ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে ২২ কোটি টাকার জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মুহাম্মদ আলী (নিজস্ব প্রতিবেদক)
মুহাম্মদ আলী (নিজস্ব প্রতিবেদক)
  • আপলোড সময় : ০২:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০৬ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জের মধ্য সানারপাড় এলাকায় প্রায় ২২ কোটি টাকা মূল্যের ৭৫ শতাংশ জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্র শাহজাহানগংদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও জমিটি দখলে নিয়ে গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্স নামক বহুতল ভবন নির্মাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ওই চক্র।
এ ঘটনায় জমির মালিকরা চক্রটির বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর উল্টো জমির মালিকদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ করে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে চক্রটি।
সাংবাদিক সম্মেলনে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও রং দিয়ে তাদের লাগানো গোল্ডেন সিটি কমপেক্সের সাইনবোর্ডে নস্ট করার অভিযোগ উত্থাপন করেন। তবে তাদের এ অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম। এরআগে ওই চক্রটি প্রথমে সাংবাদিকদের কাছে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করলেও সংবাদ সম্মেলনে ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকররা চাঁদা দাবির বিষয়টি দু’রকম তথ্য কেনো হলো জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। সংবাদ সম্মেলনে বলেন এঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দুটি মামলা করায় প্রথমে দেড় কোটি পরে আরও দেড় কোটি মোট তিনি কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে ফোনে ও লোক মারফত এ চাঁদা দাবি করা হয়েছে বললেও তারা এ বিষয়ে কোন অডিও রেকর্ড বা প্রমানাধিও উপস্থাপন করতে পারেননি।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুটি মামলার কথা উল্লেখ করা হলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় খোঁজ নিলে জানা যায় কোনো মামলা হয়নি। তবে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তনাধীন।
জানা গেছে, ওয়ারিশ সূত্রে মধ্য সানারপাড় সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় ৭৫ শতাংশ জমির মালিক হন আতাউর রহমান সরকার ও মাইনুল ইসলামসহ ৩৪ জন। ক্রয় সূত্রে মালিক দাবি করে শাহজাহানগং এ জমিতে গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্স নামক বহুতল ভবন নির্মাণ করার চেষ্টা চালান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতাউর রহমান সরকার জানান, জাল দলিল তৈরি করে জমির মালিক দাবি করে দখল করার চেষ্টা করলে গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্স চক্রের এম এ বাশার মনির, রাজী, জোসনা, রোকসানা, মাহমুদা পারভীন, মাহমুদুল হাসান, লতিফা সুলতানা, লাকী ফারহানা ও ফজর আলীকে বিবাদী করে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ জেলা জজ প্রথম আদালতে দেওয়ানী মামলা করি। যার নং-২৮৮/২০২৫ ইং।
জাল দলিল বাতিলের মামলাটি নিস্পত্তি হওয়ার আগে জমিতে কোন প্রকার নির্মাণ কাজ করতে বাধা দিলে ভূমিদস্যুরা মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে।
ফলে চলতি মাসের গত ১৯ তারিখ আতাউর রহমান নিজে বাদী হয়ে শাহজাহান, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী, এম এ বাশার মনির, মাহমুদুল হাসান, ফজর আলী ভুইয়া, মান্নান ডাক্তার, হযরত আলী ও নৈশপ্রহরী বাচ্চুকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ম্যানেজ করে জমির মালিকদের লাগানো সাইনবোর্ড ভেঙে অভিযুক্তরা ১৮ অক্টোবর রাত ১২ টায় চোরেরমত তাদের গোল্ডেন সিটি কমপেক্সের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। ফলে আদালতে করা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ না করার জন্য থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ চান বাদী।
এদিকে জমির মালিকদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করার খবর পেয়ে গোল্ডেন সিটি কমপেক্সের পক্ষে শাহজাহান বাদী হয়ে আতাউর রহমানসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ২০ অক্টোবর পাল্টা অভিযোগ করে ২১ অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলন করেন। অভিযোগে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬ টায় জমিতে গিয়ে গোল্ডেন সিটির সাইনবোর্ড আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অন্যদিকে মিথ্যা অভিযোগ ও সাংবাদিক সম্মেলন করে জমির মালিকদের হয়রানী করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ জানান নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিমাইকাশারী এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের অন্যতম সহযোগী ডাক্তার আব্দুল মান্নান ওই গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্স চক্রের একজন।
স্থানীয়রা জানান, নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আ’লীগ দোসর সাত খুনের আসামি নুর হোসেনের ভাতিজা ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা শাহ জালাল বাদলের ভুমিদস্যু চক্রের নেপেথ্যের করাসাজিতেই আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, নালিশা এ ভুমি নিয়ে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতে আইনশৃংখলাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে বড় ধররেন নাশকতাসহ প্রানহানীর ঘটনাসহ এলাকার আইনশৃংখলার অবনতি ঘটতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিদ্ধিরগঞ্জে ২২ কোটি টাকার জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপলোড সময় : ০২:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জের মধ্য সানারপাড় এলাকায় প্রায় ২২ কোটি টাকা মূল্যের ৭৫ শতাংশ জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্র শাহজাহানগংদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও জমিটি দখলে নিয়ে গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্স নামক বহুতল ভবন নির্মাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ওই চক্র।
এ ঘটনায় জমির মালিকরা চক্রটির বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর উল্টো জমির মালিকদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ করে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে চক্রটি।
সাংবাদিক সম্মেলনে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও রং দিয়ে তাদের লাগানো গোল্ডেন সিটি কমপেক্সের সাইনবোর্ডে নস্ট করার অভিযোগ উত্থাপন করেন। তবে তাদের এ অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম। এরআগে ওই চক্রটি প্রথমে সাংবাদিকদের কাছে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করলেও সংবাদ সম্মেলনে ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকররা চাঁদা দাবির বিষয়টি দু’রকম তথ্য কেনো হলো জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। সংবাদ সম্মেলনে বলেন এঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দুটি মামলা করায় প্রথমে দেড় কোটি পরে আরও দেড় কোটি মোট তিনি কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে ফোনে ও লোক মারফত এ চাঁদা দাবি করা হয়েছে বললেও তারা এ বিষয়ে কোন অডিও রেকর্ড বা প্রমানাধিও উপস্থাপন করতে পারেননি।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুটি মামলার কথা উল্লেখ করা হলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় খোঁজ নিলে জানা যায় কোনো মামলা হয়নি। তবে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তনাধীন।
জানা গেছে, ওয়ারিশ সূত্রে মধ্য সানারপাড় সোনামিয়া মার্কেট এলাকায় ৭৫ শতাংশ জমির মালিক হন আতাউর রহমান সরকার ও মাইনুল ইসলামসহ ৩৪ জন। ক্রয় সূত্রে মালিক দাবি করে শাহজাহানগং এ জমিতে গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্স নামক বহুতল ভবন নির্মাণ করার চেষ্টা চালান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতাউর রহমান সরকার জানান, জাল দলিল তৈরি করে জমির মালিক দাবি করে দখল করার চেষ্টা করলে গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্স চক্রের এম এ বাশার মনির, রাজী, জোসনা, রোকসানা, মাহমুদা পারভীন, মাহমুদুল হাসান, লতিফা সুলতানা, লাকী ফারহানা ও ফজর আলীকে বিবাদী করে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ জেলা জজ প্রথম আদালতে দেওয়ানী মামলা করি। যার নং-২৮৮/২০২৫ ইং।
জাল দলিল বাতিলের মামলাটি নিস্পত্তি হওয়ার আগে জমিতে কোন প্রকার নির্মাণ কাজ করতে বাধা দিলে ভূমিদস্যুরা মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে।
ফলে চলতি মাসের গত ১৯ তারিখ আতাউর রহমান নিজে বাদী হয়ে শাহজাহান, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী, এম এ বাশার মনির, মাহমুদুল হাসান, ফজর আলী ভুইয়া, মান্নান ডাক্তার, হযরত আলী ও নৈশপ্রহরী বাচ্চুকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ম্যানেজ করে জমির মালিকদের লাগানো সাইনবোর্ড ভেঙে অভিযুক্তরা ১৮ অক্টোবর রাত ১২ টায় চোরেরমত তাদের গোল্ডেন সিটি কমপেক্সের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। ফলে আদালতে করা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ না করার জন্য থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ চান বাদী।
এদিকে জমির মালিকদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করার খবর পেয়ে গোল্ডেন সিটি কমপেক্সের পক্ষে শাহজাহান বাদী হয়ে আতাউর রহমানসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ২০ অক্টোবর পাল্টা অভিযোগ করে ২১ অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলন করেন। অভিযোগে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬ টায় জমিতে গিয়ে গোল্ডেন সিটির সাইনবোর্ড আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অন্যদিকে মিথ্যা অভিযোগ ও সাংবাদিক সম্মেলন করে জমির মালিকদের হয়রানী করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ জানান নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিমাইকাশারী এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের অন্যতম সহযোগী ডাক্তার আব্দুল মান্নান ওই গোল্ডেন সিটি কমপ্লেক্স চক্রের একজন।
স্থানীয়রা জানান, নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আ’লীগ দোসর সাত খুনের আসামি নুর হোসেনের ভাতিজা ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা শাহ জালাল বাদলের ভুমিদস্যু চক্রের নেপেথ্যের করাসাজিতেই আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, নালিশা এ ভুমি নিয়ে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতে আইনশৃংখলাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে বড় ধররেন নাশকতাসহ প্রানহানীর ঘটনাসহ এলাকার আইনশৃংখলার অবনতি ঘটতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন