েলসহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। এসব ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন