ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে ৭২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, শিক্ষার মানে প্রভাব পড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপলোড সময় : ০৩:১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২০৬ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার একশো নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও মানসম্মত শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা অনুযায়ী ৩৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। অন্যদিকে, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া, বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ১০৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতে কোনো নৈশপ্রহরী বা দপ্তরি নেই, ফলে বিদ্যালয়গুলো রাতে অরক্ষিত থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে।

ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দুজন কর্মরত আছেন। একটি পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এস কে মোহাম্মদ আলী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করা শিক্ষকদের পদোন্নতি না দেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। তারা আইনি জটিলতার কারণে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহসিন আলী বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় দীর্ঘদিন তাদের পদোন্নতি আটকে আছে। তবে শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফুলবাড়ীতে ৭২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, শিক্ষার মানে প্রভাব পড়ছে

আপলোড সময় : ০৩:১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার একশো নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও মানসম্মত শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা অনুযায়ী ৩৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। অন্যদিকে, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া, বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ১০৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতে কোনো নৈশপ্রহরী বা দপ্তরি নেই, ফলে বিদ্যালয়গুলো রাতে অরক্ষিত থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে।

ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দুজন কর্মরত আছেন। একটি পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এস কে মোহাম্মদ আলী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করা শিক্ষকদের পদোন্নতি না দেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। তারা আইনি জটিলতার কারণে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহসিন আলী বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় দীর্ঘদিন তাদের পদোন্নতি আটকে আছে। তবে শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন