ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রামপুরায় অটোরিকশা চোর চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

মোঃ সালে আহমেদ (নিজস্ব প্রতিবেদক)
মোঃ সালে আহমেদ (নিজস্ব প্রতিবেদক)
  • আপলোড সময় : ১২:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪
  • / ২৯৭ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর রামপুরায় পুলিশের অভিযানে চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা চুরি করা চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিকালেই আদালত তাদের বিরুদ্ধে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকার মানিক নগর ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো—অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) ও তার সহযোগী মো. চান মিয়া ওরফে চান্দু (৪০), নারায়নগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি এলাকার ফুল মিয়া (৫৯) ও আল আমিন (৩৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি চোরাই অটোরিকশা ও ৩২ টি চেতনানাশক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

রামপুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ গোলাম মউলা পিপিএম বলেন, গ্রেফতার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চোর চক্রের মূলহোতা শরিফুল ও চান্দু গত ৮ এপ্রিল রাত ৯ টার দিকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা ১ টি অটোরিকশা চুরি করে। এ সময় অটোরিকশাওয়ালা মো. শাহা আলম মিয়াকে (৬০) চায়ের সঙ্গে কৌশলে ভারতীয় ও বাংলাদেশী চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে অজ্ঞান করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরবর্তীতে ওই রিকশাচালককে তার স্বজনরা উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ১৪ এপ্রিল শাহা আলম মিয়া সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় তার ছেলে মো. সিয়াম আকন্দ বাদী হয়ে রামপুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ গোলাম মউলা পিপিএম আরও বলেন, মামলার পর আমরা ঘটনাস্থলসহ আশপাশ ও খিলগাঁও এলাকার শতাধিক সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এনালাইসিস করে বিভিন্ন রকম তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. শরিফুল ইসলাম, তার সহযোগী চান্দু ও শাহাবুদ্দিন কে সনাক্ত করি। গত ৪ এপ্রিল প্রধমে শরিফুল ও চান্দুকে গ্রেফতারের পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি ২ জনকে গ্রেফতার করি।

উল্লেখ্য: বিগত ১ বছর ধরে শরিফুলের নেতৃত্বে সংগীয় শাহাবুদ্দিন ও চান্দু ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশাওয়ালাদের অজ্ঞান করে সুবিধাজনক স্থানে ফেলে রিকশা চুরি করে। ওই রিকশাগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চক্রের কাছে বিক্রয় করে। এ পর্যন্ত শতাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বাংলাদেশী রিবোটিল ও ভারতীয় চেতনানাশক ওষুধ ১ টা খাওয়াতে পারলেই ১০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞান হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শরিফুল প্রথমে কাভার্ডভ্যানের চালক ছিল। চাকুরি না থাকায় নড়াইলের নিয়ামুল নামে গুরুর হাত শরিফুল এ লাইনে আসে বলে জানায়। চুরিকৃত প্রতিটি রিকশা তারা ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রামপুরায় অটোরিকশা চোর চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

আপলোড সময় : ১২:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

রাজধানীর রামপুরায় পুলিশের অভিযানে চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা চুরি করা চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিকালেই আদালত তাদের বিরুদ্ধে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকার মানিক নগর ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো—অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) ও তার সহযোগী মো. চান মিয়া ওরফে চান্দু (৪০), নারায়নগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি এলাকার ফুল মিয়া (৫৯) ও আল আমিন (৩৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি চোরাই অটোরিকশা ও ৩২ টি চেতনানাশক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

রামপুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ গোলাম মউলা পিপিএম বলেন, গ্রেফতার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চোর চক্রের মূলহোতা শরিফুল ও চান্দু গত ৮ এপ্রিল রাত ৯ টার দিকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা ১ টি অটোরিকশা চুরি করে। এ সময় অটোরিকশাওয়ালা মো. শাহা আলম মিয়াকে (৬০) চায়ের সঙ্গে কৌশলে ভারতীয় ও বাংলাদেশী চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে অজ্ঞান করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরবর্তীতে ওই রিকশাচালককে তার স্বজনরা উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ১৪ এপ্রিল শাহা আলম মিয়া সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় তার ছেলে মো. সিয়াম আকন্দ বাদী হয়ে রামপুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ গোলাম মউলা পিপিএম আরও বলেন, মামলার পর আমরা ঘটনাস্থলসহ আশপাশ ও খিলগাঁও এলাকার শতাধিক সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এনালাইসিস করে বিভিন্ন রকম তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. শরিফুল ইসলাম, তার সহযোগী চান্দু ও শাহাবুদ্দিন কে সনাক্ত করি। গত ৪ এপ্রিল প্রধমে শরিফুল ও চান্দুকে গ্রেফতারের পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি ২ জনকে গ্রেফতার করি।

উল্লেখ্য: বিগত ১ বছর ধরে শরিফুলের নেতৃত্বে সংগীয় শাহাবুদ্দিন ও চান্দু ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশাওয়ালাদের অজ্ঞান করে সুবিধাজনক স্থানে ফেলে রিকশা চুরি করে। ওই রিকশাগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চক্রের কাছে বিক্রয় করে। এ পর্যন্ত শতাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বাংলাদেশী রিবোটিল ও ভারতীয় চেতনানাশক ওষুধ ১ টা খাওয়াতে পারলেই ১০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞান হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শরিফুল প্রথমে কাভার্ডভ্যানের চালক ছিল। চাকুরি না থাকায় নড়াইলের নিয়ামুল নামে গুরুর হাত শরিফুল এ লাইনে আসে বলে জানায়। চুরিকৃত প্রতিটি রিকশা তারা ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন