ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতা নবী ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোড সময় : ০৫:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ২৮৫ বার পড়া হয়েছে

বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে যাত্রাবাড়ী থানায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

নিবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিল সুমু চৌধুরীর আদালত তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে নবীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আশরাফুল আলম। অন্যদিকে নবীর আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার এজহার নামীয় আসামি নবী উল্লাহ নবী ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে ধোলাইপাড়গামী রাস্তার সড়কে বিজিবি মার্কেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর অবস্থান করে বেআইনি জনতাবদ্ধে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ইট-পাটকেল, বাঁশ-লাঠি ও ককটেল নিয়ে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার সরকারবিরোধী উসকানিমূলক ও অবমাননাকর স্লোগান দিতে থাকেন এবং রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেন।

নবীসহ অপর আসামিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে পার্কিং করা গ্রেট তুরাগ ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির দুটি বাসে অগ্নিসংযোগসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তায় দাঙ্গাহাঙ্গামা শুরু করেন। অগ্নিসংযোগে দুটি বাসের ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। আসামি নবী উল্লাহ নবীর (৬১) নির্দেশ ও হুকুমে পলাতক নেতাকর্মীরাসহ অজ্ঞাতনামা বিএনপির দুষ্কৃতিকারীরা নাম না জানা অনেকের প্ররোচনা, নির্দেশনা, একে অপরের যোগসাজশে এবং সহযোগিতায় বেআইনি জনতাবদ্ধ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার সরকারবিরোধী উসকানিমূলক ও অবমাননাকর স্লোগান দিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কাজে বাধাসহ পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বোমা বিস্ফোরণ করেন।

এর প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনাকালে বিশ্বস্ত গুপ্তচরের দেওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে নবী উল্লাহ নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, আসামি নবী উল্লাহ নবী গোপীবাগ এলাকায় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও ইন্ধনদাতা। গোপীবাগ এলাকায় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সঠিক নাম ঠিকানা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, অর্থের জোগানদাতা ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করার জন্য আসামিকে সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় নবী উল্লাহ নবীকে। তখন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশীদ বলেন, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের পরিকল্পনা হিসেবে বিএনপির নেতারা ভিডিও কনফারেন্স করেন। কনফারেন্সে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়। আগুন দেওয়ার এই ঘটনায় বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী অর্থ সহায়তা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি নেতা নবী ৩ দিনের রিমান্ডে

আপলোড সময় : ০৫:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪

বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে যাত্রাবাড়ী থানায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

নিবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিল সুমু চৌধুরীর আদালত তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে নবীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আশরাফুল আলম। অন্যদিকে নবীর আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার এজহার নামীয় আসামি নবী উল্লাহ নবী ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে ধোলাইপাড়গামী রাস্তার সড়কে বিজিবি মার্কেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর অবস্থান করে বেআইনি জনতাবদ্ধে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ইট-পাটকেল, বাঁশ-লাঠি ও ককটেল নিয়ে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার সরকারবিরোধী উসকানিমূলক ও অবমাননাকর স্লোগান দিতে থাকেন এবং রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেন।

নবীসহ অপর আসামিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে পার্কিং করা গ্রেট তুরাগ ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির দুটি বাসে অগ্নিসংযোগসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তায় দাঙ্গাহাঙ্গামা শুরু করেন। অগ্নিসংযোগে দুটি বাসের ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। আসামি নবী উল্লাহ নবীর (৬১) নির্দেশ ও হুকুমে পলাতক নেতাকর্মীরাসহ অজ্ঞাতনামা বিএনপির দুষ্কৃতিকারীরা নাম না জানা অনেকের প্ররোচনা, নির্দেশনা, একে অপরের যোগসাজশে এবং সহযোগিতায় বেআইনি জনতাবদ্ধ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার সরকারবিরোধী উসকানিমূলক ও অবমাননাকর স্লোগান দিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কাজে বাধাসহ পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বোমা বিস্ফোরণ করেন।

এর প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনাকালে বিশ্বস্ত গুপ্তচরের দেওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে নবী উল্লাহ নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, আসামি নবী উল্লাহ নবী গোপীবাগ এলাকায় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও ইন্ধনদাতা। গোপীবাগ এলাকায় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সঠিক নাম ঠিকানা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, অর্থের জোগানদাতা ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করার জন্য আসামিকে সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় নবী উল্লাহ নবীকে। তখন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশীদ বলেন, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনের পরিকল্পনা হিসেবে বিএনপির নেতারা ভিডিও কনফারেন্স করেন। কনফারেন্সে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়। আগুন দেওয়ার এই ঘটনায় বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী অর্থ সহায়তা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন