বর্ষার নতুন পানিতে কুষ্টিয়ার নৌকা সংস্কারে ব্যস্ত মাঝি-কারিগর
- আপলোড সময় : ০৯:২৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / ২০১ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মায় বর্ষার নতুন পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে, যা নদীকেন্দ্রিক জনপদে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে। আবেদের ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে চলছে নৌকা সংস্কারের কাজ। বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌকা। তাই পানির স্তর বাড়ার আগেই মাঝি, জেলে ও কারিগররা পুরোনো নৌকা সংস্কার, আলকাতরা লাগানো ও রং করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা হারানো পদ্মার বুকে প্রায় আট মাস ধরে অলস পড়ে ছিল এসব নৌকা। আবেদের ঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, নৌকাগুলোতে মেরামতের কাজ চলছে। পচে যাওয়া কাঠ বদলে নতুন পাটাতন বসানো হচ্ছে এবং নৌকার তলা মজবুত করতে আলকাতরা ও নতুন রঙের প্রলেপ লাগানো হচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা নিরলস পরিশ্রম করছেন।
রাজশাহী থেকে আসা নৌকা মেরামতের কারিগর মাহাবুল জানান, “প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে আমরা দৌলতপুরে এসে নৌকা মেরামতের কাজ করি। এ মৌসুমে ইতোমধ্যে ১০টি নৌকা মেরামত করেছি, আরও প্রায় ১০টির কাজ বাকি রয়েছে।” অপর কারিগর ফজলু বলেন, “দীর্ঘদিন চরে পড়ে থাকায় অনেক নৌকার কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো পুনর্নির্মাণ করেই আমাদের সংসার চলে।”
নৌকার মালিক রাজন বলেন, “নদীতে পর্যাপ্ত পানি হলে যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন শুরু হবে। আমরা বছরে মাত্র ৪ মাস নৌকা চালাতে পারি। বাকি সময় নাব্যতা সংকটের কারণে চর জেগে থাকে।” অপর মালিক হোসেন মেম্বার বলেন, “বর্ষায় এই নৌকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। তবে বছর শেষে যা আয় হয়, তার বড় অংশই আবার নৌকা মেরামতে চলে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দৌলতপুর উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বর্ষাকালের একমাত্র ভরসা এই নৌপথ। পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি আসার ফলে মাঝিদের চোখে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। নৌ চলাচল স্বাভাবিক হলে চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার চাকা সচল হবে।

























