ডেমরায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম: থানায় মামলা, গ্রেফতার ১
- আপলোড সময় : ১১:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ৫২২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ডেমরায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় সশস্ত্র আওয়ামী যুবলীগ নামধারী দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে যখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । বুধবারও আশঙ্কা জনক অবস্থায় সজীব ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার নতুন পাড়া কালু মিয়া রোডে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রামদায়ের কোপে ভুক্তভোগী সজীবের (২৩) ডান পায়ের হাড় কেটে গিয়ে ঝুলে গেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার বন্ধু বিল্লালের (২০) মাথায় কোপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। এদিকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় সজীবের কাটা পায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা চিকিৎসা দিলেও তার পা ভালো হবে বলে কোন আশ্বাস দেয়নি। পরিস্থিতি অবনতি হলে পা কেটে ফেলতে হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্ব চিকিৎসক। আর ভুক্তভোগী বিল্লালের মাথায় ৩৮ সিঁড়ি লাগলেও সেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন নুরজাহান আক্তার শাকিলা (২৮) মঙ্গলবার দিনগত রাতে ডেমরা থানায় অভিযুক্ত সাত জন সহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এদের মধ্যে থানা পুলিশ সাজন ভূঁইয়া (২৭) নামে নামধারী যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতে প্রেরণ করে। অন্য আসামিরা হলেন-ডগাইর কালু ভূঁইয়া রোডের সাইদুল ভূঁইয়া (৫৫), তার ভাই জসিম ভূঁইয়া (৪৫), ফারুক ভূঁইয়া (৪২), শাহাদাত হোসেন চঞ্চল (৩৮), সিজান ভূঁইয়া (২৫) ও কনক ভূঁইয়া (৪০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনাস্থল কালু ভূঁইয়া রোডে ডিএসসিসির পাকা রাস্তা দখল করে প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সোহরাব নামে এক ব্যক্তি সন্ত্রাসী সাইদুল ভুঁইয়া ও তার সহযোগীরা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় সোহরাবের মাধ্যমে খবর পেয়ে ৬৬ নং ওয়ার্ড যুবদল নেতাকর্মীরা মীমাংসার জন্য ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় সাইদুল ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা যুবদল নেতা কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাৎক্ষণিক যুবদল নেতাকর্মীরা চলে চলে গিয়ে পরে আবার ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় কালু ভূঁইয়া সড়কে বন্ধুরা চায়ের দোকানে আড্ডারত অবস্থায় থাকাকালীন সাইদুল ভূঁইয়ার লোকজন পূর্ব শত্রুতার জেরে সজীব ও তার বন্ধু বিল্লালকে কুপিয়ে জখম করে। এর আগের গ্রুপ তাদের সশস্ত্র অবস্থায় ঘিরে ফেলে।
এদিকে কুপিয়ে জখম করার এ ঘটনাটিকে সাইদুল ভূঁইয়ার গ্রুপ যুব দলের উপর চাপানোর চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ আজিজ ও যুবদল নেতা হেলালের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীরা পুলিশের সহযোগিতা নেয়। পরে ডেমরা থানার ওসি ঘটনাস্থলে আজিজ ও হেলালকে ডেকে এনে রাস্তা দখলের বিষয় মীমাংসা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসী ও যুবদলের সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে মামলা রুজু করে।
ভুক্তভোগীর বড় বোন নুরজাহান আক্তার শাকিলা জানান, তার ছোট ভাই সজিব (২৩) ও তার বন্ধুদের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে সজিব ও তার বন্ধুদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা দুটি দামি মোবাইল ফোন ও বেশ কিছু টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আজিজ মঙ্গলবার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া অপ্রিতিকর ঘটনার বিষয়ে বলেন, তিনি সে সময় এলাকায় না থাকায় ঘটনার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি। ডেমরা থানার ওসির ফোন পেয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, রাস্তা সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝির একপর্যায়ে তাদের কিছু কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে সমাধানের পর ফেরার পথে আওয়ামী লীগের দোষররা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ বিষয় ডেমরা থানার ওসি মোঃ মাহমুদুর রহমান বলেন, রাস্তা দখল কে কেন্দ্র করে সুযোগ সন্ধানী কিছু লোক স্থানীয় দুই যুবককে কুপিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নেওয়া হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার হয়েছে। দ্রুত বাকিদের গ্রেফতার করা হবে।



















