দিল্লিতে যুবক হত্যার পর পরিবারের কাছে ‘ভালো আছি’ বার্তা পাঠায় খুনি দম্পতি
- আপলোড সময় : ০৫:০৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০২ বার পড়া হয়েছে
দিল্লিতে এক যুবককে হত্যার পর তার হোয়াটসঅ্যাপ আইডি ব্যবহার করে পরিবারের কাছে 'ভালো আছি' বার্তা পাঠিয়েছে এক খুনি দম্পতি। নিখোঁজ থাকার তিন দিন পর গুরগাঁওয়ের একটি নালা থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আড়াল করতেই খুনিরা এই চতুরতার আশ্রয় নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত যুবকের নাম যুবরাজ সিং মানচন্দা। তার বিয়ের তারিখ ছিল এক মাস পর। ৬ সেপ্টেম্বর সাবেক সহকর্মী আনিয়া ভাটসের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের কথা বলে গুরগাঁওয়ে যান তিনি। এর আগে বোন ও বাগদত্তার সঙ্গে বিয়ের শেরওয়ানি কেনাকাটাও করেছিলেন।
পরিবার জানিয়েছে, যুবরাজ এরপর আর ফোন করেননি। ৮ সেপ্টেম্বর তার ফোন থেকে পরিবারের সদস্যরা বার্তা পান, তিনি ভালো আছেন এবং শিগগিরই ফিরবেন। পরে ফেরার দিনও পিছিয়ে দেন। সন্দেহ হওয়ায় তার বোন ভিডিও কল করতে বললেও কোনও সাড়া পাননি। ১১ সেপ্টেম্বর লাজপত নগর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশের দাবি, আনিয়া ও তার স্বামী সানিয়াম সচদেবা প্রথমে যুবরাজকে তার গাড়ি এক জায়গায় রাখতে বলেন। এরপর তাকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেন। কিছুক্ষণ পর আনিয়া বন্দুক বের করে যুবরাজের ঘাড়ে গুলি করেন। পরে মরদেহটি নালায় ফেলে দেন।
পুলিশের ধারণা, আর্থিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যুবরাজ ও ওই দম্পতি আগে একই আবাসন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। আনিয়াকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। যুবরাজের পরিবার অভিযোগ করেছে, ১০ সেপ্টেম্বরই গুরগাঁও পুলিশ মরদেহটি পেয়েছিল, কিন্তু তাদের জানানো হয়নি। ১৪ সেপ্টেম্বর মরদেহটি দাহ করে পুলিশ। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবার পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন, তদন্তের নথি, ছবি, ডিএনএ নমুনা ও যুবরাজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংরক্ষণ করে তাদের কাছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

























