ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি, ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোড সময় : ০৭:২০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ২০১ বার পড়া হয়েছে

দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বাড়িঘর ডুবে গেছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করার কারণে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

জেলার কোটি টাকারও অধিক মাছ বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে এবং ৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানায়, পহেলা জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৪৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জুলাই সর্বোচ্চ ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরার কয়েকটি উপজেলায় কোমর সমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়িতে রান্না-বান্না বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাপ ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রবে আতঙ্কিত তারা। রাস্তা জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

বদ্দীপুর কলোনীর জাহেদা খাতুন বলেন, বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ফলে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। রইচপুর এলাকার রাহিনুর রহমান জানান, মাছের ঘেরের কারণে পানি সরছে না এবং জমা পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহ.সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করতে খালগুলো গভীর করতে হবে এবং যত্রতত্র মাছ চাষ বন্ধ করতে হবে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, পৌরসভাসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন জানান, অতিবর্ষণে ৬৩টি প্রাইমারি স্কুল জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। জেলা মৎস্য অফিসার জিএম সেলিম জানান, দুই শতাধিক মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার ফলে আনুমানিক ক্ষতি কোটি টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি, ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা

আপলোড সময় : ০৭:২০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বাড়িঘর ডুবে গেছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করার কারণে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

জেলার কোটি টাকারও অধিক মাছ বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে এবং ৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানায়, পহেলা জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৪৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জুলাই সর্বোচ্চ ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরার কয়েকটি উপজেলায় কোমর সমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়িতে রান্না-বান্না বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাপ ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রবে আতঙ্কিত তারা। রাস্তা জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

বদ্দীপুর কলোনীর জাহেদা খাতুন বলেন, বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ফলে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। রইচপুর এলাকার রাহিনুর রহমান জানান, মাছের ঘেরের কারণে পানি সরছে না এবং জমা পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহ.সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করতে খালগুলো গভীর করতে হবে এবং যত্রতত্র মাছ চাষ বন্ধ করতে হবে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, পৌরসভাসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন জানান, অতিবর্ষণে ৬৩টি প্রাইমারি স্কুল জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। জেলা মৎস্য অফিসার জিএম সেলিম জানান, দুই শতাধিক মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার ফলে আনুমানিক ক্ষতি কোটি টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন