ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঈদ সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত কেরানীগঞ্জের খামারিরা

মো: শাহিন (নিজস্ব প্রতিবেদক)
মো: শাহিন (নিজস্ব প্রতিবেদক)
  • আপলোড সময় : ০৭:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪
  • / ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত কেরানীগঞ্জের খামারিরা। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে শেষ মুহূর্তে দিনরাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা। কৃত্রিম উপায়ে নয়, প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করছেন খামারিরা। খাদ্য, ওষুধসহ সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। তারপরও দিনরাত ভুসি, কাঁচাঘাস, খৈল, চালের কুঁড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে লালনপালন করছেন তারা। প্রয়োজনে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নিচ্ছেন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১হাজার খামারে ষাড় ও বলদ ১২ হাজার ৬৪৭ টি,১৮২টি মহিষ, ৫ হাজার ৫৭৬ টি ছাগল, ৪২১ টি ভেড়া, অন্যান্য ৮০ টি পশু সহ মোট ১৮ হাজার ৪৮৫ টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবছর কেরানীগঞ্জে কুরবানির পশূর চাহিদা ২৯ হাজার ৩১০ টি। কেরানীগঞ্জের অনেক খামারি ঢাকার বাহিরে ষাড় হৃষ্ঠপুষ্ট করে কুরবানির ১০/১৫ দিন আগে কেরানীগঞ্জে খামারে নিয়ে আসে,তাতে আশা করছি আমাদের যে ঘাটতি আছে তা পুরন হবে।

খামারিরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে খামার চালু রাখা। একটি গরু পালনে গেল বছরের তুলনায় এবার খরচ বেড়েছে ১৫ থকে ২০ হাজার টাকা। গুরুর খামার টিকিয়ে রাখতে গো-খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আহ্বান তাদের। অন্যবারের তুলনায় এবার গরু পালনের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। এত বাড়তি দাম দিয়ে গরু পালন করা সম্ভব না।

খামারী শাহজাহান মিয়া জানান, আমার খামারে ৫০ টি গরু দেশীয় পদ্বতিতে খড়, তাজা ঘাস ও ভূষিসহ পোষ্টিকর খাবার খাইয়ে লালন পালন করছি। একেকটি গরু ২ লাখ থেকে, ৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে কিছু গরু খামার থেকে বেচা হয়েছে । আশা করছি বাজার দর ভালো পাবো

শরীফ এগ্রোভেটের ম্যানেজার সজিব হাওলাদার বলেন, আমাদের ফার্মে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে কাঁচাঘাস ও ছোলা খাওয়ায়েও কোরবানি জন্য সাড়ে তিন হাজার গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের শরীফ এগ্রোভেট ফার্মে সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা থেকে ১১ লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। আমাদের ফার্মের বিশেষ আকর্ষন বিগবস । এর ওজন ১২শ কেজি এবং দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১লক্ষ টাকা। এছাড়াও বোল্ডার, পরিমনীসহ আকর্ষণীয় গরু রয়েছেন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারিরা ফার্মে গরু ক্রয় করতে আসছেন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনছুর আহমেদ বলেন, আমরা অফিস থেকে নিয়মিত খামার পরিদর্শন করছি। খামারিদের প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে গরু পালন করার পরামর্শ দিচ্ছি, উঠান বৈঠক, জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধের দোকান নিয়মিত মনিটরিং করছি যাতে তারা কোনো ভেজাল, অনুনোমদিত ড্রাগস বিক্রয় করতে না পারে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা কর্তৃক অনুমোদিত কুরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে, কোনো কারণে বাজারে পশু অসুস্থ হযে গেলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। খামারির কাছে থেকে ক্রেতার হাতে সুস্থ পশু পৌঁছে দিতে মেডিকেল টিম সবসময় কাজ করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদ সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত কেরানীগঞ্জের খামারিরা

আপলোড সময় : ০৭:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত কেরানীগঞ্জের খামারিরা। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে শেষ মুহূর্তে দিনরাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা। কৃত্রিম উপায়ে নয়, প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করছেন খামারিরা। খাদ্য, ওষুধসহ সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। তারপরও দিনরাত ভুসি, কাঁচাঘাস, খৈল, চালের কুঁড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে লালনপালন করছেন তারা। প্রয়োজনে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নিচ্ছেন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১হাজার খামারে ষাড় ও বলদ ১২ হাজার ৬৪৭ টি,১৮২টি মহিষ, ৫ হাজার ৫৭৬ টি ছাগল, ৪২১ টি ভেড়া, অন্যান্য ৮০ টি পশু সহ মোট ১৮ হাজার ৪৮৫ টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবছর কেরানীগঞ্জে কুরবানির পশূর চাহিদা ২৯ হাজার ৩১০ টি। কেরানীগঞ্জের অনেক খামারি ঢাকার বাহিরে ষাড় হৃষ্ঠপুষ্ট করে কুরবানির ১০/১৫ দিন আগে কেরানীগঞ্জে খামারে নিয়ে আসে,তাতে আশা করছি আমাদের যে ঘাটতি আছে তা পুরন হবে।

খামারিরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে খামার চালু রাখা। একটি গরু পালনে গেল বছরের তুলনায় এবার খরচ বেড়েছে ১৫ থকে ২০ হাজার টাকা। গুরুর খামার টিকিয়ে রাখতে গো-খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আহ্বান তাদের। অন্যবারের তুলনায় এবার গরু পালনের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। এত বাড়তি দাম দিয়ে গরু পালন করা সম্ভব না।

খামারী শাহজাহান মিয়া জানান, আমার খামারে ৫০ টি গরু দেশীয় পদ্বতিতে খড়, তাজা ঘাস ও ভূষিসহ পোষ্টিকর খাবার খাইয়ে লালন পালন করছি। একেকটি গরু ২ লাখ থেকে, ৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে কিছু গরু খামার থেকে বেচা হয়েছে । আশা করছি বাজার দর ভালো পাবো

শরীফ এগ্রোভেটের ম্যানেজার সজিব হাওলাদার বলেন, আমাদের ফার্মে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে কাঁচাঘাস ও ছোলা খাওয়ায়েও কোরবানি জন্য সাড়ে তিন হাজার গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের শরীফ এগ্রোভেট ফার্মে সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা থেকে ১১ লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। আমাদের ফার্মের বিশেষ আকর্ষন বিগবস । এর ওজন ১২শ কেজি এবং দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১লক্ষ টাকা। এছাড়াও বোল্ডার, পরিমনীসহ আকর্ষণীয় গরু রয়েছেন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারিরা ফার্মে গরু ক্রয় করতে আসছেন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনছুর আহমেদ বলেন, আমরা অফিস থেকে নিয়মিত খামার পরিদর্শন করছি। খামারিদের প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে গরু পালন করার পরামর্শ দিচ্ছি, উঠান বৈঠক, জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধের দোকান নিয়মিত মনিটরিং করছি যাতে তারা কোনো ভেজাল, অনুনোমদিত ড্রাগস বিক্রয় করতে না পারে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা কর্তৃক অনুমোদিত কুরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে, কোনো কারণে বাজারে পশু অসুস্থ হযে গেলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। খামারির কাছে থেকে ক্রেতার হাতে সুস্থ পশু পৌঁছে দিতে মেডিকেল টিম সবসময় কাজ করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন