ঐতিহ্যে ডাক পহেলা বৈশাখ
লেখক : প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের
বছর ঘুরে আবার আসে, রাঙা ভোরের ডাক,
ঢাকের তালে জাগে প্রাণে-পহেলা বৈশাখ।
পুরোনো সব ক্লান্তি মুছে নতুন দিনের গান,
আনন্দে মাতে বাংলার মাঠ, নদী আর প্রাণ।
সূর্য ওঠে রাঙা হয়ে পূর্ব দিগন্ত জুড়ে,
হাসির আলো ছড়িয়ে পড়ে ঘরে ঘরে ঘুরে।
গ্রামের পথে শিশিরভেজা সবুজ ধানের শিষ,
বৈশাখ এসে ডাকে যেন-“ভুলে যাও সব বিষ।”
আলপনার রঙে রঙে উঠোন ভরে যায়,
শুভ নববর্ষ লিখে হাসে সাদা আঁকা ছায়।
পান্তা-ইলিশের সুবাস ভেসে ঘরে ঘরে আজ,
বাঙালির এই উৎসবে নেই কোনো লাজ।
লাল-সাদা শাড়ি পরে হাসে বাংলার নারী,
পাঞ্জাবিতে তরুণেরা আনন্দে যে ভারী।
মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে রঙিন স্বপ্ন হয়ে,
ঐতিহ্যের গর্ব যেন হৃদয় মাঝে বয়ে।
ঢোলের তালে কাঁপে ধরণি, বাঁশির সুরে গান,
নতুন দিনের প্রত্যাশায় জাগে সবার প্রাণ।
বটতলার সেই আড্ডাতে গানের মধুর ঢেউ,
বৈশাখী হাওয়ায় ভেসে আসে প্রাণের কত নেউ।
হালখাতার সেই পুরোনো রীতি আজও আছে,
দোকান জুড়ে মিষ্টি হাসি নতুন আশার কাছে।
ক্রেতা-বিক্রেতা মিলে বলে-“শুভ হোক বছর”,
সুখের বীজ বুনে যায় এই ঐতিহ্যের ঘর।
কৃষকের মুখে হাসি ফোটে নতুন ফসল চাষে,
মাঠের বুকে সোনার স্বপ্ন বাতাস হয়ে ভাসে।
জেলে নামে নদীর বুকে নতুন আশার টানে,
বৈশাখ যেন শক্তি জোগায় জীবনেরই গানে।
ধর্ম-বর্ণ ভেদ ভুলে সবাই হাতে হাত,
বৈশাখ শেখায় একতারই অমলিন প্রভাত।
বাংলা মায়ের সন্তান সব মিলি এক সারি,
সংস্কৃতির এই বন্ধনে নেই কোনো দেয়াল ভারী।
হে বৈশাখ, তুমি এসো বারবার এই দেশে,
নতুন স্বপ্ন জাগাও প্রাণে আনন্দেরই রেশে।
মুছে দাও সব দুঃখ-ব্যথা, জাগাও আলোর গান,
বাংলার বুকে ফুটুক আবার শান্তিরই ত্রাণ।
তুমি বাঙালির গর্ব, তুমি প্রাণের সুর,
তোমার ছোঁয়ায় নবীন হয় জীবনেরই নূর।
শত বাধা পেরিয়ে তুমি দাঁড়াও দৃপ্ত হেসে-
“আমি বাঙালির বৈশাখ”-গৌরব ভরা বেশে।
নতুন বছরের এই দিনে করি একটি ডাক-
বাংলা হোক ভালোবাসায় ভরা প্রতিটি হাক।
মানবতার আলো জ্বালো হৃদয়েরই মাঝ,
তবেই সার্থক হবে বাঙালির বৈশাখ।