ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জে স্ত্রীর লাশ নদীতে ফেলে থানায় এসে নিখোঁজের জিডি করেন স্বামী

মো: শাহিন (নিজস্ব প্রতিবেদক)
মো: শাহিন (নিজস্ব প্রতিবেদক)
  • আপলোড সময় : ০৫:৫৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৩৬৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যা করে
লাশ নদীতে ফেলে এসে থানায় নিখোঁজের জিডি করেন স্বামী। এ ঘটনায় স্বামী রনি মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
আজ দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের
কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালবেলা রনি ও স্ত্রী ফারজানার পুরাতন প্রেমের সম্পর্কগুলো নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। যেহেতু নিহত ফারজানা এবং তার পুরাতন প্রেমিক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষানবিশ নার্স হিসেবে নিয়োজিত ছিল সেজন্য তার স্বামী তাকে অত্যন্ত সন্দেহ করা শুরু করে। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে এর আগেও একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। ঘটনার দিন ফারজানা তার ঘর করবেনা এমনকি তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে বলে জানালে তার স্বামী সেদিনই ফারজানাকে হত্যার জন্য একটি সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করে ফেলে। সেইদিন রাতে রাতের খাওয়া শেষে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা বললে ফারজানাকে নিয়ে বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন নৌ-পুলিশ ফাড়ীঁর পিছনে নদীর পারে অত্যন্ত নির্জন ও গভীর জলাধারের কাছে নিয়ে প্রেমালাপ শুরু করে কিছুক্ষন পরেই পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী রনি মিয়া ফারজানাকে অত্যন্ত জোরে ধাক্কা দিয়ে গভীর পানিতে ফেলে দেয়। নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকায় ফারজানা পানির গহিন তলে ডুবে যায়। ফারজানার বোরকা পরিহিত ছিল এবং সাতার না জানার কারনে সে আর উপরে উঠতে পারেনি।
ফারজানার স্বামী আসামী রনি মিয়া নৌ-বাহিনীর একজন সাবেক সদস্য। পানির স্রোত সম্পর্কে তার ভাল ধারণা থাকার জন্যই মূলত সে তার সাতার না জানা স্ত্রী-কে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে। তারপর ঘটনাস্থল থেকে রনি মিয়া চলে আসে এবং আত্নীয়-স্বজনদের ফোন দিয়ে বলে যে, রাতে ফারজানা তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে মোবাইল বাসায় রেখে কালো বোরকা পরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় নিখোঁজ ফারজানার স্বামী রনি মিয়া বাদী হয়ে ফারজানার মাকে (শ্বাশুড়ী) সহ থানায় এসে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার জিডি করনে।

তিনি আরও বলেন, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ উক্ত নিখোঁজ জিডির সূত্র ধরে নিখোঁজ ফারজানাকে খুজতে থাকে। নিখোঁজ ফারজানার স্বামী রনি মিয়া পুলিশকে জানায় যে, ফারজানার বিয়ের আগে নাদিম নামে একটি ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উক্ত বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ফারজানা রাগ করে বাসা থেকে চলে যায়। পুলিশ ফারজানার বিয়ের আগের প্রেমিক নাদিমের কাছে ফারজানা গিয়ে থাকতে পারে এই ধারণা করে প্রাথমিক অনুসন্ধান করতে থাকে। ফারজানার পরিবারও ফারজানার বিবাহের পূর্বে নাদিমের সাথে প্রেমের সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করে। নিখোঁজ ফারজানাকে খুজে বের করতে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল ফারজানার সাবেক প্রেমিক নাদিম, তার বান্ধবীদের থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। নিহত ফারজানা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষানবিশ নার্স হিসেবে নিয়োজিত ছিল। তার সাবেক প্রেমিক এবং বন্ধু-বান্ধবী সবাই একই হাসপাতালে শিক্ষানবিশ নার্স হিসেবে নিয়োজিত ছিল। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ৯৯৯ এর মাধ্যমে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পারে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার জাজিরা নামার বোর্ড ঘাটের বাদশা ব্যাপারীর ইটখোলার পশ্চিম পার্শ্বে পানি ও কচুরী পানার ভিতরে ভাসমান অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ২৪ বছর বয়সী মহিলার মৃতদেহ ভেসে রয়েছে। ডিসিষ্টের পরিহিত কালো বোরকা, সবুজ রংয়ের সালোয়ার এবং দেহের গঠন দেখে ফারজানার স্বামী রনি মিয়া জানায় যে, মৃতদেহটি তার নিখোঁজ স্ত্রী ফারজানার। পরবর্তীতে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ফারজানা নিখোঁজ আগে তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল কেরাণীগঞ্জের বছিলা ব্রিজ। কিন্তু ফারজানার লাশ পাওয়া গিয়েছে নারায়নগঞ্জের বন্দর থানার পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন জাজিরা নামার বোর্ড ঘাটের বাদশা ব্যাপারীর ইটখোলার পশ্চিম পার্শ্বে খালে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে এবং লাশটি কিভাবে ভাসতে ভাসতে ১৫ কিলোমিটার দূরে চলে আসলো সে ব্যাপারে ব্যাপক পর্যালোচনা করে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে শুরু করে। এ বিষয়ে পুলিশ ভিকটিম ফারজানার স্বামী রনি মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এক এক সময় এক এক ধরণের তথ্য দেয়। অপরদিকে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে ফারজানার স্বামী রনি মিয়ার ঘটনার রাতে বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন নদীর পাড়ে অবস্থান দেখা যায়। রনির দেওয়া তথ্য এবং ঘটনার রাতে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তার রাত্রীকালিন বিভিন্ন অবস্থানের উপর ভিত্তি করে পুলিশ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশ নিখোঁজ ফারজানার স্বামী রনি মিয়াকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ধৃত আসামী রনি মিয়া তার স্ত্রী ফারজানাকে কিভাবে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করেছে সে ব্যাপারে পুলিশকে তথ্য প্রদান করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কেরানীগঞ্জে স্ত্রীর লাশ নদীতে ফেলে থানায় এসে নিখোঁজের জিডি করেন স্বামী

আপলোড সময় : ০৫:৫৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যা করে
লাশ নদীতে ফেলে এসে থানায় নিখোঁজের জিডি করেন স্বামী। এ ঘটনায় স্বামী রনি মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
আজ দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের
কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালবেলা রনি ও স্ত্রী ফারজানার পুরাতন প্রেমের সম্পর্কগুলো নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। যেহেতু নিহত ফারজানা এবং তার পুরাতন প্রেমিক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষানবিশ নার্স হিসেবে নিয়োজিত ছিল সেজন্য তার স্বামী তাকে অত্যন্ত সন্দেহ করা শুরু করে। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে এর আগেও একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। ঘটনার দিন ফারজানা তার ঘর করবেনা এমনকি তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে বলে জানালে তার স্বামী সেদিনই ফারজানাকে হত্যার জন্য একটি সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করে ফেলে। সেইদিন রাতে রাতের খাওয়া শেষে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা বললে ফারজানাকে নিয়ে বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন নৌ-পুলিশ ফাড়ীঁর পিছনে নদীর পারে অত্যন্ত নির্জন ও গভীর জলাধারের কাছে নিয়ে প্রেমালাপ শুরু করে কিছুক্ষন পরেই পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী রনি মিয়া ফারজানাকে অত্যন্ত জোরে ধাক্কা দিয়ে গভীর পানিতে ফেলে দেয়। নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকায় ফারজানা পানির গহিন তলে ডুবে যায়। ফারজানার বোরকা পরিহিত ছিল এবং সাতার না জানার কারনে সে আর উপরে উঠতে পারেনি।
ফারজানার স্বামী আসামী রনি মিয়া নৌ-বাহিনীর একজন সাবেক সদস্য। পানির স্রোত সম্পর্কে তার ভাল ধারণা থাকার জন্যই মূলত সে তার সাতার না জানা স্ত্রী-কে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে। তারপর ঘটনাস্থল থেকে রনি মিয়া চলে আসে এবং আত্নীয়-স্বজনদের ফোন দিয়ে বলে যে, রাতে ফারজানা তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে মোবাইল বাসায় রেখে কালো বোরকা পরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় নিখোঁজ ফারজানার স্বামী রনি মিয়া বাদী হয়ে ফারজানার মাকে (শ্বাশুড়ী) সহ থানায় এসে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার জিডি করনে।

তিনি আরও বলেন, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ উক্ত নিখোঁজ জিডির সূত্র ধরে নিখোঁজ ফারজানাকে খুজতে থাকে। নিখোঁজ ফারজানার স্বামী রনি মিয়া পুলিশকে জানায় যে, ফারজানার বিয়ের আগে নাদিম নামে একটি ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উক্ত বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ফারজানা রাগ করে বাসা থেকে চলে যায়। পুলিশ ফারজানার বিয়ের আগের প্রেমিক নাদিমের কাছে ফারজানা গিয়ে থাকতে পারে এই ধারণা করে প্রাথমিক অনুসন্ধান করতে থাকে। ফারজানার পরিবারও ফারজানার বিবাহের পূর্বে নাদিমের সাথে প্রেমের সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করে। নিখোঁজ ফারজানাকে খুজে বের করতে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল ফারজানার সাবেক প্রেমিক নাদিম, তার বান্ধবীদের থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। নিহত ফারজানা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষানবিশ নার্স হিসেবে নিয়োজিত ছিল। তার সাবেক প্রেমিক এবং বন্ধু-বান্ধবী সবাই একই হাসপাতালে শিক্ষানবিশ নার্স হিসেবে নিয়োজিত ছিল। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ৯৯৯ এর মাধ্যমে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পারে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার জাজিরা নামার বোর্ড ঘাটের বাদশা ব্যাপারীর ইটখোলার পশ্চিম পার্শ্বে পানি ও কচুরী পানার ভিতরে ভাসমান অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ২৪ বছর বয়সী মহিলার মৃতদেহ ভেসে রয়েছে। ডিসিষ্টের পরিহিত কালো বোরকা, সবুজ রংয়ের সালোয়ার এবং দেহের গঠন দেখে ফারজানার স্বামী রনি মিয়া জানায় যে, মৃতদেহটি তার নিখোঁজ স্ত্রী ফারজানার। পরবর্তীতে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ফারজানা নিখোঁজ আগে তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল কেরাণীগঞ্জের বছিলা ব্রিজ। কিন্তু ফারজানার লাশ পাওয়া গিয়েছে নারায়নগঞ্জের বন্দর থানার পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন জাজিরা নামার বোর্ড ঘাটের বাদশা ব্যাপারীর ইটখোলার পশ্চিম পার্শ্বে খালে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে এবং লাশটি কিভাবে ভাসতে ভাসতে ১৫ কিলোমিটার দূরে চলে আসলো সে ব্যাপারে ব্যাপক পর্যালোচনা করে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে শুরু করে। এ বিষয়ে পুলিশ ভিকটিম ফারজানার স্বামী রনি মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এক এক সময় এক এক ধরণের তথ্য দেয়। অপরদিকে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে ফারজানার স্বামী রনি মিয়ার ঘটনার রাতে বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন নদীর পাড়ে অবস্থান দেখা যায়। রনির দেওয়া তথ্য এবং ঘটনার রাতে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তার রাত্রীকালিন বিভিন্ন অবস্থানের উপর ভিত্তি করে পুলিশ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশ নিখোঁজ ফারজানার স্বামী রনি মিয়াকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ধৃত আসামী রনি মিয়া তার স্ত্রী ফারজানাকে কিভাবে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করেছে সে ব্যাপারে পুলিশকে তথ্য প্রদান করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন