ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

আবু আজওয়াদ আহমাদ হাশেমী
আবু আজওয়াদ আহমাদ হাশেমী
  • আপলোড সময় : ০১:৫০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪
  • / ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীর প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মানুষের প্রধান ভাষা এবং প্রায় ২২টি দেশের রাষ্ট্রভাষা আরবী। কুরআন-হাদীসের ভাষা আরবী। বর্তমানে আলজেরিয়া, বাহরাইন, চাঁদ, কমোরোস, জিবুতি, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনিশিয়া, সংয়ুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় ভাষা। এসব আরব দেশ ছাড়াও তুরস্ক, মালয়েশিয়া, সেনেগালসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আরবী ভাষার ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। বিশ্বের ৪২২ মিলিয়ন আরব জনগোষ্ঠী এবং দেড়শ’ কোটিরও বেশি মুসলিম তাদের দৈনন্দিন জীবনে আরবী ভাষা ব্যবহার করে থাকেন।
জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসিসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিসিয়াল ভাষা হলো আরবি। শুধু তাই নয়; ট্রেড ল্যাংগুয়েজ হিসেবে এ ভাষা অনারব দেশেও প্রায় প্রতিটি পণ্যের মোড়কে স্থান পায়। ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ভালোভাবে জানতে হলে আরবী ভাষার জ্ঞান অত্যাবশ্যকীয়। যুগে যুগে মুসলিম পন্ডিতগণ ইজতিহাদের জন্য আবশ্যক আরবীভাষার নাহু-সরফের জ্ঞান, শব্দভান্ডার, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমানে জ্ঞান রাখতেন।

নিম্নে কুরআন, সুন্নাহ, মনিষীদের উক্তির আলোকে আরবী ভাষার প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হলো-
আল কুরআনের আলোকে আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১. আল্লাহ তাআলা বলেন:
إنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ [يوسف: ٢]
নিশ্চয়ই আমি আরবী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। (সুরা ইউসুফ : ২)
২. আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَكَذَلِكَ أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا [طه: 113]
এমনিভাবে আমি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে চিন্তার খোরাক যোগায়। (সুরা তহা : ১১৩)
৩. আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِن كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ – قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ [الزمر: 27، 28]
আমি এ কোরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে; আরবী ভাষায় এ কোরআন বক্রতামুক্ত, যাতে তারা সাবধান হয়ে চলে। (সুরা যুমার : ২৭ ও ২৮)

৪. আল্লাহ তাআলা বলেন :
{حم» تَنزِيلٌ مِّنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ- كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِّقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [فصلت: ١ – ٣]
হা-মীম। (১) এটা অবতীর্ণ পরম করুণাময়, দয়ালুর পক্ষ থেকে। (২) এটা কিতাব, এর আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত আরবী কোরআনরূপে জ্ঞানী লোকদের জন্য।(সুরা ফুসসিলাত : ১-৩)
৫. আল্লাহ তাআলা বলেন :
{حـم» 1 وَالْكِتَابِ الْـمُبِينِ 2 إنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ 3 وَإنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ [الزخرف: ١ – ٤].
হা-মীম। (1) শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, (2) আমি একে করেছি কোরআন, আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝ। (3) নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুযে। (সুরা যুখরুফ : ১-৪)

৬. আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِّتُنذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنذِرَ يَوْمَ الْـجَمْعِ لا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْـجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ [الشورى: ٧].
এমনি ভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা শুরা : ৭)
উপরোক্ত আয়াতসমূহে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণের ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং আল কুরআনের জন্য মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ভাষাসমূহ থেকে আরবী ভাষাকে নির্বাচন করার ফলে আরবী ভাষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব প্রতীয়মান হয়।
আল হাদীসের আলোকে আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন হাদীসে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। নিম্নে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উল্লেখযোগ্য কিছু হাদীস উপস্থাপন করা হলো-

১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন :
أحبُّوا العربَ لثلاثٍ، لأني عربيٌّ، والقرآنُ عربيٌّ، وكلامُ أهلِ الجنةِ عربيٌّ
তোমরা আরবী ভাষাকে তিন কারণে ভালোবাস; [এক] নিশ্চয়ই আমি আরবীভাষী [দুই] কুরআন আরবী ভাষায় অবতীর্ণ [তিন] জান্নাতবাসীর ভাষা হবে আরবী। (মুজামুল কাবীর লিত তাবরানী)
উপরোক্ত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবী ভাষা শিখতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং এ ব্যাপারে উম্মাহকে আদেশ করেছেন।

২. হযরত আলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إنَّ أول من فُتق لسانه بالعربية المبينة إسماعيل، وَهُوَ ابنُ أربعَ عشرةَ سنةٍ
হযরত ইসমাঈল [আলাইহিস সালাম] সর্বপ্রথম সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ আরবী ভাষায় কথা বলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর।
৩. অপর একটি হাদীসে হযরত হাজেরা ও ইসমাঈল [আলাইহিস সালাম] এর ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেন:
فألْفَى ذلكَ أُمَّ إسْمَاعِيلَ وهي تُحِبُّ الإنْسَ فَنَزَلُوا وأَرْسَلُوا إلى أَهْلِيهِمْ فَنَزَلُوا معهُمْ، حتَّى إذَا كانَ بهَا أَهْلُ أَبْيَاتٍ منهمْ، وشَبَّ الغُلَامُ وتَعَلَّمَ العَرَبِيَّةَ منهمْ، وأَنْفَسَهُمْ وأَعْجَبَهُمْ حِينَ شَبَ.
…হযরত ইসমাঈল ও হাজেরা [আলাইহিস সালাম] এর প্রতিবেশী হলেন কিছু আরবীভাষী। হযরত ইসমাঈল [আলাইহিস সালাম] কৈশরে তাদের থেকে আরবী ভাষা শিখলেন এবং আরবী ভাষায় চমৎকার বুৎপত্তি অর্জন করেন।
প্রিয়নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর আলোচিত হাদীসসমূহ থেকে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

মুসলিম মনীষীদের উক্তির আলোকে আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
যুগে যুগে মুসলিম মনীষীগণ আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
নিম্নে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মুসলিম মনীষীদের উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা হলো-
১. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বলেন :
«تَعَلَّمُوا الْعَرَبِيَّةَ فَإِنَّهَا تُثَبِّتُ الْعَقْلَ، وَتَزِيدُ فِي الْمُرُوءَةِ
(شعب الإيمان، أبو بكر البيهقي، مكتبة الرشد للنشر والتوزيع، الرياض، 1423هـ – 2003م، (ح:1555)
তোমরা আরবী ভাষা শিক্ষা কর, নিশ্চয়ই তা মস্তিষ্ককে দৃঢ় করে এবং ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধি করে। (শুআবুল ঈমান)
২. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হযরত আবু মুসা আসআরী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কে চিঠি লিখেন-
«أَمَّا بَعْدُ فَتَفَقَّهُوا فِي السُّنَّةِ، وَتَفَقَّهُوا فِـي الْعَرَبِيَّةِ، وَأَعْرِبُــوا الْقُـــرْآنَ فَإِنَّهُ عَرَبِيٌ
(الكتاب المصنف في الأحاديث والآثار، أبو بكر بن أبي شيبة، مكتبة الرشد، الرياض، 1409هـ، (ح: 29914)
…অত:পর তোমরা সুন্নাহ ও আরবী ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন কর এবং আরবী ভাষায় কুরআন পাঠ কর। কেননা কুরআন আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। (আল কিতাবুল মুসান্নাফ)
৩. আল্লামা ইবনে তাইমিয়া [রহিমাহুল্লাহ] বলেন :
معلومٌ أنّ تعلمَ العربية وتعليمَ العربية فرضٌ على الكفاية، وكان السلف يؤدّبون أوﻻدهم على اللحن
জেনে রাখা ভালো যে, আরবী ভাষা শেখা ও শিখানো ফরজে কিফায়া। সালাফগণ তাদের সন্তানকে আরবী ভাষা শিখাতেন।
মুসলিম মনীষীগণের উপরোক্ত উদ্ধৃতিসমূহ থেকে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

