খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক নির্মাণে বন বিভাগের আপত্তি, স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে
- আপলোড সময় : ০৬:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / ২০১ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী থেকে রামুর ঈদগড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বন বিভাগের আপত্তির কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে চকরিয়া, রামু, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামাসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের যোগাযোগ দুর্ভোগ বাড়ছে। প্রকল্পের দুটি প্যাকেজে ইতোমধ্যে ১৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে, তবে বন বিভাগের আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, জাইকার অর্থায়নে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খুটাখালী থেকে ঈদগড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে খুটাখালী বাজার থেকে মধুশিয়া ও ঈদগড় থেকে কালাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু মধুশিয়া বনের মধ্য দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার অংশের কাজ বন বিভাগের আপত্তির কারণে থমকে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন বিভাগের দাবি অনুযায়ী পাঁচ কিলোমিটার অংশে ঘন গর্জন বন রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ৫০০ থেকে ৭০০ মিটার এলাকায় গাছপালা আছে। বাকি অংশে পুরোনো সড়ক, খোলা জায়গা ও কৃষিজমি রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী লিটন বলেন, “এটি ব্রিটিশ আমলের রাস্তা। এখানে আগে থেকেই একটি সেতু ও তিনটি কালভার্ট রয়েছে। বন বিভাগের দাবি সঠিক নয়।”
স্থানীয় কৃষক কামাল উদ্দিন জানান, সড়ক না থাকায় ১৫ কানি জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। সড়ক নির্মিত হলে উৎপাদন বাড়বে এবং ডাকাতি ও অপহরণের ঝুঁকি কমবে। এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বন বিভাগের আপত্তি তোলা অংশে নির্মাণকাজ এখনও শুরু হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, সড়কটি নির্মিত হলে কক্সবাজার ও বান্দরবানের পাঁচ উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অবস্থাও সংকটাপন্ন।

























