শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট চাওয়ার অভিযোগ ঢাকা ৫ আসন এমপির বিরুদ্ধে
- আপলোড সময় : ১০:৫১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / ২০৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ডেমরায় ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ জুলাই। এক্ষেত্রে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে তিন স্তরে কলেজ শাখা, মাধ্যমিক শাখা ও প্রাথমিক শাখার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীতিমালা ভঙ্গ করে দলীয় ৫ প্রার্থীর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভোট চেয়েছেন ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে জামাতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই এমপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য অভিভাবক প্রতিনিধিরা তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছেন। একইসঙ্গে নীতিমালা ভঙ্গ করায় তার বিরুদ্ধে এলাকাতেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে এমপির ভোট চাওয়ার এ ঘটনায় ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রাথমিক নিম্ন স্তর অভিভাবক প্রতিনিধি পদপ্রার্থী মো. আব্দুল আজিজ প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, একটি গভর্নিং বডির নির্বাচনে স্থানীয় এমপি কোনভাবেই তার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারেন না। তাই আমি এমপি কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে এই নিয়ম বহির্ভূত কাজ করায় প্রিজাইটিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আমি সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই তার এই কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অভিভাবক প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ আরো জানান, সোমবার জামায়াতের এমপি কামাল হোসেন তার দলীয় লোকজন নিয়ে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের পাঁচ প্রার্থীর পক্ষে পরোক্ষভাবে ভোট চান। এক্ষেত্রে কলেজ শাখা প্রতিনিধি মোঃ শাহজাহান খান (চেয়ার), অধ্যাপক আব্দুল হাই (কম্পিউটার), মাধ্যমিক শাখা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী (ফুটবল), মিজানুর রহমান জাকির (কাঁঠাল) ও প্রাথমিক শাখা প্রতিনিধি আব্দুল কাদের’র (টিউবওয়েল) পক্ষে ভোট চান।
তবে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়ার এসব বিষয়কে অস্বীকার করে এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আমি সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজে ভোট চেয়েছি এমন কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমঝোতা করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছি। এক্ষেত্রে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সমঝোতার ভিত্তিতে নয়, বরং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছি। এখানে আমি শিক্ষা,নৈতিকতা, সুশৃংখলাও সেবার বিষয়ে কথা বলেছি। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতায় জমে থাকা পানি অপসারণ সহ নানা সেবা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছি। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি মাত্র। আমার কাছে এ ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও রয়েছে।
এ বিষয়ে শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জারিকৃত বিধি মোতাবেক শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যে। আর আসন্ন গভর্নিং বডির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সুষ্ঠু নিরপেক্ষতা বজায় রেখে। এক্ষেত্রে এখানকার শিক্ষকদের কোন ডিউটি নেই ওই নির্বাচনে। শুধুমাত্র জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে কর্মকর্তারা এসে গভর্নিং বডির নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবেন। এ লক্ষ্যে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
