অমুসলিম মনীষীদের উক্তির আলোকে আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:
যুগে যুগে অমুসলিম মনীষীগণ আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
নিম্নে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অমুসলিম মনীষীদের উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা হলো-

১. জার্মান প্রাচ্যবিদ নোল্ডাক বলেন :
নিশ্চয় আরবী ভাষা বিশ্বসার্বজনীনতা অর্জন করেছে কুরআন ও ইসলামের কারণে। আরবী ভাষাবিদগণ অত্যন্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের সামনে ক্লাসিক আরবীর ভিত্তি স্থাপন করেছেন। তারা আরবী শব্দভান্ডারের জন্যও বিরাট অবদান রেখেছেন। ফলশ্রুতিতে যে কোন ব্যক্তিই আরবী ভাষার শব্দভান্ডার দেখে বিস্ময়ে অভিভুত হবে।

২. ফরাসী প্রাচ্যবিদ রিনান বলেন :
এটি একটি বিস্ময় যে, মরুভূমির মাঝে বিকশিত হওয়া একটি জাতির ভাষা তার শব্দভান্ডার, সূক্ষ অর্থ, সুশৃংখল নিয়ামাবলী ও সুন্দর গঠনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাষাজগতের সমগোত্রিয় বহু ভাষার উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। বস্তুত আরবী ভাষার সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে এমন কোন পৃথিবীতে নেই।

৩. জার্মান প্রাচ্যবিদ জেফর হোংক বলেন :
মানুষের পক্ষে এই ভাষার [আরবীর] সৌন্দর্য পরিমাপ করা সম্ভব নয়। আরবী ভাষা তার সৌন্দর্য গুণে প্রতিবেশি অনেক ভাষার স্থান দখল করেছে। যেমন : কিবতি ভাষা, আরামিয়া ভাষা যা ছিল খৃষ্টানদের তা মুহাম্মাদের ভাষার প্রভাবে আজ বিলুপ্তপ্রায়।

৪. প্রাচ্যবিদ ব্রোকলমান বলেন :
আরবী ভাষা কুরআনের ভাষা হওয়ার কারণ বিশ্বসভায় এমন এক অবস্থান অর্জন করেছে যা পৃথিবীর অন্য কোন ভাষার পক্ষে অসম্ভব। বিশ্বের সকল মুসলিম মনে করে যে, আরবী ভাষার ব্যবহার ব্যতিত তাদের সালাত বিশুদ্ধ হয় না। আরবী ভাষার সার্বজনীন এ অবস্থানের পেছনে মুসলিমদের ধর্মীয় রীতিনীতিরও বড় ভূমিকা রয়েছে।

প্রাচ্যবিদ হলেন সেসকল অমুসলিম পণ্ডিত; যারা ইসলামকে বুঝার জন্য কিংবা ইসলামের ভুল খুঁজে বের করার জন্য আরবী ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করে ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। কয়েকজন উল্লেখযোগ্য প্রাচ্যবিদের উপরোক্ত উদ্ধৃতি থেকে আরবী ভাষার গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

সর্বশ্রেষ্ঠ কয়েকজন আরবী কবি ও সাহিত্যিকের নাম
• কয়েকজন শ্রেষ্ঠ আরবী কবির নাম :
১. মাহমুদ দরবেশ
২. ইমরুল কায়েস
৩. নিযার কুবানী
৪. মুতানাব্বী
৫. আহমাদ শাওকী
৬. হামদ বিন খলিফা আবু শিহাব
৭. খানসা
৮. আনতারা ইবনে শাদ্দাদ
৯. হিন্দ বিন উতবা
১০. আদি বিন রবীআ

• কয়েকজন শ্রেষ্ঠ আরবী সাহিত্যিকের নাম :
১. আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ
২. আবু তাইয়েব মুতানাব্বী
৩. ফারাযদাক
৪. আলী আল হাসরী আল কাইরাওয়ানী
৫. ইমাম শাফেয়ী
৫. আব্দুল গনী আননাবলুসী
৬. আবুল হাসান আলী আননদবী
৭. আল জাহেয
৮. আলবুসিরী
৯. মোস্তফা লুতফী আল মানফালুতী
১০. শরীফ রেজা

অনারবী কয়েকজন সফল আরবী ভাষা অভিযাত্রীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
আরবীভাষী না হয়েও অনেক অনারবী ভাষায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন এবং আরবী ভাষায় এমন অসামান্য অবদান রেখেছেন যা কখনো বিস্মৃত হবে না। নিম্নে আরবী ভাষায় সফল কয়েকজন অনারবী অভিযাত্রীর সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করা হলো-

১. ইমাম যামাখশরী
পুরো নাম : আবুল কাসেম মাহমুদ ইবনে আমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর আল খাওয়ারিজমী আয যামাখশরী। কাশশাফ, আসাসুল বালাগাহ প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা। ৫৩৮ হিজরীতে আরবী ভাষার এ মহান সাধক ইন্তেকাল করেন।

২. ইমাম সিবওয়াই
ইমাম সিবওয়াই ছিলেন পারস্যের বাসিন্দা। পুরো নাম : আমর ইবনে উসমান ইবনে কান্বার। আরবী ভাষায় ইমাম সিবওয়াই এর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি ছিলেন আরবী ব্যাকরণ শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম ও পুরোধা। তিনি ১৮০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

৩. ইমাম আবুল হাসান আলী মিয়া নদবী
ইমাম আবুল হাসান আলী মিয়া নদবীর আরবী ভাষায় পারঙ্গমতা আরবী বিশ্বে সর্বজনবিদিত। আরবী ভাষায় তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাযা খাসিরাল আলাম বিইনহিতাতিল মুসলিমিন” আরবী ভাষা সাহিত্যের একটি অমর গ্রন্থ। আবুল হাসান আলী নদবী ১৯১৪ সালে ভারতের রায়বেরেলীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২ শে ডিসেম্বর ১৯৯৯ এ তিনি ইন্তেকাল করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

আপলোড সময় : ০১:৫০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

পৃথিবীর প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মানুষের প্রধান ভাষা এবং প্রায় ২২টি দেশের রাষ্ট্রভাষা আরবী। কুরআন-হাদীসের ভাষা আরবী। বর্তমানে আলজেরিয়া, বাহরাইন, চাঁদ, কমোরোস, জিবুতি, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনিশিয়া, সংয়ুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় ভাষা। এসব আরব দেশ ছাড়াও তুরস্ক, মালয়েশিয়া, সেনেগালসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আরবী ভাষার ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। বিশ্বের ৪২২ মিলিয়ন আরব জনগোষ্ঠী এবং দেড়শ’ কোটিরও বেশি মুসলিম তাদের দৈনন্দিন জীবনে আরবী ভাষা ব্যবহার করে থাকেন।
জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসিসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিসিয়াল ভাষা হলো আরবি। শুধু তাই নয়; ট্রেড ল্যাংগুয়েজ হিসেবে এ ভাষা অনারব দেশেও প্রায় প্রতিটি পণ্যের মোড়কে স্থান পায়। ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ভালোভাবে জানতে হলে আরবী ভাষার জ্ঞান অত্যাবশ্যকীয়। যুগে যুগে মুসলিম পন্ডিতগণ ইজতিহাদের জন্য আবশ্যক আরবীভাষার নাহু-সরফের জ্ঞান, শব্দভান্ডার, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমানে জ্ঞান রাখতেন।

নিম্নে কুরআন, সুন্নাহ, মনিষীদের উক্তির আলোকে আরবী ভাষার প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হলো-
আল কুরআনের আলোকে আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১. আল্লাহ তাআলা বলেন:
إنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ [يوسف: ٢]
নিশ্চয়ই আমি আরবী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। (সুরা ইউসুফ : ২)
২. আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَكَذَلِكَ أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا [طه: 113]
এমনিভাবে আমি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে চিন্তার খোরাক যোগায়। (সুরা তহা : ১১৩)
৩. আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِن كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ – قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ [الزمر: 27، 28]
আমি এ কোরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে; আরবী ভাষায় এ কোরআন বক্রতামুক্ত, যাতে তারা সাবধান হয়ে চলে। (সুরা যুমার : ২৭ ও ২৮)

৪. আল্লাহ তাআলা বলেন :
{حم» تَنزِيلٌ مِّنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ- كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِّقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [فصلت: ١ – ٣]
হা-মীম। (১) এটা অবতীর্ণ পরম করুণাময়, দয়ালুর পক্ষ থেকে। (২) এটা কিতাব, এর আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত আরবী কোরআনরূপে জ্ঞানী লোকদের জন্য।(সুরা ফুসসিলাত : ১-৩)
৫. আল্লাহ তাআলা বলেন :
{حـم» 1 وَالْكِتَابِ الْـمُبِينِ 2 إنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ 3 وَإنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ [الزخرف: ١ – ٤].
হা-মীম। (1) শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, (2) আমি একে করেছি কোরআন, আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝ। (3) নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুযে। (সুরা যুখরুফ : ১-৪)

৬. আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِّتُنذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنذِرَ يَوْمَ الْـجَمْعِ لا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْـجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ [الشورى: ٧].
এমনি ভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা শুরা : ৭)
উপরোক্ত আয়াতসমূহে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণের ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং আল কুরআনের জন্য মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ভাষাসমূহ থেকে আরবী ভাষাকে নির্বাচন করার ফলে আরবী ভাষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব প্রতীয়মান হয়।
আল হাদীসের আলোকে আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন হাদীসে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। নিম্নে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উল্লেখযোগ্য কিছু হাদীস উপস্থাপন করা হলো-

১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন :
أحبُّوا العربَ لثلاثٍ، لأني عربيٌّ، والقرآنُ عربيٌّ، وكلامُ أهلِ الجنةِ عربيٌّ
তোমরা আরবী ভাষাকে তিন কারণে ভালোবাস; [এক] নিশ্চয়ই আমি আরবীভাষী [দুই] কুরআন আরবী ভাষায় অবতীর্ণ [তিন] জান্নাতবাসীর ভাষা হবে আরবী। (মুজামুল কাবীর লিত তাবরানী)
উপরোক্ত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবী ভাষা শিখতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং এ ব্যাপারে উম্মাহকে আদেশ করেছেন।

২. হযরত আলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
إنَّ أول من فُتق لسانه بالعربية المبينة إسماعيل، وَهُوَ ابنُ أربعَ عشرةَ سنةٍ
হযরত ইসমাঈল [আলাইহিস সালাম] সর্বপ্রথম সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ আরবী ভাষায় কথা বলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বছর।
৩. অপর একটি হাদীসে হযরত হাজেরা ও ইসমাঈল [আলাইহিস সালাম] এর ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেন:
فألْفَى ذلكَ أُمَّ إسْمَاعِيلَ وهي تُحِبُّ الإنْسَ فَنَزَلُوا وأَرْسَلُوا إلى أَهْلِيهِمْ فَنَزَلُوا معهُمْ، حتَّى إذَا كانَ بهَا أَهْلُ أَبْيَاتٍ منهمْ، وشَبَّ الغُلَامُ وتَعَلَّمَ العَرَبِيَّةَ منهمْ، وأَنْفَسَهُمْ وأَعْجَبَهُمْ حِينَ شَبَ.
…হযরত ইসমাঈল ও হাজেরা [আলাইহিস সালাম] এর প্রতিবেশী হলেন কিছু আরবীভাষী। হযরত ইসমাঈল [আলাইহিস সালাম] কৈশরে তাদের থেকে আরবী ভাষা শিখলেন এবং আরবী ভাষায় চমৎকার বুৎপত্তি অর্জন করেন।
প্রিয়নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর আলোচিত হাদীসসমূহ থেকে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

মুসলিম মনীষীদের উক্তির আলোকে আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
যুগে যুগে মুসলিম মনীষীগণ আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
নিম্নে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মুসলিম মনীষীদের উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা হলো-
১. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বলেন :
«تَعَلَّمُوا الْعَرَبِيَّةَ فَإِنَّهَا تُثَبِّتُ الْعَقْلَ، وَتَزِيدُ فِي الْمُرُوءَةِ
(شعب الإيمان، أبو بكر البيهقي، مكتبة الرشد للنشر والتوزيع، الرياض، 1423هـ – 2003م، (ح:1555)
তোমরা আরবী ভাষা শিক্ষা কর, নিশ্চয়ই তা মস্তিষ্ককে দৃঢ় করে এবং ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধি করে। (শুআবুল ঈমান)
২. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হযরত আবু মুসা আসআরী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কে চিঠি লিখেন-
«أَمَّا بَعْدُ فَتَفَقَّهُوا فِي السُّنَّةِ، وَتَفَقَّهُوا فِـي الْعَرَبِيَّةِ، وَأَعْرِبُــوا الْقُـــرْآنَ فَإِنَّهُ عَرَبِيٌ
(الكتاب المصنف في الأحاديث والآثار، أبو بكر بن أبي شيبة، مكتبة الرشد، الرياض، 1409هـ، (ح: 29914)
…অত:পর তোমরা সুন্নাহ ও আরবী ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন কর এবং আরবী ভাষায় কুরআন পাঠ কর। কেননা কুরআন আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। (আল কিতাবুল মুসান্নাফ)
৩. আল্লামা ইবনে তাইমিয়া [রহিমাহুল্লাহ] বলেন :
معلومٌ أنّ تعلمَ العربية وتعليمَ العربية فرضٌ على الكفاية، وكان السلف يؤدّبون أوﻻدهم على اللحن
জেনে রাখা ভালো যে, আরবী ভাষা শেখা ও শিখানো ফরজে কিফায়া। সালাফগণ তাদের সন্তানকে আরবী ভাষা শিখাতেন।
মুসলিম মনীষীগণের উপরোক্ত উদ্ধৃতিসমূহ থেকে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

অমুসলিম মনীষীদের উক্তির আলোকে আরবী ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:
যুগে যুগে অমুসলিম মনীষীগণ আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
নিম্নে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অমুসলিম মনীষীদের উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা হলো-

১. জার্মান প্রাচ্যবিদ নোল্ডাক বলেন :
নিশ্চয় আরবী ভাষা বিশ্বসার্বজনীনতা অর্জন করেছে কুরআন ও ইসলামের কারণে। আরবী ভাষাবিদগণ অত্যন্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের সামনে ক্লাসিক আরবীর ভিত্তি স্থাপন করেছেন। তারা আরবী শব্দভান্ডারের জন্যও বিরাট অবদান রেখেছেন। ফলশ্রুতিতে যে কোন ব্যক্তিই আরবী ভাষার শব্দভান্ডার দেখে বিস্ময়ে অভিভুত হবে।

২. ফরাসী প্রাচ্যবিদ রিনান বলেন :
এটি একটি বিস্ময় যে, মরুভূমির মাঝে বিকশিত হওয়া একটি জাতির ভাষা তার শব্দভান্ডার, সূক্ষ অর্থ, সুশৃংখল নিয়ামাবলী ও সুন্দর গঠনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাষাজগতের সমগোত্রিয় বহু ভাষার উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। বস্তুত আরবী ভাষার সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে এমন কোন পৃথিবীতে নেই।

৩. জার্মান প্রাচ্যবিদ জেফর হোংক বলেন :
মানুষের পক্ষে এই ভাষার [আরবীর] সৌন্দর্য পরিমাপ করা সম্ভব নয়। আরবী ভাষা তার সৌন্দর্য গুণে প্রতিবেশি অনেক ভাষার স্থান দখল করেছে। যেমন : কিবতি ভাষা, আরামিয়া ভাষা যা ছিল খৃষ্টানদের তা মুহাম্মাদের ভাষার প্রভাবে আজ বিলুপ্তপ্রায়।

৪. প্রাচ্যবিদ ব্রোকলমান বলেন :
আরবী ভাষা কুরআনের ভাষা হওয়ার কারণ বিশ্বসভায় এমন এক অবস্থান অর্জন করেছে যা পৃথিবীর অন্য কোন ভাষার পক্ষে অসম্ভব। বিশ্বের সকল মুসলিম মনে করে যে, আরবী ভাষার ব্যবহার ব্যতিত তাদের সালাত বিশুদ্ধ হয় না। আরবী ভাষার সার্বজনীন এ অবস্থানের পেছনে মুসলিমদের ধর্মীয় রীতিনীতিরও বড় ভূমিকা রয়েছে।

প্রাচ্যবিদ হলেন সেসকল অমুসলিম পণ্ডিত; যারা ইসলামকে বুঝার জন্য কিংবা ইসলামের ভুল খুঁজে বের করার জন্য আরবী ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করে ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। কয়েকজন উল্লেখযোগ্য প্রাচ্যবিদের উপরোক্ত উদ্ধৃতি থেকে আরবী ভাষার গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

সর্বশ্রেষ্ঠ কয়েকজন আরবী কবি ও সাহিত্যিকের নাম
• কয়েকজন শ্রেষ্ঠ আরবী কবির নাম :
১. মাহমুদ দরবেশ
২. ইমরুল কায়েস
৩. নিযার কুবানী
৪. মুতানাব্বী
৫. আহমাদ শাওকী
৬. হামদ বিন খলিফা আবু শিহাব
৭. খানসা
৮. আনতারা ইবনে শাদ্দাদ
৯. হিন্দ বিন উতবা
১০. আদি বিন রবীআ

• কয়েকজন শ্রেষ্ঠ আরবী সাহিত্যিকের নাম :
১. আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ
২. আবু তাইয়েব মুতানাব্বী
৩. ফারাযদাক
৪. আলী আল হাসরী আল কাইরাওয়ানী
৫. ইমাম শাফেয়ী
৫. আব্দুল গনী আননাবলুসী
৬. আবুল হাসান আলী আননদবী
৭. আল জাহেয
৮. আলবুসিরী
৯. মোস্তফা লুতফী আল মানফালুতী
১০. শরীফ রেজা

অনারবী কয়েকজন সফল আরবী ভাষা অভিযাত্রীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
আরবীভাষী না হয়েও অনেক অনারবী ভাষায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন এবং আরবী ভাষায় এমন অসামান্য অবদান রেখেছেন যা কখনো বিস্মৃত হবে না। নিম্নে আরবী ভাষায় সফল কয়েকজন অনারবী অভিযাত্রীর সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করা হলো-

১. ইমাম যামাখশরী
পুরো নাম : আবুল কাসেম মাহমুদ ইবনে আমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর আল খাওয়ারিজমী আয যামাখশরী। কাশশাফ, আসাসুল বালাগাহ প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা। ৫৩৮ হিজরীতে আরবী ভাষার এ মহান সাধক ইন্তেকাল করেন।

২. ইমাম সিবওয়াই
ইমাম সিবওয়াই ছিলেন পারস্যের বাসিন্দা। পুরো নাম : আমর ইবনে উসমান ইবনে কান্বার। আরবী ভাষায় ইমাম সিবওয়াই এর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি ছিলেন আরবী ব্যাকরণ শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম ও পুরোধা। তিনি ১৮০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

৩. ইমাম আবুল হাসান আলী মিয়া নদবী
ইমাম আবুল হাসান আলী মিয়া নদবীর আরবী ভাষায় পারঙ্গমতা আরবী বিশ্বে সর্বজনবিদিত। আরবী ভাষায় তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাযা খাসিরাল আলাম বিইনহিতাতিল মুসলিমিন” আরবী ভাষা সাহিত্যের একটি অমর গ্রন্থ। আবুল হাসান আলী নদবী ১৯১৪ সালে ভারতের রায়বেরেলীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২ শে ডিসেম্বর ১৯৯৯ এ তিনি ইন্তেকাল করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন